আজ বুদ্ধ পূর্ণিমা । হিন্দুধর্ম এবং বৌদ্ধধর্ম সংস্কৃতিতে এই দিনটি কেন গুরুত্বপূর্ণ ? - Newsbazar24
ধর্ম কথা

আজ বুদ্ধ পূর্ণিমা । হিন্দুধর্ম এবং বৌদ্ধধর্ম সংস্কৃতিতে এই দিনটি কেন গুরুত্বপূর্ণ ?

আজ বুদ্ধ পূর্ণিমা । হিন্দুধর্ম এবং বৌদ্ধধর্ম সংস্কৃতিতে এই দিনটি কেন  গুরুত্বপূর্ণ ?

News bazar24

বুদ্ধ পূর্ণিমা বলতে এককথায়  ভগবান বুদ্ধের জন্মবার্ষিকী  উদযাপন তিথি। এই তিথি      উপলক্ষ্যে পালন করা হয় বুদ্ধ পূর্ণিমা দিনটি।  বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বার্ষিক উৎসব এটি হিন্দু বর্ষপঞ্জী অনুসারে প্রতিবছর বৈশাখ মাসের পূর্ণিমার দিন উদযাপিত হয় বুদ্ধ পূর্ণিমা এই বছর বুদ্ধ পূর্ণিমা  আজ মে বৃহস্পতিবার গোটা দেশে উদযাপিত  হচ্ছে  ভগবান বুদ্ধই বৌদ্ধ ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাঁকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার বলেও মনে করা হয়

আসুন এই উৎসব সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক -

ভগবান বুদ্ধ বা গৌতম বুদ্ধ নেপালের বাসিন্দা ছিলেন নেপালের লুম্বিনী-তে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তাঁর পিতার নাম রাজা শুদ্ধোধন এবং মাতা ছিলেন মায়াদেবী জন্মের পর তাঁর নাম রাখা হয়েছিলো সিদ্ধার্থ গৌতম তাঁর জন্মের পরে একজন সাধু তাঁকে দেখে ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, এই শিশু পরবর্তীকালে একজন রাজচক্রবর্তী অথবা একজন সিদ্ধ সাধক হবেন

বৌদ্ধ পুঁথিগুলি অনুসারে, পিতা শুদ্ধোধন তার জীবনে বিলাসিতার সমস্ত রকম ব্যবস্থা করা সত্ত্বেও সিদ্ধার্থ বস্তুগত ঐশ্বর্য্য যে জীবনের লক্ষ্য হতে পারে না, তা উপলব্ধি করা শুরু করেন খালি এই নয় উনত্রিশ বছর বয়সে রাজকুমার সিদ্ধার্থ প্রাসাদ থেকে  ভ্রমণে বেরোলে তিনি একজন বৃদ্ধ মানুষ, একজন অসুস্থ মানুষ, একজন মৃত মানুষ একজন সন্ন্যাসীকে দেখতে পান আর এই দৃশ্য বেশ কয়েকবার তাঁর জীবনে ঘটে এই থেকেই তাঁর মনের পরিবর্তন হয়। এই দৃশ্যগুলি দেখে সিদ্ধার্থ তাঁর রাজজীবন ত্যাগ করে একজন সন্ন্যাসীর জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত নেন সিদ্ধার্থ একদিন রাত্রে তাঁর পরিবারকে নিঃশব্দ বিদায় জানিয়ে রাজ প্রাসাদ ত্যাগ করেন এরপর তিনি আধ্যাত্মিকতার পথে হাঁটেন এবং শীঘ্রই তিনি বিহারের বুদ্ধগয়াতে বোধি গাছের নীচে  তপস্যা করে সত্য জ্ঞান অর্জন করেন

কিভাবে  পালন করা হয় বুদ্ধ পূর্ণিমা , কি আছে আচার অনুষ্ঠান ?

) ভগবান বুদ্ধের ভক্তরা এদিন ভোরে উঠে পবিত্র স্নান সেরে তাঁর জন্মবার্ষিকী পালন শুরু করেন

) এদিন ঘর পরিষ্কার করা হয় এবং চারিদিকে গঙ্গা নদীর পবিত্র জল ছেটানো হয় ফুল এবং পাতা দিয়ে বাড়ি সাজানো হয়

) বাড়ির প্রবেশপথে হলুদ, রোলি এবং গঙ্গাজল দিয়ে স্বস্তিক চিণ্হ আঁকা হয়, যা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি পবিত্র চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত

) বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয় এবং বৌদ্ধধর্ম অনুসরণকারীরা এই দিনে বুদ্ধগয়া-তে যান

) বোধি গাছের উপাসনা করা হয়

) রঙিন পুষ্পমালা গাছে বাঁধা হয় এবং ভক্তরা গাছের গোড়ায় দুধ জল ঢালেন

 তাৎপর্য ) ভক্তরা বিশ্বাস করেন যে বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন ভোরবেলা স্নান করলে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ) এই দিনটিতে অনেকেই দান-ধ্যান করেন, যারা দরিদ্র তাদের খাওয়ান

 

NewsDesk - 2

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news