সরস্বতী পুজার ফর্দ ! কি কি কিনবেন ? পুরোহিত ছাড়াই পুজা করবেন কি ভাবে ? - Newsbazar24
ধর্ম কথা

সরস্বতী পুজার ফর্দ ! কি কি কিনবেন ? পুরোহিত ছাড়াই পুজা করবেন কি ভাবে ?

সরস্বতী পুজার ফর্দ ! কি কি কিনবেন ? পুরোহিত ছাড়াই পুজা করবেন কি ভাবে ?

সরস্বতী পূজার উপকরণ / ফর্দ

======================

সিদ্ধি, সিন্দূর, পুরোহিতবরণ , দিল, হরিতকী, পঞ্চগুঁড়ি, পঞ্চশস্য, পঞ্চরত্ন, পঞ্চপল্লব , ঘট , ঘটাচ্ছাদন গামছা , , নৈবেদ্য , কুচা নৈবেদ্য , সরস্বতীর শাটী , লক্ষীর শাটী , চন্দ্রমালা , বিল্বপত্রমাল্য , থালা , ঘটি , শঙ্খ , লৌহ , নথ , রচনা, আমের মুকুল, যবের শীষ, কুল, আবির, অভ্র, মস্যাধার(দোয়াত) লেখনী, ভোগের দ্রব্যাদি, পান, , কর্পূর, পূর্ণপাত্র , দক্ষিণা। এর সাথে প্রয়োজন-

বুঁদি বাঁধা মূর্তি তে পুজা করলে -

শাড়ি , কুন্ডহাঁড়ি , তেকাঠা , দর্পণ , তীরকাঠি , বরণডালা, সশীষ ডাব , একসরা আতপচাউল, পুষ্পাবি, আসনাঙ্গুরীয়ক , মধুপর্কের বাটী , বালি, কাষ্ঠ, খোড়কে, গব্যঘৃত , হোমের বিল্বপত্র ২৮,

হাতেখড়ির ফর্দ

===========================

বিষ্নুপূজার ধুতি , লক্ষী সরস্বতী পূজার শাটি , বালকের পরিধেয় বস্ত্র , মধুপর্কের কাংস্য বাটী , আসন , রূপার অঙ্গুরীয়ক , দধি, মধু, তিল, হরিতকী, ফল-মুলাদি, সিন্দুর, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য , কুচা নৈবেদ্য , ফল, স্লেট, রাম খড়ি , বর্ণমালা পুস্তক খনি, তুলসী, বিল্বপত্র, দূর্ব্বা পুষ্পাদি, দক্ষিণা। সরস্বতী পূজার দ্রব্য।

  ।। বসন্ত পঞ্চমী বা বাগদেবীর পুজা করতে প্রয়োজন নিষ্ঠা ও ভক্তি …

বাসুদেব চক্রবর্তী, পুরোহিত, দিল্লি কালীবাড়ি (news bazar24

মা -সরস্বতী বিদ্যা বুদ্ধি সংস্কৃতির দেবী  প্রতিবছর মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথিতে বা বসন্ত পঞ্চমীর দিন দেবী সরস্বতীর পুজো করা হয়। হিন্দি ভাষী অঞ্চলে এই দিনটিকে বসন্ত পঞ্চমী বলা হয় এই দিন আমাদের বাঙালিদের প্রেম নিবেদনের দিন বলে ধরা হয় মেয়েরা প্রথম শারী এই দিনটিতেই পরে  এই পুজোতে শিক্ষার্থীরা তাদের বই, খাতা, পেন, পেন্সিল, এমন কি গান আঁকার সাধনও দেবীর চরণে উৎসর্গ করে থাকে আশীর্বাদের জন্য।

এই বছর ১৬ ফেব্রুয়ারী  সরস্বতী পুজোর তিথি।

আপনি নিজেই বাড়িতে দেবী সরস্বতীর আরাধনা করবেন বলে  মনস্থির করে থাকেন বা পুরোহিত দিয়ে পুজা করাবেন বলে ঠিক করে থাকেন , তবে এই প্রতিবেদনটি ভালো করে পড়ুন  ।কারণ অনেক সময়ই পুজোর সঠিক নিয়ম-কানুন না জানার জন্য মনের ইচ্ছে থাকলেও পুজো করে আপনি মানসিক শান্তি পান না  তাই আজকে আমি আপনাদের জানাবো সরস্বতী পুজোর বিস্তারিত নিয়ম-  

  পুজোর উপাদান যা আপনাকে কিনতে বা জোগাড় রাখতে হবে -

একটি সরস্বতী দেবীর মূর্তি বা ফটো, সাদা কাপড়, ফুল(পলাশ ফুল), আম্রপত্র, বেলপাতা, কাঁচা হলুদ,  সিঁদুর, চাল, ধান, দূর্বা, ফল পাঁচ ধরনের(কলা এবং নারকেল আবশ্যক), কলস, সুপুরি, পানপাতা, ধুপকাঠি, প্রদীপ, দুধ, খাগের কলম এবং দোয়াত। বই এবং হারমোনিয়াম বা অন্য বাদ্যযন্ত্র যদি বাড়িতে থাকে তাও সামনে রাখুন।

 

পুজার দিন সকালের নিয়ম -

সরস্বতী পুজোর দিন সকালে উঠে  হলুদ মেখে স্নান করার নিয়ম। হলুদ না মাখতে চাইলে একটু গায়ে ঠেকাতে হবে  স্নানের জলে নিমপাতা তুলসী পাতা , দূর্বা দেওয়ারবিঁধান আছে। এতে জলের শুদ্ধিকরণ ঘটে। এছাড়া স্নান করার আগে মুখে এবং গায়ে নিম কাঁচা হলুদ বাটা মাখতে হয়। এতে আমাদের দেহের শুদ্ধিকরণ ঘটে এবং শরীরের কোনো রকম ইনফেকশন থেকেও এই মিশ্রণ রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। স্নান করার পর যে পুজো করবে তাকে সাদা বা হলুদ বস্ত্র পরিধান করতে হয়।তবে সাদা বস্ত্র পড়লে মা খুশী হন

মূর্তি এবং কলস কি ভাবে স্থাপন করবেন ?

