শহর ছেড়ে দূরে "শান্তির নীড় ঘাটশিলায়"----নির্মাল্য বিশ্বাস - Newsbazar24
ভ্রমণ

শহর ছেড়ে দূরে "শান্তির নীড় ঘাটশিলায়"----নির্মাল্য বিশ্বাস

শহর ছেড়ে দূরে "শান্তির নীড় ঘাটশিলায়"----নির্মাল্য বিশ্বাস

শহর ছেড়ে দূরে "শান্তির নীড় ঘাটশিলায়"

---নির্মাল্য বিশ্বাস

 শহরের একঘেয়ে জীবনকে ছুটি দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুরে আসতে পারেন ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় ঘাটশিলায়

বারবিল জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের টিকিট কাটলাম হাওড়া থেকে ট্রেন ছাড়ল ভোর ছটা কুড়িতে আর ঘাটশিলা পৌঁছাল নটা কুড়ি মিনিটে স্টেশনের একদম কাছেই হোটেল ঠিক করলাম, নাম স্নেহলতা ভাড়া অন্যান্য হোটেলের থেকে বেশ কমই আটশো টাকা তিনতলায় বারান্দার ধারে ঘর নিলাম বারান্দায় চেয়ার পেতে বসলেই দেখা যায় স্টেশন চত্বরে অবিশ্রান্ত ট্রেনের আনাগোনা

স্নান সেরে হোটেলের নিজস্ব গাড়ি নিয়ে বেরোলাম সাত ঘন্টার ভাড়া 2000 হোটেল থেকে বেরিয়ে প্রথমেই গেলাম রামকৃষ্ণ মঠ শান্ত  পরিবেশে সবুজ মাঠের ওপর থোকা থোকা রঙীন ফুল মঠটির স্নিগ্ধতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে মঠ থেকে কিছুদূর এগোতেই পৌঁছালাম পরম আরাধ্য সাহিত্যিক বিভূতিভূষণের বাড়ি গেট পেরিয়ে ভিতরে ঢুকেই তুলসিমঞ্চ, ছোট্ট সবুজ মাঠ, ধারে বেঞ্চপাতা আর একটা আম গাছ বাড়ির ভিতরে দেখলাম বিভূতিভূষণের কিছু চিঠি, পথের পাঁচালির পাণ্ডুলিপি এবং ব্যবহৃত জামা-কাপড় ওখান থেকে কিছুদূর এগোতেই দেখলাম সুবর্ণরেখা নদী সেখানেই নামছে একটা ঝর্নার জলধারা, নাম রাতমোহনা সূর্যাস্তের আলোয় জায়গাটা অপার্থিব সৌন্দর্যে ভরে ওঠে সেখান থেকে গেলাম রঙ্কিনী দেবীর মন্দির শুনেছি এই দেবী খুব জাগ্রত এখানে পুজো দিলে মনস্কামনা পূরণ হয় মন্দির দর্শন সেরে দেখলাম গালুডি ড্যাম গালুডি রেল স্টেশন পেরিয়ে গেলাম ফুলডুঙরি খাড়াই পাহাড়ি রাস্তার ওপর গাছগাছালি ঘেরা একটা সুন্দর জায়গা শুকনো পাতা যেন হলুদ কার্পেট বিছিয়ে রেখেছে বিভূতিভুষণ এই ফুলডুঙরিতে বসেই লেখালিখি করতেন

 লাঞ্চ সেরে নামলাম বুরুডি লেকে ওপরে নীল আকাশসবুজ পাহাড় ঘেরা বিস্তীর্ণ জলরাশি প্রকৃতি তার অপরূপ সৌন্দর্যের ডালি উপুড় করে দিয়েছে যেন দেখলাম লেকের ধারে প্যাডেল বোটও রয়েছে এত সুন্দর একটা জায়গায় এসে যদি বোটিং না করি তাহলে প্রকৃতির অর্ধেক সৌন্দর্য অবগাহন করতেই পারব না গিন্নির ওঠার একদমই ইচ্ছা ছিল না আমি জোর করলাম বলেই উঠল বারো ফুট গভীর লেকের  জলে বোটিং করাটা সত্যিই হাড় হিম করা এক অভিজ্ঞতা

বুরুডি লেক থেকে গেলাম ধারাগিরি ফলস গাড়ি থেকে নেমে পাহাড়ী রাস্তায় মিনিট পনেরোর হাঁটা পথ একাও যাওয়া যায় তবে আমরা সঙ্গে গাইড নিলাম নাহলে পাহাড়ী আঁকা বাঁকা রাস্তায় পথ চেনাটা সত্যিই কঠিন হত রাস্তাটা সত্যিই দুর্গম সরু একফালি ঝর্ণা নামছে পাহাড়ের ওপর থেকে

পাহাড়ি রাস্তা পেরিয়ে আমাদের গাড়ি থামল এবার এক শিব মন্দিরের সামনে এটাই আমাদের শেষ দ্রষ্টব্য এদিকে তখন সন্ধ্যা নেমেছে পাহাড়ের বুকে এখানেও আমাদের সঙ্গে একটা গাইড ছিল পাহাড়ের উপর সে পথ চিনিয়ে নিয়ে গেল, আবার নিচে আমাদের গাড়ি অবধি ছেড়ে দিয়ে গেল তবে এই গাইড কোন মানুষ নয়, একটা কুকুর এমন উপকারী প্রাণী আর কেউ আছে কী?

 

কয়েকটি প্রয়োজনীয় তথ্য :-

 1) ঘাটশিলা যাবার সবথেকে ভালো ট্রেন বারবিল হাওড়া জনশতাব্দী এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে ছাড়ে সকাল ছটা কুড়ি একান্ত ওটা ধরতে না পারলে আটটা কুড়ির দুরন্ত এক্সপ্রেস ধরা যেতে পারে কিন্তু তাতে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়ে যাবে মাঝে সকাল সাতটায় ইস্পাত থাকলেও সেটায় না যাওয়াই ভালো অনেক লেট করে পৌঁছাতে

2) শুধুমাত্র ঘাটশিলা ঘুরে সেদিনেও ফেরা যায় জনশতাব্দীতেই ঘাটশিলায় ট্রেন আসে বিকাল সাড়ে পাঁচটায় আর পরদিন জামশেদপুর দেখে টাটানগর থেকে উঠলে ওই একই ট্রেনে ফেরা যায় টাটানগরে ট্রেন আসে বিকাল পৌনে পাঁচটায়

3) ঘাটশিলায় স্নেহলতা কম খরচে ভালো হোটেল যোগাযোগ এর নম্বর বাপিদা 9234223972

4) ঘাটশিলায় লোকাল সাইট সিন করতে হলে বাপিদাকে বললেই হবে হোটেলের নিজস্ব গাড়ি আছে

5) গাড়ি ছাড়া অটো করেও ঘুরতে পারেন তাতে দুশো টাকার মত খরচ কম পড়বে তবে পাহাড়ী রাস্তায় গাড়িতে যাওয়া অনেক বেশী আরামদায়ক

6) ঘাটশিলায় ভালো রেস্টুরেন্ট ইন্ডিয়ান কম খরচে ভালো খাবার স্নেহলতার পাশেই

7) ঘাটশিলায় মশার খুব উপদ্রপ তাই মশকিউটো কয়েল নিয়ে আসা জরুরী

8)টাটানগরে গেলে অবশ্যই মিলানিস কিচেনের বাঙালী খাবার খেতে ভুলবেন না স্বাদ জিভে লেগে থাকবে

 

 

NewsDesk - 2

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news