মহালয়া রেডিওতে শোনার প্রচলন কেমন করে শুরু হলো ? সে সময় কে কে ছিলেন বীরেন্দ্র কৃষ্ণের সাথে ? - Newsbazar24
ধর্ম কথা

মহালয়া রেডিওতে শোনার প্রচলন কেমন করে শুরু হলো ? সে সময় কে কে ছিলেন বীরেন্দ্র কৃষ্ণের সাথে ?

মহালয়া  রেডিওতে শোনার প্রচলন কেমন করে শুরু হলো ? সে সময় কে কে ছিলেন বীরেন্দ্র কৃষ্ণের সাথে ?

দুর্গাপুজোর এক মাস আগের এক বিকেল বেলা সবাই বসে আলোচনা করছেন এই বছর দুর্গা পূজা উপলক্ষে নতুন কিছু করা যাক  আর কি  বাণীকুমার ভাবতে বসে গেলেন। বীরেন ভদ্র প্রস্তাব দিলেন, যদি পুজোকে কেন্দ্র করেই কিছু করা হয় তাতে চণ্ডীপাঠ অবশ্যই রাখতে হবে এরপর ১৯৩২ সালে দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীর সকালেপ্রত্যুষ প্রোগ্রামনাম দিয়ে  প্রথম সম্প্রচারিত হল একটি অনুষ্ঠান। পরের বছরও সম্প্রচারিত হয় ওই অনুষ্ঠান; তবে  নাম দেওয়া হয়প্রভাতী অনুষ্ঠান

তবে নাম সময়  নিয়ে অনেক নতুন প্রস্তাব আসতে শুরু করলো বেতার স্টেশনে পরের বছর নাম পরিবর্তন না হলেও, ১৯৩৪ সালের অক্টোবর প্রথমবার মহালয়ার সকালে সম্প্রচার করা হয় সেই চণ্ডী পাঠটি

এরপর ১৯৩৬ সালে অনুষ্ঠানটির নাম হয়মহিষাসুর বধ ১৯৩৭ সালে এই অনুষ্ঠানের নামকরণ স্থায়ী ভাবে হয়মহিষাসুরমর্দিনীযা ১৯৩২ ১৯৩৩ সালে মহাষষ্ঠীর ভোরে সম্প্রচারিত হয়ে কিছু অদলবদল হয়ে অবশেষে মহালয়ার ভোরেই সম্প্রচার স্থায়ী হয়।

সেই সময় কিন্তু লাইভ অনুষ্ঠান সম্প্রচার হত, আগের দিন রাত্রে স্টুডিয়োতেই থাকতেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। অন্য শিল্পীদের রাত দুটো নাগাদ স্টুডিয়োয় নিয়ে আসা হত। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ স্টুডিওতেই স্নান সেরে গরদের ধুতি চাদর পরতেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে শাঁখ বেজে উঠত। শুরু হত লাইভ প্রোগ্রাম।

প্রথম দিকে কয়েক বছর রাইচাঁদ বড়াল পঙ্কজকুমার মল্লিক যুগ্ম সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। তবে অধিকাংশ গান পঙ্কজ মল্লিক সুরারোপিত। কিন্তুবিমানে বিমানে আলোকের গানে…’  পণ্ডিত হরিশ্চন্দ্র বালী, ‘শান্তি দিলে ভরি…’  উস্তাদ সাগির খাঁ এবংনিখিল আজি সকল ভোলে …’ গানে  সুর করেন রাইচাঁদ বড়াল প্রমুখ। প্রসঙ্গত,  ‘নিখিল আজি…’ গানটি বাদ পড়ে বহু আগেই। রকম অনেক গান ছিল যা পরে মহিষাসুরমর্দিনী থেকে বাদ পড়ে। একটি দুটি গান বিকল্প বা পরিবর্তীত হিসেবেও ভাষ্যে উল্লেখ করেছেন বাণীকুমার, যে গান বহু বছর আগে থেকেই শোনা যায় না। সংস্কৃত স্তোত্রও অনেক বাদ গিয়েছে।সময়ের কথা মাথায় রেখেই এগুলো করতে হয়েছে।  প্রথম দিকে এক ঘণ্টা, কোনও কোনও বছর দুঘণ্টা, পরবর্তীতে অনুষ্ঠানটি মোটামুটি দেড় ঘণ্টায় স্থায়ী হয়। ১৯৭২ সালে স্থায়ীভাবে রেকর্ড হওয়ার আগে পর্যন্ত  এই অনুষ্ঠানের অজস্র পরিবর্তন ঘটেছে।

