জেলার অ্যাথলেটিক্সে আর্থিক সহায়তার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে বহু প্রতিভাবান খেলোয়াড় - Newsbazar24
অন্য খেলা

জেলার অ্যাথলেটিক্সে আর্থিক সহায়তার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে বহু প্রতিভাবান খেলোয়াড়

জেলার অ্যাথলেটিক্সে আর্থিক সহায়তার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে বহু প্রতিভাবান খেলোয়াড়

মালদাঃ আজ থেকে প্রায় তিরিশ বছর আগে মালদা জেলাতে সেইরকমভাবে অ্যাথলেটিক্সের চর্চা ছিল না কিন্তু পরবর্তীকালে জেলার কিছু কিছু স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষকদের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে আস্তে আস্তে জেলায় নিয়মিত অ্যাথলেটিক্সের চর্চা শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যে বেশ কিছু সফলতা এসেছে।  পাশাপাশি কিছু নতুন প্রতিভা উঠে আসছে কিন্তু একটা আক্ষেপ রয়েছে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ,  পরিকাঠামো এবং আর্থিক অসচ্ছলতা এক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে তাই এটা দেখা যাচ্ছে যে ছেলে মেয়েগুলো যে আশা নিয়ে এই অ্যাথলেটিকসে এগিয়ে আসছিল তারা অল্প সময়ের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক সময় তাদেরকে সংসারের হাল ধরতে হচ্ছে বলেই হয়তো  এটা ঘটছে বলে অনেকের অনুমান। তবে এখানে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে কিছু কিছু স্কুল এবং তার সাথে কিছু কিছু অ্যাথলেটিক্সে প্রশিক্ষকদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ এর ফলে অনেক ক্ষুদে প্রতিভার উন্মেষ ঘটছে। এবং তাদের হাত ধরে সফলতা আসছে ওই  খেলোয়াড়দের তাদের অভিভাবকরাও বুঝতে পারছেন তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়মিত মাঠে পাঠাতে হবে এবং তাদের মধ্যে একটা আগ্রহ  জাগাতে  হবে এই অ্যাথলেটিক্সের প্রতি এটা কিন্তু জেলার পক্ষে একটা ভালো দিক বিদ্যালয়  স্তর থেকে জেলা স্তর, জেলা স্তর থেকে রাজ্যস্তরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছেজেলা ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই রাজ্য স্তর জাতীয় স্তরে সাফল্য লাভ করেছে  ইংরেজবাজার ব্লকের ফুলবেড়িয়া অঞ্চলের দীর্ঘ প্রায়  ৩০  বছর ধরে চলা  সেবাশ্রম অ্যাথলেটিক্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নগরিয়া হাই স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক  পুলক ঝা  প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালান। এখান থেকেই ইতিমধ্যে বহু খেলোয়াড় জাতীয় স্তরে সাফল্য লাভ করেছে এখনো সাফল্যের শীর্ষে রয়েছে রিম্পা খাতুন ,শিখা মন্ডল, অরিন্দম ঝা  এবং পূজা মন্ডলের মত ছেলেমেয়েরা তারা রাজ্য স্তর থেকে জাতীয় স্তর এবং পূর্বাঞ্চলীয় খেলায়  সাফল্য লাভ করেছে রিম্পা খাতুন জ্যাভলিন থ্রো এবং অরিন্দম  ঝা ডিসকাসে রাজ্য ও  পূর্বাঞ্চলে সাফল্য লাভ করেছে এ  ছাড়াও  শিখা মন্ডল সুজন ঘোষ  ৩০০০  মিটার দৌড়ে রাজ্য স্তর এবং পূর্বাঞ্চলীয় খেলায় সাফল্য লাভ করে  জাতীয় স্তরে খেলায় অংশগ্রহণ করছে এদের  দেখে  উঠে আসছে অনূর্ধ্ব ১৪ বিভাগের ছেলেমেয়েরা এর মধ্যে রয়েছে শিবু ঘোষ শিপ্রা মন্ডলের  এর মত   প্রতিভাবান খেলোয়াড়েরা।  