মালদা

বন্ধ পাথর রপ্তানির সমস্যা মেটাতে ডেপুটি হাইকমিশনারকে চিঠি, মহদীপুর এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের।

বন্ধ পাথর রপ্তানির সমস্যা মেটাতে  ডেপুটি হাইকমিশনারকে চিঠি, মহদীপুর এক্সপোর্ট  অ্যাসোসিয়েশনের।

সুমিত ঘোষ, মালদা : গত 17 ই নভেম্বর থেকে মহদীপুর আন্তর্জাতিক স্থল বন্দর দিয়ে পাথর রপ্তানি বন্ধ বাংলাদেশে। এই কয়েক দিনে কয়েকশো কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি। সমস্যায় পড়েছেন এদেশের রপ্তানিকারক থেকে শুরু করে লরির মালিক, এবং চালক খালাসিরা। এমত অবস্থায় পাথর রপ্তানিতে অচলাবস্থা কাটাতে ডেপুটি হাইকমিশনারকে চিঠি দিল মহদীপুর এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন। চিঠি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের ইনপোটারদেরকেও। এই মর্মে সোমবার অ্যাসোসিয়েশনের নিজস্ব সভা কক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সম্পাদক প্রসেনজিৎ ঘোষ, ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট ফজলুল হক, হৃদয় ঘোষ, মহদীপুর সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ভূপতি মন্ডল, মহদীপুর সীমান্ত ট্রাক ওনার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সঞ্জিব ঘোষ সহ অন্যান্য সদস্যরা। বৈঠকে পাথর রপ্তানিতে অচলাবস্থা কাটাতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় তার পাশাপাশি আগামী বুধবার সংগঠনের উদ্যোগে প্রশাসনিক এবং মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের আধিকারিকদের নিয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানালেন সংগঠনের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট ফজলুল হক। তিনি আরো জানান, পাথর রপ্তানিতে অচলাবস্থা দেখা দেওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন রপ্তানিকারকরা। বর্তমানে তিন থেকে চার হাজার গাড়ি লোডিং অবস্থায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। এতে আরো বেশি করে সমস্যায় পড়েছেন গাড়ির মালিকরা। তারা ইতিমধ্যে ডেপুটি হাইকমিশনার থেকে শুরু করে বাংলাদেশের ইনপোটারদের সাথে কথা বলেছেন। আশা করছেন এই মাসের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হবে।

উল্লেখ্য, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মহদীপুর আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক পণ্যবাহী লরি যাতায়াত করে। পিয়াজ, আপেল সহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশ রপ্তানি হয় এই মহদীপুর স্থলবন্দর দিয়ে। তার সাথে গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে পাথর রপ্তানি হয়ে আসছে। জেলার অধিকাংশ ব্যবসায়ী এই পাথর রপ্তানির সাথে যুক্ত বর্তমানে। কিন্তু প্রায় এক মাস হল বাংলাদেশ পাথর রপ্তানিতে অচলাবস্থায় দেখা দিয়েছে। এমত অবস্থায় সমস্যায় পড়েছেন মালদা জেলার কয়েকশো পাথর ব্যবসায়ী এবং লরির মালিক রা। মধুপুর এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন এর সদস্য হৃদয় ঘোষ জানান, বিভিন্ন জায়গায় চিঠি করা হয়েছে। কলকাতা হাই কমিশনারকে চিঠি করা হয়েছে। উত্তর পাইনি। বাংলাদেশের ইন পোটারদেরকেও চিঠি করা হয়েছে কিন্তু কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে বাংলাদেশ যে পাথর নিচ্ছে না তার জন্য আমরা ওই দেশের ইনপোটার এবং পানামাকে দায়ী করছি। এতে মহদীপুর এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের কোনো গাফিলতি নেই। তাই কেউ যদি অভিযোগ করে থাকেন যে এর পেছনে সংগঠন দায়ী তাহলে এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। পাথর অচলাবস্থা কাটাতে ইতিমধ্যে তারা যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। চলতি মাসেই সেই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

এক্সপোর্ট এবং ইনপোর্টারদের মিডিলম্যান  হিসেবে কাজ করে মহদীপুর সি এন্ড এফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন। অনলাইন সিস্টেম চালুর পর থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি অনেক কমে এসেছে। তাই কে কি অভিযোগ করল তাতে কিছু এসে যায় না। পাথর রপ্তানিতে যে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে তার জন্য পানামা দায়ী। এই কয়েকদিনে কয়েকশো কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ওই সংগঠনের সেক্রেটারি ভূপতি মন্ডল। তিনি আরো জানান, অচলাবস্থা কাটাতে ইতিমধ্যে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা থেকে শুরু করে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে মহদীপুর সীমান্ত ট্রাক অনার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সঞ্জীব ঘোষ জানান, পাথর রপ্তানিতে অচলাবস্থা দেখা দেয়ায় সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন গাড়ির মালিক এবং চালক খালাসীরা। এই জট না কাটলে আগামীতে আত্মহত্যা করতে হবে ট্রাক মালিক এবং চালক খালাসিদের। তবে এই অচলাবস্থা কাটাতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে মহদীপুর এক্সপোট অ্যাসোসিয়েশন। ইতিমধ্যে তারা ডেপুটি হাইকমিশনার কে চিঠি দিয়েছে কথা বলেছেন আমদানিকারকদের সাথেও।

NewsDesk - 3

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news