প্রথমে পুজোর জায়গাটি ভালো করে পরিষ্কার করে মুছে নিয়ে পিড়ি, টুল, ইট দিয়ে বেদীর মত করে নিতে হবে সাদা কাপড় পেতে দিতে হবে তার ওপর। এবার দেবী সরস্বতীর মূর্তি বা ফটো  এর ওপর বসাতে হবে

 দেবী মূর্তিকে সাদা বা হলুদ ফুলের মালা পরিয়ে সুসজ্জিত করে  তুলতে হবে এবং পুজোর স্থানে আলপনা দি

তে হবে।

বই, খাতা, পেন, পেন্সিল এবং হারমোনিয়াম ঠাকুরের মূর্তিটির পাশে রাখতে হবে, এবং সেখানেও ফুল দিয়ে সাজিয়ে দিতে হবে।

 কালির দোয়াতগুলি দুধ দ্বারা পূর্ণ করতে হবে এবং তাতে খাগের কলমগুলি রাখতে হবে। এই কালির দোয়াতগুলি ঠাকুরের মূর্তির সামনেই রাখতে হবে।

এবার কলস বা ঘট জল পূর্ণ করে তাতে প্রথমে আমের পল্লব রাখতে হবে।তার ওপর পূর্ণ ফল ( ডাব , কলা,নারকেল )  রেখে একটি পান সুপুরি রাখতে হবে।এর ওপর ফুল দূর্বা রাখতে হবে।

দেবী মূর্তির পাশে একটি গণেশ ঠাকুরের মূর্তি রাখতে পারেন। এতে মা সরস্বতী খুব খুশী হন

. পূজারম্ভ কি ভাবে করবেন ?

প্রথমে ফুল বেলপাতা নিয়ে গণেশ ঠাকুরের চরণে তা অর্পণ করে পূজারম্ভ করতে হবে। তারপর একই ভাবে ফুল বেলপাতা একে একে বাগদেবীর চরণে অর্পণ করে পুজো আরম্ভ করতে হবে।এর সাথে দেবীকে আরাধনার মন্ত্র উচ্চারণ করতে হবে। এই মন্ত্রগুলির জন্য নির্দিষ্ট বই আছে যেখানে পুজোর সমস্ত নিয়ম আপনি জানতে পারবেন। এর পর ধুপ দীপ জেলে ফল, মিষ্টি নৈবিদ্য অর্পণ করে এবং সব শেষে পুষ্পাঞ্জলি দিতে হবে।

সরস্বতী ধ্যানমন্ত্র :

ওঁ তরুণ-শকলমিন্দোর্বিভ্রতী শুভ্রকান্তিঃ   

কুচভরণমিতা

ঙ্গী সন্নিষণা সিতাজে।

 

নিজকর কমলোদ্যল্লেখনী পুস্তকশ্রীঃ

সকল বিভবসিদ্ধ্যৈ পাতু বাগ্দেবতা নমঃ॥

মন্ত্র : ওঁ সরস্বতৈ নমঃ।

সরস্বতী পুষ্পাঞ্জ

লি মন্ত্র :

ওঁ সরস্বতৈ নমো নিত্যং ভদ্রকাল্লৈ নমো নমঃ।

বেদ- বেদাঙ্গ বেদান্তÍ বিদ্যাস্থানেভ্য এব স্বাহা

এষ চন্দন পুষ্প বিল্বপত্রাঞ্জলিঃ ওঁ সরস্বতৈ নমঃ

পুষ্পাঞ্জলির যে মন্ত্র উচ্চারণ করতে হয় তা হলো 

জয় জয় দেবী চরাচর সারে,কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
বীণারঞ্জিত পুস্তক হস্তে,ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে।।

পুজো শেষ করে তবেই কিন্তু জল এবং খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। আর ঐদিন কিন্তু পড়াশোনা একদম বন্ধ। আর প্রসাদ হিসেবে ওই দিনের খাবার কিন্তু ফল, খই, মুড়কি, মিষ্টি, খিচুড়ি,

পুজোর বাকি মন্ত্রের জন্য কিন্তু প্রয়োজন হবে পুজোর পাঁচালি, যা আপনি সহজেই পেয়ে যাবেন।

দ্বিতীয় দিনের পুষ্পাঞ্জলি দধিকর্মা

পুজোর পরের দিন সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে পুজোয় ব্যবহৃত বেলপাতায় খাগের কলমগুলি দুধে চুবিয়েওম সরস্ব্ত্যই নমঃলিখতে হবে তিনবার। তারপর ফুল বেলপাতা সমেত পুষ্পাঞ্জলি দিতে হবে। এর পর ঠাকুরের নৈবিদ্যের খই,দই এবং মিষ্টি দ্বারা গোল মন্ডের মত আকারের প্রস্তুত করতে হবে একটি প্রসাদ যা অত্যন্ত উপাদেয় এবং এই প্রসাদ খাওয়ার জন্য কিন্তু বাড়ির ছোট বড় সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। একে দধিকর্মা বলা হয়। এরপর বই খাতাগুলি সরিয়ে নেওয়া যায়। পুজোর ফুল বেলপাতা সাধারণত আমরা বইয়ের পাতায় রেখে থাকি আশীর্বাদ স্বরূপ।

 

 

 

 

NewsDesk - 2

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news