মালদহ জেলার নাট্যচর্চার সেকাল এবং একাল - Newsbazar24
বিনোদন

মালদহ জেলার নাট্যচর্চার সেকাল এবং একাল

মালদহ জেলার নাট্যচর্চার সেকাল এবং একাল

মালদাঃ মালদহ জেলায় সমসাময়িক নাট্যচর্চায় ক্ষেত্রে প্রথমেই যে দলটির নাম আছে সেটি হলো মালদার মালঞ্চ ছাড়াও সবচেয়ে প্রাচীন নাট্যদল বলতে মালদা ড্রামাটিক ক্লাব যা ইতিমধ্যে ১১৯ বছর অতিক্রান্ত করেছে বলে দাবী ক্লাবের। তার পরবর্তীকালে অনেক নাট্য দল তৈরী হয়েছে আবার ভেঙ্গেও গেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে মালদায় বেশ কিছু নূতন নাট্য দল তৈরি হয়েছে।  ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায় স্বাধীনতার আগে পর্যন্ত মালদা জেলার সে ধরনের কোন সমাজ সমস্যামূলক নাটক মঞ্চস্থ হয়নি তবে  একটা জিনিস পাওয়া গেছে সেই  সময়  অভিরামপুরে স্বদেশ চেতনা মূলক নাটক ‘মায়ের পুজো’ অভিনীত হয়েছিল   কিন্তু ব্রিটিশ সরকার সেই নাটকটি তখন বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীকালে ভারতীয় গণনাট্য সংঘ মালদা জেলা শাখার প্রভাবে মালদায় প্রগতিশীল নাট্য আন্দোলন গড়ে ওঠে। মালদা জেলার নাট্যচর্চার আলোচনায় স্বাভাবিকভাবেই বাংলার নাট্যচর্চার  ইতিবৃত্ত আলোচনার ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে কলকাতা বা কলকাতা সংলগ্ন নাট্যচর্চার নানা বিষয়ে আলোচনা এসে পরে।  সময়ের সাথে তাল রেখে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তিক জেলাগুলিতে সমানভাবে পাল্লা দিয়ে নাট্যচর্চা হয়ে থাকে সেই নাটকের মধ্য দিয়েই ফুটে ওঠে তাদের নিজস্ব দর্শন সামাজিক আন্দোলনের প্রয়াস।

   এই ব্যাপারে মালদা মালঞ্চ নাট্যকার পরিচালক অভিনেতা পরিমল ত্রিবেদী জানান  আশির দশকে ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার দৌলতে এবং নানান কারণে মালদা জেলায় নাট্যচর্চা কিছুটা  স্তিমিত হয়ে পড়ে  সেই সময় আমরা কয়েকজন মিলে  মালদহের কালিয়াচকের চরিঅনন্তপুরে ‘অগ্নিশিখা নাট্যগোষ্ঠী’ নামক একটি নাট্যদল তৈরী করি।এবং সেই সময় থেকে নিয়মিত  নাটক অভিনয় এবং নাট্য উৎসবের মধ্য দিয়ে মালদা জেলার নাট্যচর্চার গতিকে অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেছিলাম এবং সেই তার সাথে তাল রেখেই  ১৯৯৩ সালে পথ চলা শুরু হয় আমাদের  এই “মালদা মালঞ্চ নানান  প্রতিকূলতা এবং প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও দীর্ঘ প্রায় 40 বছরেরও বেশি ধারাবাহিকভাবে থিয়েটার চর্চা আমরা করে চলেছি ইতিমধ্যে  ২০১৫  সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাষ্ট্রীয় নাট্য বিদ্যালয় এনএসডি আয়োজিত আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব  ১৭  তম ভারতরঙ্গ মহোৎসব আমার   লেখা  এবং পরিচালিত বিখ্যাত নাটক গম্ভীরা গম্ভীরা প্রদর্শনের সুযোগ পায় এবং সেই মাসেই দিল্লির   এলপিজি তে এবং মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ এর ডক্টর বাবাসাহেব আম্বেদকার মারাঠাওয়াড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে   নাটকটির দুবার প্রদর্শিত হয় তিনি আরো জানান এই গম্ভীরা গম্ভীরা নাটকটি দূরদর্শন দেখানো হয়তিনি জানান আমি গর্ব করছি না  মালদা জেলা তথা  উত্তরবঙ্গের কোন নাট্যকার বা পরিচালকের কোন নাটক এই বিরল কৃতিত্ব লাভকিনা আমার জানা নেই এছাড়া   আরো একটি নাটক ‘লোতুন জেবন আকাশবাণীতে সম্প্রচারিত হয়েছে মালদা মালঞ্চ প্রযোজিত নাটক স্বস্তি’,  উদাস পূজা,’ অসময়ের ভাবনা,’ ভালো মানুষ,’ রানীঘাটের বৃত্তান্ত,’  লক্ষীকান্ত’, ও ‘আলকাপ মায়াইতিমধ্যে  রাজ্যের  বিভিন্ন জেলায়  দর্শককূলের প্রশংসা লাভ করেছে  সম্প্রতি এই বছরে পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্ম বর্ষে  মালদা মালঞ্চের শ্রদ্ধার্ঘ্ বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাট্যকার মান্নান  হীরার নাটক এবং বিদ্যাসাগর তার সম্পাদনায় এবং নির্দেশনায় সারা বাংলায় সমাদৃত হয়েছে তিনি জানান।

