মালদা

মুখ্যমন্ত্রী ফিরে যাওয়ার পরেই আবারও ইংরেজবাজার পৌরসভায় শাসক দলের দুই গোষ্টীর দন্দ্ব প্রকাশ্যে।

মুখ্যমন্ত্রী ফিরে যাওয়ার পরেই আবারও ইংরেজবাজার পৌরসভায় শাসক দলের দুই গোষ্টীর দন্দ্ব  প্রকাশ্যে।

মালদা, ২২শে নভেম্বরঃ ইংরেজবাজার পৌরসভার জঞ্জাল নিয়ে আবার শাসক দলের দুই গোষ্টীর দন্দ্ব প্রকাশ্যে। একদিকে রয়েছেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ন বাবু ও তার অনুগামী কাউন্সিলার প্রসেনজিৎ দাস অপরদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান নীহার রঞ্জন ঘোষ। বারবার জানানো সত্ত্বেও পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের নোংরা আবর্জনা ঠিকমত পরিষ্কার করা হচ্ছে না এই অভিযোগ পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরী। তাই এবার ১২নং ওয়ার্ডের নোংরা আবর্জনা এনে ফেলা হলো পৌরসভার ভিতরে । শুক্রবার সকালে অফিস কর্মীরা ভিতরে ঢুকতেই চক্ষু চড়ক গাছ হয় তাদের। তারা দেখতে পান পুরসভার ঢোকার গেটে আবর্জনা পড়ে রয়েছে। এই ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে শুক্রবার সকালে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তড়িঘড়ি গেটের সামনে থেকে সেই আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। তবে এই বিষয়ে কিছু বলতে চাননি উপস্থিত অফিস কর্মীরা। এই বিষয়ে ইংরেজবাজার পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা কাউন্সিলর কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী অভিযোগ করেন, শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব ইংরেজবাজার পৌরসভার। পৌরসভার 12 নম্বর ওয়ার্ডের নোংরা আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য বারবার পুরসভাকে জানানো হচ্ছে। কিন্তু তারা ফোন ধরছেন না। নোংরা আবর্জনা পরিষ্কার করার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করছে না। তাই আজকে ওই এলাকার মানুষজন নোংরা আবর্জনা পৌরসভার ভেতরে গিয়ে ফেলে আসে। এ বিষয়ে ইংরেজবাজার পৌরসভার 12 নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ দাস জানান, এলাকার লোক ঠিকঠাক পরিষেবা পাচ্ছিনা। এলাকার নোংরা আবর্জনা ঠিকঠাক পরিষ্কার করা হচ্ছে না। এলাকায় বাড়ছে মশার উপদ্রব। তাই আজ এই ওয়ার্ডের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে পৌরসভার ভেতরে গিয়ে নোংরা আবর্জনা ফেলে আসেন। এই বিষয়ে ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান নীহার রঞ্জন ঘোষ জানান, যখন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে চেয়ারম্যান করেছেন তখন থেকেই কিছু লোক তাকে কালিমালিপ্ত করার জন্য চক্রান্ত করছে। পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঠিকঠাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। কিছু লোক চক্রান্ত করে এই ঘটনা ঘটাচ্ছে। এর তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানান চেয়ারম্যান। তিনি বলেন আমি জানিনা ১২নং ওয়ার্ডের লোকজন কেন এমন করল।তাদের অভিযোগ যদি থাকে তাহলে আমাকে ফোন করতে পারত। এ ছাড়াও ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ত আছে। এই ঘটনা খুব দুঃখজনক ঘটনা। এভাবে কোন সমস্যার সমাধান হয় না। কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর অভিযোগ ছিল ইট মারলে পাটকেল খেতে হবে এ ছাড়াও তিনি এই ব্যাপারে বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই ব্যাপারে চেয়ারম্যান বলেন তিনি তো বড় আন্দোলনের নেতা। ১২নং ওয়ার্ডে থেকে বেশি ৪০ জন শ্রমিক রয়েছে ওয়ার্ড পরিষ্কার করার জন্য। পৌরসভার ২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১২নং ওয়ার্ড ও কৃষেন্দুবাবুর ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক আছেন। আমার তা সত্বেও তাদের ওয়ার্ডে পরিষ্কার কেন হচ্ছে না এর জবাব কে দেবে? এখানে তো ওয়ার্ড পরিষ্কার রাখার নৈতিক দ্বায়িত্ব কাউন্সিলাররের। এছাড়াও আমি যেদিন থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি সেদিন থেকে আমাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন কৃষ্ণেন্দু বাবু। এভাবে করে তিনি ইচ্ছাকৃত ভাবে আমাকে হেনস্তা করার চেষ্টা করছেন। যে ৪০ জন শ্রমিক থাকা সত্বেও পরিষ্কার যখন হচ্ছেনা তখন কি আমরা ধরে নেব তাহলে তারা কারও বাড়ির কাজ করছেন এবং পৌরসভার থেকে বেতল নিচ্ছেন। (ভিডিও তে নীহার রঞ্জন ঘোষ , কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী ও প্রসেনজিৎ দাসের বক্তব্য শুনুন)

NewsDesk - 3

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news