মালদহ জেলার অন্যতম অর্থকরী ফসল আমের পর রেশম শিল্প করোনার থাবায় সংকটের মুখে - Newsbazar24
ব্যবসা

মালদহ জেলার অন্যতম অর্থকরী ফসল আমের পর রেশম শিল্প করোনার থাবায় সংকটের মুখে

মালদহ জেলার অন্যতম অর্থকরী ফসল আমের পর রেশম শিল্প করোনার থাবায় সংকটের মুখে

 

Newsbazar 24 : কোবিড-১৯ এর সাথে লড়াই করার জন্য গোটা  দেশের সাথে  রাজ্য জুড়ে চলছে লকডাউন। মালদহ জেলার অন্যতম অর্থকরী ফসল আমের পর রেশম । আমের ক্ষতি ইতিমধ্যে হয়ে গেছে।  এবার ক্ষতির মুখে মালদহের রেশম শিল্প এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট চাষীরা। লকডাউনের ফলে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সন্মুখীন   চাঁচল ১ ও ২ ব্লক সহ ব্লকের অন্যান্য অংশের রেশম চাষিরা  

জানা গেছে , উৎপাদন ভালো হলেও বাজার পাচ্ছেন না তাঁরা৷ কালিয়াচকের রেশম বাজারে তাঁরা উৎপাদিত রেশম নিয়ে যাচ্ছেন বটে, কিন্তু দাম না পেয়ে তাদের সেই রেশম ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হচ্ছে৷ এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় থাকবে না বলে জানাচ্ছেন জেলার রেশম চাষিরা৷ এই পরিস্থিতিতে সবাই জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে৷

মালদহ জেলায় আমের পর দ্বিতীয় অর্থকরী ফসল রেশম৷ গোটা জেলার প্রায় ৭০ হাজার পরিবার এই চাষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িত৷ মূলত চাঁচল ১ ব্লকের মকদুমপুর ও অলিহন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েত এবং চাঁচল ২ ব্লকের ভাকরি ও গৌড়হন্ড গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বেশি রেশম চাষ হয়৷ এসমস্ত এলাকার রেশম গুটির মানও বেশ উন্নত৷

সেই কারণে ২০১৮ সালে ভাকরি গ্রাম পঞ্চায়েতের রামপুর গৌরিপুর গ্রামকে রেশম চাষের মডেল গ্রাম হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল৷ কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই গ্রামের রেশম চাষেই নেমে এসেছে চরম দুর্দিন৷

রামপুর গ্রামের  এক রেশম চাষি জানান ,”এবার আমরা প্রত্যেকেই ঋন নিয়ে সাধ্যমতো রেশম চাষ করেছিলাম৷ ফলন ভালো হয়েছে৷ উৎপাদিত রেশমের মানও খুব ভালো৷ এই জেলার একমাত্র রেশম বাজার কালিয়াচকে৷ লকডাউনের মধ্যে কালিয়াচক বাজারে ফসল নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছিলো৷ তবে চাঁচল থানার পুলিশের সহায়তায় সেই সমস্যা কেটেছে৷ গতবার আমরা মণ প্রতি রেশম বিক্রি করেছিলাম ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকায়৷ এখন কালিয়াচক বাজারে রেশমের দাম ৪-৫ হাজার টাকার বেশি উঠছে না৷এতে আমাদের চাষের খরচই উঠবে না৷ এমন পরিস্থিতি চললে আমাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না৷ এর উপর লকডাউনের ফলে বাজারেও কেউ আসছে না। এরফলে খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আমাদের।

সমস্যার কথা কার্যত মেনে নিয়েছেন চাঁচল ১ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ রফিকুল হাসান৷ তিনি বলেন,”আমি এলাকার রেশম চাষ পরিদর্শন করেছি৷ চাষিদের সঙ্গে কথা বলেছি৷ সবচেয়ে বড় সমস্যা, কালিয়াচকের বাজারে গতবার ১০-১১ হাজার টাকা মণ দরে রেশম গুটি বিক্রি হলেও এবার ৪-৫ হাজারের বেশি দাম উঠছে না। এখানকার চাষিরা প্রায় সবাই ঋণ নিয়ে রেশম চাষ করেন৷ তাই চাষিদের সঙ্গে আমিও  সহমত হয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি  এই শিল্পকে বাচিয়ে রাখতে যেন যথাযথ  পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

NewsDesk - 3

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news