ক্রিকেট খেলায় ক্রমশ আগ্রহ হারাচ্ছে শিশুরা ! কিন্তু কেন ? - Newsbazar24
ক্রিকেট

ক্রিকেট খেলায় ক্রমশ আগ্রহ হারাচ্ছে শিশুরা ! কিন্তু কেন ?

ক্রিকেট খেলায়  ক্রমশ আগ্রহ হারাচ্ছে শিশুরা ! কিন্তু কেন ?

Newsbazar24 :  মালদহে  ক্রিকেটের খেলার জনপ্রিয়তা বাড়লেও একটা সময়ের পর ছেলেরা বেশি দূর অগ্রসর হতে পারছে না এব্যাপারে এরআগে মালদহে  এসে  সিএবির  যুগ্মসচিব দেবব্রত দাস বলেছেন এই জেলায়  পরিকাঠামোর অভাব বিশেষ করে মাঠের অভাব এর জন্য ছেলেরা আর বেশিদূর যেতে  পারছে না এছাড়াও বাংলার একসময়ের বিখ্যাত ক্রিকেট খেলোয়াড় শিব শংকর পাল মালদহতে  এসে বলেছিলেন যে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে যদি ছেলেরা বাংলা ভারতের খেলতে পারে তবে মালদায় পারবে না কেন?  জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ দরকার এবং অভিভাবকদের পড়াশোনার পাশাপাশি   ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়াবার জন্য প্রচেষ্টা নিতে হবে    ব্যাপারে মালদহের প্রখ্যাত ক্রিকেট প্রশিক্ষক সুহৃদ মিত্র মেমোরিয়াল কোচিং সেন্টারের   সুব্রত কুন্ডু বলেন কোচিং করানো এবং শিক্ষা দেওয়ার জন্য একটা অনুভূতি দরকার আমাদের জেলায় এই  অনুভূতির খুবই অভাব ছেলেদের খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনার দিকে নজর রয়েছে কিনা সেদিকেও দায়িত্ববোধ থাকা উচিত প্রশিক্ষকদেরএই  প্রফেশনে যারা আছেন তাদের মধ্যে    দায়িত্ববোধ র অভাব লক্ষ করা গেছে। তিনি বলেন আমি দীর্ঘ  ৪০  বছরেরও বেশি মালদা জেলায় ক্রিকেট কোচিং এর সাথে জড়িয়ে ছি।  আমা এইখান থেকে বহু ছেলে জেলা দলে খেলছে কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে কিছু কিছু প্রশিক্ষকের দৃষ্টিভঙ্গি খুবই নিচু স্তরের তাদের উদ্দেশ্য শুধু পয়সা রোজগার করা। কোচিং টা তাদের কাছে গৌন। এর পাশাপাশি ছেলেদের পড়াশোনার চাপে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ কমে আসছে মালদায় খেলাধুলার পরিবেশকে উন্নত করার জন্য  কি প্রশাসনিক স্তরে বা জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে কারও কোন প্রসেস্টা ছিল না আজও নেই। কিছু খেলাপাগল লোক জেলায় আছে বলেই খেলাধুলা চলছে।  মালদা ক্লাব ক্রিকেট অ্যাকাডেমির  প্রশিক্ষক সৌরভ দাস বলেন  জেলায় ক্রিকেটর জৌলুস  আস্তে আস্তে  কমে যাচ্ছে এর কারণ ছাত্রদের   একদিকে রয়েছে পড়াশোনার চাপ অন্যদিকে রয়েছে পরিকাঠামোর অভাব এছাড়াও ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগের অভাব জেলা থেকে রাজ্যে স্তরে খেলার  সুযোগ যদি আরেকটু বেশি করে ছেলেরা পেত তাহলে ক্রিকেটের জৌলুস আরেকটু বাড়তো এছাড়াও জেলায় ক্রিকেটারদের কাছে  সেরকম কোন আইকন নেই যাকে সামনে রেখে ছেলেরাও অনুপ্রাণিত হতে পারে। এ ছাড়াও জেলায় প্রতিযোগিতামূলক খেলার সুযোগ খুবই কম।  আমাদের মালদা ক্লাব জেলায় ক্রিকেটার তৈরীর লক্ষে ইতিমধ্যে দিন ও রাতের কোচিং ক্যাম্প চালু করেছে। ইতিমধ্যে অনেকেই এখানে ভর্তি হয়েছেন এমনকি মেয়েরাও এগয়ে আসছেন কোচিং নিতে। আমাদের এখানে ৩জন মেয়ে কোছিং ন্যাউ তারমধ্যে দুইজন খুবই ছোট  এবং  ১ জন একটু বড়।

