মহালয়ার দিনে তর্পণ পদ্ধতি ও কি কি লাগবে এক নজরে দেখে নিন।। - Newsbazar24
ধর্ম কথা

মহালয়ার দিনে তর্পণ পদ্ধতি ও কি কি লাগবে এক নজরে দেখে নিন।।

মহালয়ার দিনে তর্পণ পদ্ধতি ও কি কি লাগবে এক নজরে দেখে নিন।।

newsbazar 24 ::মহালয়ার দিন পিতৃ পুরুষের উদ্দেশ্যে জল দেওয়ার জন্য তর্পণ করা হয় এই তর্পণ করতে গেলে কি কি লাগবে আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

 গঙ্গাজল না হলে পরিষ্কার জল, কালো তিল এবং কূশ। ‘প্রাদেশ’ মাপের ছ’টি কূশ প্রথমে জলে ভিজিয়ে রেখে সেটা নরম হলে একত্রে তিনটি কূশ নিয়ে অণামিকা আঙুলে আংটির মতো ধারণ করে তর্পণ করবেন। বাঁ আঙুলেও একই ভাবে কূশাঙ্গরীয় ধারণ করবেন। কূশ ও তিল যদি না পাওয়া যায় তবে শুধু জলেই তর্পণ করতে পারেন।

ভিজে কাপড়ে জলে দাঁড়িয়ে কিংবা শুকনো কাপড় পরেও এক পা জলে এক পা স্থলে রেখে পূর্ব দিকে মুখ করে তর্পণ করতে হয়। প্রথমে দু’বার আচমন করুন।

এর পরে বাঁ কাঁধে যজ্ঞপবীত (পৈতে) রেখে দেবতর্পণ করবেন। (অব্রাহ্মণগণ ওঁ-এর জায়গায় নমঃ বলবেন অবং ঋগ্বেদী ব্রাহ্মণগণ তৃপ্যতাম-এর জায়গায় তৃপ্যতু বলবেন।) জল নিয়ে বলবেন— ওঁ ব্রহ্ম তৃপ্যতাম্ ওঁ বিষ্ণু স্তৃপ্যতাম্ ওঁ রুদ্র স্তৃপ্যতাম্ ওঁ প্রজাপতি স্তৃপ্যতাম্। এর পরে হাতের আঙুলের অগ্রভাগে দু’হাতে এক এক অঞ্জলি জল দেবেন।

এর পরে বলবেন— ওঁ দেবা যক্ষাস্তুথা নাগা গন্ধর্ব্বাপ্ সরসোহসুরাঃ। ক্রূরাঃ সর্পাঃ সুপর্ণাশ্চ তরবো জিহ্মগাঃ খগাঃ। বিদ্যাধরা জলাধারা স্তথৈবাকাশগামিনঃ। নিরাহারশ্চ যে জীবাঃ পাপে ধর্ম্মে রতশ্চ যে। তেষামাপ্যায়নায়ৈতদ্ দীয়তে সলিলং ময়া। এই মন্ত্র আরও এক অঞ্জলি জল দেবেন।

মনুষ্য তর্পণের জন্য উত্তরমুখে গলার মালার মতো পৈতেটি রেখে দুই অঞ্জলি জল দিয়ে  মন্ত্র পড়তে হবে। 

ঋষি তর্পণের জন‍্য পূবমুখে উপবীত হয়ে এক অঞ্জলি জল দিয়ে মন্ত্র বলতে হবে।, 

দিব্যপিতৃ তর্পণের জন্য  দক্ষিণ মুখে ডান হাঁটু তুলে ডান কাঁধে পৈতে ও উত্তরীয় রেখে এক অঞ্জলি তিল জল দেবেন। 

দক্ষিণমুখ হয়ে বাঁ হাঁটু মাটিতে দক্ষিণে পেতে তিন অঞ্জলি জল দিয়ে  যম তর্পণ ,যমায় ধর্মরাজায় মৃত্যবে চান্তকায় চ। বৈবস্বতায় কালায় সর্ব্বভূতরক্ষায় চ। ঔড়ূম্বরায় দধ্নায় নীলায় পরমেষ্টিনে। বৃকোদরায় চিত্রায় চিত্রগুপ্তায় বৈ নমঃ।

(পিতৃ তর্পণ)— (প্রত্যেকে নিজের বেদ অনুসারে তিন বার করে মন্ত্র পড়ে তিন বার করে জল দেবেন।)

 

যেমন সামবেদীয়রা বলবেন— পুরুষদের ক্ষেত্রে— বিষ্ণুরোম্ অমুক গোত্রঃ পিতঃ অমুক দেবশর্ম্মা) তৃপ্যতামেতৎ সতিল গঙ্গোদকং তস্মৈ স্বধা।

স্ত্রী লোকের ক্ষেত্রে— বিষ্ণুরোম্ অমুক গোত্রা মাতাঃ অমুকী দেবী তৃপ্যতামেতৎ সতিল গঙ্গোদকং তস্মৈ স্বধা।

এই ভাবেই পিতামহঃ, প্রপিতামহঃ, বৃদ্ধপ্রপিতামহঃ অতিবৃদ্ধপ্রপিতামহঃ, মাতা, মাতামহঃ, প্রমাতামহঃ, বৃদ্ধাপ্রমাতামহঃ, অতিবৃদ্ধাপ্রমাতামহঃ কে জল দেবেন।

যজুর্ব্বেদীয়রা বলবেন—পুরুষদের ক্ষেত্রে— বিষ্ণুরোম্ অমুক গোত্র পিতঃ অমুক দেবশর্ম্মন তৃপ্যস্বৈতত্তে সতিল গঙ্গোদকং স্বধা।  

তেমনই স্ত্রী লোকের ক্ষেত্রে— বিষ্ণুরোম্ অমুক গোত্রে মাতঃ অমুকী দেবী তৃপ্যস্বৈতত্তে সতিল গঙ্গোদকং স্বধা।

ভীষ্ম তর্পণ— ব্রাহ্মণগণ পিতৃতর্পণের পরে এবং শূদ্রগন পিতৃতর্পণের আগে ভীষ্ম তর্পণ করবেন। দক্ষিণমুখী হয়ে এক অঞ্জলি জল দেবেন।

এর পরে পিতৃ প্রণাম করবেন— ওঁ পিতা স্বর্গঃ পিতা ধর্ম্মঃ পিতা হি পরমন্তপঃ। পিতরি প্রীতিমাপন্নে প্রীয়তে সর্ব্ব দেবতাঃ। এর পরে বলবেন ওঁ পিতৃন্নমস্যে দিবি যে চ মূর্ত্তাঃ স্বাধাভূজঃ কাম্যফলাভি সন্ধৌ। প্রদানশক্তাঃ সকলেপসিতানাং বিমুক্তিদাযেনভিসংহিতেষু।

এর পরে পূর্বদিকে ঘুরে সূর্যপ্রণাম করবেন।

 

NewsDesk - 2

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news