সঙ্গীত পরিচালক পঙ্কজ মল্লিকের সঙ্গে বেতার কর্তৃপক্ষের কোনও কারণে মতবিরোধ হওয়ায় ১৯৪৪ ১৯৪৫ বছর দুটিতে তাঁর জায়গায় গানের সুর এক রেখে গোটা অনুষ্ঠানটির সঙ্গীত পরিচালনার কাজ সামলেছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। ১৯৪৫ সালে অন্য গানসহ সম্পূর্ণ নতুন একটি অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়। তাতে যৌথ সঙ্গীতপরিচালক ছিলেন বিজনবালা ঘোষদস্তিদার শচীন দাশ মতিলাল। কিন্তু সেটি শ্রোতাদের একেবারেই পছন্দ হয় না। অবশেষে ১৯৪৬ সালে একইসঙ্গেমহিষাসুরমর্দিনী পঙ্কজকুমার মল্লিক-এর  প্রত্যাবর্তন ঘটে। সে বছর অবশ্য লাইভ না হয়ে রেকর্ডেড সম্প্রচার করতে হয়। কারণ সে বছর ১৬ অগস্ট থেকে কলকাতায় ভয়াবহ দাঙ্গা শুরু হয়েছিল তাতে অত রাতে শিল্পীদের আনার ঝুঁকি কর্তৃপক্ষ নেননি। এই অনুষ্ঠানের আদিযুগে গান গাইতেন কৃষ্ণ ঘোষ, আভাবতী, প্রফুল্লবালা, বীণাপানি, প্রভাবতী প্রমুখ। পঙ্কজ মল্লিক ছাড়া এঁদের কারওরই কণ্ঠ পরে আর শোনা যায়নি।বেতার জগৎপত্রিকা থেকে জানা যায়, ১৯৪০- গাইতেন পঙ্কজ মল্লিক, অনিল দাস, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শৈলদেবী, ইলা ঘোষ, সুপ্রভা ঘোষ (সরকার), কল্পনা হাজরা প্রমুখ।

এমনকী এই অনুষ্ঠানে গেয়েছেন জগন্ময় মিত্র, রাধারানী দেবী, সাবিত্রী ঘোষ, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য, পান্নালাল ভট্টাচার্য, শচীন গুন্ত, বাঁশরী লাহিড়ি, শৈলেন মুখোপাধ্যায়, কল্যাণী মজুমদার, অখিলবন্ধু ঘোষ প্রমুখ। এঁদের গানও পরবর্তীতে আর শোনা যায় নি। জানা যায়, শৈল দেবী গাইতেন, ‘বিমানে বিমানে আলোকের গানে…’, ‘বাজল তোমার আলোর বেণু…’, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ১৯৪০ থেকে ১৯৫১ পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানে গাইতেন, ‘জাগো দুর্গা, জাগো দশপ্রহরণধারিণী…’  

মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া, ‘তব অচিন্ত্য …’ গানটিও প্রথম দিকে ছিল না। অন্যদিকে  কৃষ্ণচন্দ্র দে, যূথিকা রায়, শচীন দেব বর্মন, কানন দেবী, কে এল সায়গল, সুধীরলাল চক্রবর্তী, রবীন মজুমদার, মান্না দে মতো বিখ্যাত শিল্পীরা কোনও দিনই এই অনুষ্ঠানে গান করেননি। ১৯৭৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর, মহালয়ার ভোরবেলা আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্র থেকে বেজে উঠল  চিরাচরিতমহিষাসুরমর্দিনী’- বদলেদেবীং দুর্গতিহারিণীম্‌’ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের আশ্বিনের শারদ প্রাতের বদলে মহানায়ক উত্তমকুমার বসন্ত চৌধুরী, পার্থ ঘোষ, ছন্দা সেন, মাধুরী মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যপ্রমুখের ভাষ্যপাঠ।

মহালয়ার দিনে তর্পণ পদ্ধতি ও কি কি লাগবে এক নজরে দেখে নিন

 

NewsDesk - 2

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news