  ১২ বছরের  মৃগাঙ্ক দাস জানান তার ক্রিকেট খেলতে খুবই ভালো ভালো লাগে।  তার বাবা মৃগাঙ্ক দাস বলেন যে তিনি মনে করেন না ক্রিকেটের জৌলুস কমছে। টিভি এবং মিডিয়ার দৌলতে গ্রামেগঞ্জে ক্রিকেট আরো জনপ্রিয় হচ্ছে। একটা সময়ের  পর ছেলেরা   খেলাধুলায় উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে এর কারণ একদিকে পড়াশোনার চাপ অন্যদিকে খেলাধুলার ক্ষেত্রে পরিকাঠামোর অভাব।  সরকারের এগিয়ে আসা উচিত এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্লাবগুলোকে অর্থ সাহায্য করা পাশাপাশি আমাদের কেও এগিয়ে আসতে হবে যাতে আমাদের ছেলেমেয়েদের  খেলার প্রতি ঝোঁক বাড়ে।

আর এক শিক্ষার্থী দেবারতি ঘোষ জানান তার ক্রিকেট খেলতে খুবই লাগে । তার মা ফাল্গুনি ঘোষ জানান  যে এক বছর হল তার ছেলেকে এখানে ভর্তি করেছেন। ছেলের ক্রিকেটর প্রতি ঝোক দেখেই এখানে ভর্তি করেছেন। তবে পাশাপাশি পড়াশুনার দিকেও বেশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবে।

আরেক শিক্ষার্থী শঙ্খদীপ সাহার মা বনলতা সাহা জানান যে আমাদের বাড়িতে খেলাধুলার চর্চা আছে আমার শ্বশুর একসময় খেলতেন উনার ছেলে অর্থাৎ শঙ্খদীপের বাবাও খেলাধুলা করতেন সেইজন্যই শঙ্খদীপের  ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ দেখেই এখানে ভর্তি করিয়েছেন।

আরেক প্রশিক্ষক প্রবীর রঞ্জন দস্তিদার জানান শুধুমাত্র পরিকাঠামো দোষ দিয়ে লাভ নেই আমরা যদি ছেলেদের আরো বেশি করে প্রতিযোগিতামূলক খেলায় অংশগ্রহণ করানো দরকার।  জেলা ক্রীড়া সংস্থার একমাত্র লীগ ছাড়া আর কোন খেলাই হয়না এর ফলে ছেলেরা প্রতিযোগিতামূলক খেলায় খেলতে না পেরে হতাশ হয়ে যায়। এছাড়াও কোচিং ক্যাম্প গুলিকে জেলার  খেলাধুলার মান উন্নয়নের জন্য  জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে  কিছু অর্থ সাহায্য করা দরকার।  আমাদের এখানে বেশ কিছু ভাল খেলোয়াড় আছে  যারা পয়সার অভাবে ঠিকমত খেলাধুলা করতে পারেনা তাদেরকে যদি আরো ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে হয় তাহলে ডিএসএর উদ্যোগ দরকার।

জেলার  খেলোয়াড় সৌরভ লাহা জানান পরিকাঠামো উন্নয়ন অবশ্যই দরকার। উন্নয়নের জন্য একটা সিস্টেমের মধ্যে আসতে হবে ক্রিকেট খেলতে গেলে পয়সা এবং প্রতিভা  দুটোই দরকার প্লেয়ারের শুধু প্রতিভা থাকলেই হবে না পয়সাও থাকা দরকার।  যাদের প্রতিভা  আছে কিন্তু পয়সা নেই তাদেরকে যদি আমরা খেলার সুযোগ করে দিতে পারি তাহলেই আগামী দিনে খেলোয়াড় তৈরি হবে।  ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।   আর এক খেলোয়াড় সন্দীপচ্যাটারজ্জী জানান যে আগের চেয়ে খেলার অনেক সুযোগ বেড়েছে কিন্তু  তা সত্ত্বেও খেলার মাঠের অভাবে এবং প্রাক্টিসের অভাবে খেলোয়াড়দের প্রতিভা হারিয়ে যাচ্ছে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোষাধক্ষ্য দিলীপ দে জানান জেলার কোচিং ক্যাম্পগুলোতে অভিভাবকরা  তাদের ছেলেরা যখন ক্লাস ফাইভ বা সিক্সে পড়ছে তখন  খুবই উৎসাহ সহকারে নিয়ে আসছেন কিন্তু যেই ছেলেরা একটু শিখছে বা  খেলাটাকে  রপ্ত করছে  তখন তার মধ্যে কেউ কেউ ছেলেদেরকে বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। আবার বেশীর ভাগই একটু বড় হলেই ক্লাস এইট নাইনে উঠলেই পড়াশোনার মধ্যে এত মনোনিবেশ করিয়ে দিচ্ছেন তাদের ছেলেদের  খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছে এটা একটা মূল কারণ। পরিকাঠামোর অভাব প্রসঙ্গে প্রথমে স্বীকার না করলেও মাঠের অভাবের কথা তিনি স্বীকার   আমরা এ ব্যাপারে প্রশাসনিক লেভেলে এরআগেও যোগাযোগ করেছি বিকল্প মাঠে সন্ধানে  কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি।  

NewsDesk - 2

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news