উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর

দক্ষিন দিনাজপুরের বিভিন্ন স্কুলে মিড ডে মিল বন্ধ, শিক্ষকদের বেতন অমিল অভিযোগের কাঠগড়ায় জেলা স্কুল দপ্তর

দক্ষিন দিনাজপুরের বিভিন্ন স্কুলে মিড ডে মিল বন্ধ, শিক্ষকদের বেতন অমিল অভিযোগের  কাঠগড়ায় জেলা স্কুল দপ্তর

পীযুষ দাস, বালুরঘাট, 9 আগস্টঃ প্রায় দুই মাস বন্ধ মিডডে মিল, এমনকী বন্ধ হয়ে  রয়েছে শিক্ষকদের বেতনওটিচার ইন চার্জপদে কোনও শিক্ষক দায়িত্ব নিতে রাজী না  হওয়ায় প্রধান শিক্ষক বিহিন বালুরঘাটের চককাশী শ্যামসুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়ের এমন ঘটনা ঘটে চলেছে  জেলা স্কুল দপ্তর অথবা জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের বিষয়টি জানা থাকলেও স্কুল শিক্ষকরা রাজি না হওয়ায় সমস্যা মেটেনি বলে জানা গিয়েছেতবে আগামী সপ্তাহে ফের একবার ওই স্কুলের সমস্যা মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে জেলা স্কুল দপ্তর এর তরফ থেকে জানা গেছেশিক্ষক প্রশাসনের এই টানাপোড়েনের জেরে কিন্তু ভুখা পেটেই ক্লাস করতে হচ্ছে ওই স্কুলের পড়ুয়াদের

    এদিকে এদিন থেকেই চিঙ্গিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সানাপারা এসসি হাইস্কুলেও মিড ডে মিল বন্ধ হয়ে গিয়েছেএদিন ওই  মিডডে মিল বন্ধ করে দেওয়ার তথ্য জানিয়ে বিডিও সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক পার্থপ্রতিম কুন্ডুতার অভিযোগ, গত একমাস ধরে স্কুলের প্রশাসক তথা এস আই মিডডে মিলের চেক সইএর সময় পাচ্ছেন নাএই উদাসীনতার কারনেই  এদিন থেকে মিড ডে মিল বন্ধ হয়ে গেল স্কুলে বলে দাবি পার্থবাবুরএই ইস্কুলের এর ফলে এই বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে তিনশ ছাত্রছাত্রীকে ভুখা পেটেই ক্লাস করতে হবে বলে জানান প্রধান শিক্ষকতিনি বলেন ছায়া বারবার আবেদন জানিয়ে এবং কমপক্ষে নালিশ জানিয়েও সমস্যার সমাধান হয় না হওয়ায় এদিন মিড ডে মিল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি

      সানাপাড়ার চেয়েও সমস্যা বেশি জটিল হয়ে রয়েছে বালুরঘাট ব্লকের জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের চককাশি শ্যামসুন্দর হাইস্কুলেস্কুলটিতে ২৫০রও বেশি ছাত্রছাত্রী রয়েছেমিডডে মিলের বাসনপত্র, রান্নাঘর সহ সমস্ত পরিকাঠামো থাকলেও, স্কুলে এসে ভুখা পেটেই পড়াশুনা করতে হচ্ছে পরুয়াদেরএমনকি শিক্ষকদেরও খালি পকেট দশা তাদেরও প্রায় তিন মাস ধরে বেতন মিলছে না

জানা গেছে, গত জানুয়ারি মাসে বিদ্যালয়ের স্থায়ী  প্রধানশিক্ষক অবসর গ্রহন করেন  তারপর থেকেই ওই বিদ্যালয়ে জটিলতা শুরু হয়ওই সময় যিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন মাস কয়েক থাকার পরেই ওই দায়িত্ব ছেড়ে দেন  এরপর থেকেই ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিতে কোন শিক্ষক শিক্ষিকা রাজি হচ্ছেন নাএর ফলে ওই স্কুলে তৈরি হয়েছে জটিলতামূলত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক থাকাকালীন সময়েই পরিচালন সমিতির  সঙ্গে ঝামেলাতেই ওই বিদ্যালয়ের খাতাপত্রে বিস্তর গরমিল, আদালতে মামলা ইত্যাদি সমস্যা হয়ে রয়েছেফলে নতুন করে ওই সমস্যা গুলি ঘাড় পেতে নেবার মতো শিক্ষক ওই বিদ্যালয়ে প্রায় নেই বললেই চলে  শিক্ষকই কোনো প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিতে না চাওয়াতেই তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা

প্রধানশিক্ষকের চেয়ারে কেও না থাকায় শিক্ষকদের বেতন বনধ হয়ে গিয়েছেপাশাপাশি বন্ধ হয়ে গিয়েছে মিডডে মিলওঅচলাবস্থা কাটাতে প্রশাসনের দারস্ত হয়েও  কোনও সমাধান সূত্র না মেলায় স্কুলের অচলাবস্থা আজও কাটেনি

শিক্ষক প্রশাসনের এই টানাপোড়েনের জেরে স্কুলে মিড ডে মিল বন্ধ থাকায় অভিবাবকরা যেমন ক্ষুব্ধ, তেমনি পড়ুয়ারাও কার্যত অসহায় অবস্থায় রয়েছে

 

পরুয়া জিত বর্মন,অনিতা রায় জানান সব স্কুলেই দুপুরের খাবার পাওয়া গেলেও, আমাদের স্কুলে মেলে নাকেন  খাবার দেওয়া হয় না তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিনা

স্কুলের শিক্ষিকা রিতা দাস বলেন আমার শরীর খারাপ থাকায় আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান  শিক্ষিকার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিএরপর থেকেই স্কুলে কোন শিক্ষক শিক্ষিকা ওই পদের দায়িত্ব নিতে চাইছেন না বিষয়ে সমস্যার সমস্যার কথা জানিয়ে স্কুল দপ্তর জেলা প্রশাসনসহ সমস্ত কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও আজও সমাধান হয়নি

জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক মৃনাল কান্তি সিংহ রায় বলেন স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারাই এই সমস্যা তৈরি করে রেখেছেনকেউই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব নিতে চাইছেন নাএর ফলে জটিলতা কাটছে নাতবে খুব শীঘ্রই স্কুলের সমস্যা মেটাতে উদ্যোগ নেওয়া হবে

Kartik Pal

aappublication@gmail.com

english bazar Reporter

Post your comments about this news