মালদহের চাঁচলে সিংহ বাহিনী মাকে রাজকীয় শোভাযাত্রায় সপ্তমীর উষা লগ্নে নিয়ে যাওয়া হয় চাঁচলের পাহাড় পুরের চণ্ডী মন্দিরে, কেন জানতে পড়ুন।। - Newsbazar24
মালদা

মালদহের চাঁচলে সিংহ বাহিনী মাকে রাজকীয় শোভাযাত্রায় সপ্তমীর উষা লগ্নে নিয়ে যাওয়া হয় চাঁচলের পাহাড় পুরের চণ্ডী মন্দিরে, কেন জানতে পড়ুন।।

মালদহের চাঁচলে সিংহ বাহিনী মাকে  রাজকীয় শোভাযাত্রায় সপ্তমীর উষা লগ্নে নিয়ে যাওয়া হয় চাঁচলের পাহাড় পুরের চণ্ডী মন্দিরে, কেন জানতে পড়ুন।।

newsbazar 24 ::বিগত ৩০০-৩৫০ বছরের পুরনো রীতি অনুযায়ী আজও চাঁচলে সিংহ বাহিনী মাকে  রাজকীয় শোভাযাত্রায় সপ্তমীর উষা লগ্নে নিয়ে যাওয়া হয় চাঁচলের পাহাড় পুরের চণ্ডী মন্দিরে।সাথে পুরোহিতের মন্ত্র উচ্চারন ঢাকের বাদ্যির ধ্বনিতে মুখরিত হয় গোটা শহর।এর পরেই শুরু হয় সমগ্র চাঁচলে পুজো। এদিন সপ্তমীর পূণ্য লগ্নে প্রথা অনুযায়ী দেবী চণ্ডী পৌঁছালেন পাহাড়পুরের চন্ডী মন্দিরে।

চাচোল রাজবাড়ীর ইতিহাস থেকে জানা যায়  এই প্রথা ৩০০-৩৫০ বছর আগে চাঁচলের রাজা রামচন্দ্র রায়চৌধুরী প্রথম প্রচলন করেছিলেন। সেই থেকে আজও রাজার প্রাচীন প্রথা মেনে চাঁচলের রাজ ঠাকুর বাড়ি থেকে সপ্তমীর সকালে মহা শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে দেবী চণ্ডীর কোষ্ঠী পাথরের মূর্তিকে নিয়ে যাওয়া হয় চাঁচলের পাহাড়পুর চণ্ডী মন্দিরে। এ প্রসঙ্গে এসে যায় চাচোল রাজ পরিবারের কাহিনী।সপ্তদশ শতাব্দীর শেষে অথবা অষ্টাদশ শতকের প্রথম দিকে  চাচোলের রাজা ছিলেন রামচন্দ্র রায়চৌধুরি । সেই সময় সমগ্র চাচোল ছিল জঙ্গলে পূর্ণ ।  রাজ পরিবারের লোকজন হাতির পিঠে চেপে পাহাড়পুরে সতী ঘাটে স্নান করতে যেতে।

কথিত আছে, , রাজা কে স্বপ্নাদেশ দেন দেবী চণ্ডী । রাজাকে তিনি আদেশ দিয়েছিলেন, মহানন্দার সতীঘাটায় তাঁর চতুর্ভূজা অষ্টধাতু নির্মিত মূর্তি রয়েছে । রাজমাতাকে দিয়ে সেই মূর্তি নদী থেকে তুলে রাজাকে তা প্রতিষ্ঠা করতে হবে । শুরু করতে হবে পুজো । রাজা স্বপ্নাদেশ পেয়ে পরদিন সকালেই সতীঘাটায় চলে যান রাজা । স্বপ্নাদেশে বর্ণিত জায়গায় নদীতে নেমে রাজমাতা তুলে আনেন দেবী চণ্ডীর মূর্তি । সেবার থেকেই শুরু হয় রাজবাড়ির দুর্গাপুজো ।

চাঁচল রাজ ট্রাস্টিবোর্ডের সুপারভাইজার দেবাজয় ভট্টাচার্য,এই পুজোর বয়স প্রায় ৩৫০ বছর হতে চলল । প্রাচীন প্রথা মেনে এখনও সপ্তমী তিথিতে রাজবাড়ি থেকে পাহাড়পুর দুর্গা দালানে নিয়ে আসা হয় অষ্টধাতুর চতুর্ভূজা মা চণ্ডীকে । দশমীতে তিনি ফের রাজবাড়িতে ফিরে যান । সপ্তমীর সকালে মহা ধুমধাম সহকারে ঢাকঢোল বাজিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো মা সিংহবাহিনী কে। সেখানে তিন দিন ধরে চলবে তার পুজো। মঙ্গলবার সপ্তমীর ঊষালগ্নে  করণা আবহে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শোভাযাত্রা সহকারেদেবী চণ্ডী কে নিয়ে যাওয়া হয় দু কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত পাহাড়পুর চণ্ডীমণ্ডপে। তবে করোনার কারণে গতবারের মতো এবারও  নিয়মে কিছুটা বদল হয়েছে। মন্দিরের মূল ফটক বাসের ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গর্ভগৃহে ঢোকা নিষেধ। ঠাকুরদালান এর বাইরে থেকেই মাকে পুজো দিতে পারবে। পাশাপাশি করণা প্রতিরোধে  মাস্ক এবং স্যানিটাইজারের ব‍্যাবহার আবশ্যিক  করা হয়েছে।

এই পুজোর বিসর্জনের নিয়মও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দেয়। বিসর্জনের সময় সতীঘাট লাগোয়া গ্রামগুলিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মহিলারা হাতে জ্বলন্ত হ্যারিকেন, মোমবাতি, মশাল নিয়ে মাকে বিদায় জানান। বিসর্জনের পর অষ্টধাতুর মূর্তি আবার নিয়ে যাওয়া হয়  মন্দিরে।

NewsDesk - 3

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news