ব্যাপারে মালদা থিয়েটার প্ল্যাটফর্ম নাট্য সংস্থার বিপ্লব বোস   বলেন  ২০০৬ সালে আমাদের নাট্যদলের  যাত্রা শুরু হয়েছিল আমরা একাঙ্ক নাটক দিয়ে শুরু করেছিলাম আমাদের প্রথম নাটক ছিল পাথর এরপরে  অভিনীত হয়েছে মৌমাছি কাল বা পরশু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিদূষক বাদল সরকারের বাকি ইতিহাস আমাদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নাটক সুব্রত পালের খেলনা ভাঙার শব্দ কৌশিক চট্টোপাধ্যায় এর  ‘ভাঙন’। আমাদের  নাটক ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় এমনকি কলকাতার নাট্য উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে আমাদের ছোটদের একটি গ্রুপ রয়েছে তারা  ইতিমধ্যে ইচ্ছাপূরণ অবাক জলপান মঞ্চস্থ করেছে তিনি আক্ষেপ করেছেন অন্যান্য জেলার তুলনায় এই জেলায় নাটকের দর্শক সংখ্যা কম আমরা মানুষের কাছে আবেদন করছি আপনারা আসুন বেশি করে নাটক দেখুন

আরেক বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব সুব্রত রায় বলেন আমি দীর্ঘ 36 বছর ধরে নাট্যচর্চা করছি মালদা জেলা ইংরেজদের অধীন থাকাকালীন জঙ্গল এবং মাঠের মধ্যে মঞ্চ বেঁধে কিছু যুবক নাটক করতো পরবর্তীতে কিছু ক্লাব সংস্থা এবং মালদা অভয়  ক্লাব, ঝংকার ক্লাব,সোমেশ স্মৃতি সংঘ, অনামী শিল্পী চক্র, প্রান্তিক নাট্যগোষ্ঠী  নেতাজি ক্লাব, তিতাস,‌ সংলাপ, মালদার মালদার প্রতীকী  নাট্যগোষ্ঠী বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠান উপলক্ষে মঞ্চ নাটক  করতো ,নাটকের সাথে সাথে লোকসংস্কৃতি গম্ভীরা আলকাপ গান হত সেই সময় এগুলো জনপ্রিয়তা লাভ  করেছিল এখন সেটা আর নেই এখন যারা নাট্যচর্চা করছে তারা নাটককে সেই জায়গায় নিয়ে যেতে পারছে না সেই সময়কার  উল্লেখযোগ্য নাট্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন নাট্যকার এবং নির্দেশক রণজিৎ রায়বর্তমানের নাট্য দলের মধ্যে মালদা মালঞ্চ, সমবেত প্রয়াস, মালদা ড্রামাটিক ক্লাব, থিয়েটার প্লাটফর্ম,নাট্য সেনা, মালদার  আগামী রয়েছে বর্তমান প্রজন্মের লক্ষ্য হওয়া উচিত মৌলিক নাটকের প্রতি নাটকের মধ্য দিয়ে সাধারণ দর্শকের অন্তরে পৌঁছতে হবে তাদেরকে টেনে আনতে হবে নাটকের প্রতি একদিকে যেমন রিকশাচালক টোটো চালক অন্যদিকে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার এবং সমাজের  শিক্ষিত মানুষকে আরো বেশি বেশি করে দিকে টেনে আনতে হবে  তাদের মতো করেই নাটক পরিবেশ   করতে হবে এই জিনিসটা আজকের খুব অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে

মালদা ড্রামেটিক ক্লাব এর সম্পাদক অসীম সেন জানান  আমাদের এই দল জেলার সবচেয়ে পুরানো দল।  আমাদের প্রায় ১০০ র বেশি নাটক  ইতিমধ্যে অভিনীত হয়েছে।  এরমধ্যে বাদশা বেগম চেলাকাঠ পুরস্কৃত  হয়েছে । আমরা দিল্লিতেও নাটক করেছি শিশির মঞ্চে কয়েকবার আমাদের নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। তখনকার  দিনের নাটক আর এখনকার নাটকের তুলনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন সমাজের বিবর্তনের সাথে সাথে নাটকের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হচ্ছে মৌলিক নাটকের বেশি করে ব্যবহার হওয়া উচিত তাহলে নাট্য দর্শককে বেশি  বেশি করে টেনে আনা যাবে।

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য বিভাগের সমীপেন্দূ চট্টোপাধ্যায় জানান  জেলায় নাট্যচর্চার মান অনেক বেড়েছে নতুন প্রজন্ম এমনকি আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেও নাটকের বেশ প্রবণতা আমরা লক্ষ করছি এটা আগামী দিনে এই নাট্য আন্দোলন কে বাঁচিয়ে রাখার রসদ যোগাবে।

NewsDesk - 2

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news