মালদাতে এনআরসি-র আতঙ্কে আধার কার্ড করা ও সংশোধনের জন্য ব্যাপক ভীড়। - Newsbazar24
মালদা

মালদাতে এনআরসি-র আতঙ্কে আধার কার্ড করা ও সংশোধনের জন্য ব্যাপক ভীড়।

মালদাতে এনআরসি-র আতঙ্কে আধার কার্ড করা ও সংশোধনের জন্য ব্যাপক ভীড়।

সুমিত ঘোষ, মালদা, ২১শে সেপ্টেম্বর : এনআরসি আতঙ্কে ভুগছে গোটা রাজ্য৷ কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ মেনে রাজ্য জুড়েই এখন আধার কার্ড সংশোধন করতে ভিড় উপচে পড়েছে৷ একই ছবি মালদা জেলা জুড়েও৷ আধার কার্ড সংশোধন করতে প্রতিদিন বিভিন্ন ব্যাংক ও পোস্ট অফিসে ভিড় জমাচ্ছে সাধারণ মানুষ৷ শুধু দিনে নয়, অনেকে রাতও কাটাচ্ছে আধার কার্ড সংশোধন কেন্দ্রের বন্ধ গেটের সামনে৷ কেউ কেউ আবার টানা কয়েকদিন রাত কাটাচ্ছে ঘরের বাইরে৷ আতঙ্কে মানুষ এনআরসি'র নামও মুখে আনতে চাইছে না৷ আধার কার্ড সংশোধন করতে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধে পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন ব্যাংক ও পোস্ট অফিসের সামনে ভিড় করছে সাধারণ মানুষ৷ কারোর আধার কার্ডে নাম ভুল, কারোর আবার বয়স ভুল৷ কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, প্রতিটি সংশোধন কেন্দ্রে কয়েকটি কার্ডই ঠিক করা হচ্ছে৷ ফলে ঘুরে যেতে হচ্ছে মানুষকে৷ তাই তারা এবার ব্যাংক বা পোস্ট অফিসেই রাত কাটাতে শুরু করেছে৷ মালদা শহরের অতুল মার্কেটে ইউকো ব্যাংকে দেখা গেল, বন্ধ গেটের সামনে প্লাস্টিকের চাদর বিছিয়ে ঘুমিয়ে রয়েছেন বেশ কয়েকজন৷ সবাই আধার কার্ড সংশোধনের জন্য এসেছেন৷ কিন্তু তাঁরা যে এনআরসি নিয়ে আতঙ্কিত, সেটা ক্যামেরার সামনে প্রকাশ করতে রাজি নন৷ তাতে যদি কেন্দ্রের নজরে পড়ে যান! নিজের আধার কার্ড সংশোধন করাতে এসেছেন রতুয়া থানার পরাণপুর গ্রামের বাসিন্দা রানা ঘোষ৷ বললেন, "আমি গতকাল থেকে এখানে হত্যে দিয়ে পড়ে রয়েছি৷ আধার কার্ডে আমার বয়স ভুল রয়েছে৷ সেটা সংশোধন করতেই এখানে আসা৷ এনআরসি চালু হলে আমার আধার কার্ডের কোনও তথ্যে যাতে কোনও ভুল না থাকে তার জন্যই কার্ড সংশোধন করতে এসেছি৷ এখানে অনেক মানুষ প্রতিদিন আধার কার্ড সংশোধন করাতে এসে ঘুরে যাচ্ছে৷ কারণ, দিনে মাত্র ১৭টির বেশি কার্ড এখানে সংশোধন করা হয় না৷ তাই বাধ্য হয়ে এখানে রাত কাটাতে হচ্ছে৷ ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি৷ আমার মনে হয় এনআরসি নিয়েই আতঙ্কিত মানুষ নিজেদের আধার কার্ড তড়িঘড়ি সংশোধন করাতে প্রতিদিন এখানে ভিড় করছে৷" মানিকচকের বাসিন্দা দুলাল হক আতঙ্কে এনআরসি'র নামই মুখে আনতে রাজি নন৷ সকালে তিনি ইউকো ব্যাংকের মালদা শাখায় নিজের আধার কার্ড সংশোধনের জন্য এসেছেন৷ তিনি বলেন, "আমার আধার কার্ড এখনও সংশোধন হয়নি৷ ব্যাংক থেকে বলছে, প্রতিদিন ১৭টি করেই কার্ড সংশোধন করা হবে৷ দিনে প্রায় দেড়শো মানুষ কার্ড সংশোধন না করাতে পেরে ঘুরে যাচ্ছে৷ ব্যাংক থেকে বলে দেওয়া হয়েছে, রাতে যারা থাকবে, তাদেরই কার্ড সংশোধন হবে৷ আমার কার্ডে বয়স ভুল আছে৷ ঠিক করতে হবে৷ আমি বাইরে শ্রমিকের কাজ করি৷ বাড়ি এসেছি৷ কার্ড ঠিক করে ফের বাইরে চলে যাব৷ তবে এনআরসি'র জন্য আমি কার্ড সংশোধন করাতে আসিনি৷" অতুল মার্কেটে একটি হোটেলে কাজ করেন কলকাতার বেলেঘাটার বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ দাস৷ তিনি বলেন, "প্রতিদিনই ব্যাংকে আধার কার্ড সংশোধনের জন্য প্রচণ্ড ভিড় হচ্ছে৷ আমি মাস দুয়েক ধরে একই ছবি দেখছি৷ মানুষ আধার কার্ড ঠিক করাতে এসে ২-৩ দিন ধরে ব্যাংকের সামনে রাত কাটায়৷ আমি অনেককেই থাকার জায়গা, জল, কাপড় ইত্যাদি দিয়েছি৷ আধার কার্ড নিয়ে কেন এত কড়াকড়ি, তা আমি জানি না৷ তবে এনআরসি নিয়ে বাংলার মানুষের মনে একটা ভয় তৈরি হয়েছে৷ কার কী হবে, কে কোথায় থাকবে তার ঠিক নেই৷ তাই আগে আধার কার্ড, তারপর ভোটার কার্ড ঠিক করার ধুম লেগেছে৷" ওই মার্কেটের ব্যবসায়ী বলাই সাহা বলেন, "মানুষ আধার কার্ড সংশোধনের জন্য মাস দুয়েক ধরে আসছে৷ দিন-রাত ব্যাংকে ভিড় থাকছে৷ সারা রাত ধরে মানুষ ব্যাংকের সামনে থাকছে৷ তাদের দেখে আমাদেরই কষ্ট হয়৷ তাদের যতটা সম্ভব সাহায্য করি৷ আমি জানি না, কেন মানুষের এই আতঙ্ক৷ তবে মনে হয় এনআরসি নিয়ে মানুষ আতঙ্কিত৷ আমি সেটাই শুনেছি৷ তার জন্যই মানুষ তড়িঘড়ি আধার কার্ড ঠিক করাতে আসছে৷" আমরা এই বিষয়ে আমাদের সংবাদ মাধ্যমের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসন ও আধার কার্ড কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন রাখতে চাই যাতে সাধারন মানুষকে এই পরিষেবা আরও বেশী করে দেওয়া যায় সেই দিকে সচেষ্ট হওয়ার জন্য।

NewsDesk - 3

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news