এরা  ইতিমধ্যেই জেলার খেলাতেও সাফল্য পেয়েছে জেলার  এক প্রান্তে কোচিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালান মানষ রায় বর্মণ, সুদাম ঘোষ ও শেখর চৌধুরীর মতো ক্রীড়া শিক্ষকরা তাদের  কোচিং সেন্টার ‘প্রতিভার সন্ধানে’ থেকে ইতিমধ্যে রাজ্যস্তর এবং পূর্বাঞ্চলীয় খেলায়  লাভ করেছে সপ্তমী মন্ডল , সানারুল ইসলাম, তিলক মণ্ডল ও  আলপনা মন্ডল সহ আরো অনেকে সপ্তমী মন্ডল ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে  পূর্বাঞ্চলীয় স্তরে  সাফল্য লাভ করেছে পাশাপাশি জাতীয় স্তরে খেলায় অংশগ্রহণ করছে সপ্তমী  মন্ডল জানান বিগত ২০১৪  সাল থেকে মূলত আমার স্কুলের  শিক্ষকদের উদ্যোগে এই  প্রশিক্ষন কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিতে আসি প্রথম  ২০১৫  সালে ৩০০০মিটারে রাজ্যস্তরে প্রতিযোগিতায় সাফল্য এবং ইতিমধ্যে পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়েছি জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় খেলায় অংশগ্রহণ করেছি।  আগামী দিনে আমার ইচ্ছা রয়েছে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতায় সাফল্য লাভ করা এই প্রশিক্ষন কেন্দ্র  থেকে ইতিমধ্যে  সানারুল  ইসলাম লংজাম্পে আলপনা মন্ডল  ১৫০০ মিটার ২০০০ মিটার দৌড়ে এবং তিলক মণ্ডল ৫০০০ মিটার দৌড়ে সাফল্য লাভ করেছে। এদের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে আসছে  অনূর্ধ্ব 14 বিভাগের বলরাম মন্ডল কেয়া রায়ের মত আরো অনেক খেলোয়াড়েরা তারা  ইতিমধ্যে জেলায় সাফল্য পেয়ছে দেখা যাচ্ছে দুটো প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অধিকাংশ ছেলেমেয়েরা  উঠে আসছে  গরিব ঘরের পরিবার থেকে, তাই জেলার অ্যাথলেটিক্সের মানোন্নয়ন করতে গেলে এই আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া খেলোয়াড়দের পাশে প্রশাসনকে আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে  অনেক ছোট ছোট ঘটনা যেগুলো খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় পাশাপাশি এই ছেলেমেয়েরা পড়াশোনার ক্ষেত্রে তেমন বিশেষ সাফল্য লাভ করতে পারে না তাই তাদেরকে পিছিয়ে আসতে হয।  সেই জায়গাগুলো থেকে তাদেরকে বের করে নিয়ে আসতে গেলে  দরকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষকদের উদ্যোগ  

এব্যাপারে প্রশিক্ষক মানষ রায়  বর্মন জানান যে এখানে যে সমস্ত ছেলেমেয়েরা প্রশিক্ষণ নিতে আসে তারা মূলত দরিদ্র পরিবারের তাদের কাছে বিনোদনের আধুনিক উপকরণ কম থাকাতে তারাই খেলাটাকে বিনোদনের একটা অঙ্গ হিসেবে ধরে নিয়ে এই খেলার দিকে এগিয়ে আসছে।  বর্তমানে এদের মধ্যে আগ্রহ খুবই লক্ষ্য করা যাচ্ছে তবুও অনেক প্রতিভা হারিয়ে যাচ্ছে পারিবারিক সমস্যা সহ নানান  কারণ রয়েছে।  আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রতিভা গুলোকে ধরে রাখার। আর এক প্রশিক্ষক পুলক ঝা  বলেন এদেরকে আধুনিক মানের প্রশিক্ষণ দিতে না পারার জন্য এরা পিছিয়ে যাচ্ছে।  সেটাকে যদি আমরা পূরণ করতে পারি তাহলে আগামী দিনে আরো বেশি বেশি করে ক্রীড়া প্রতিভা উঠে আসবে।  এই প্রতিভা গুলোকে ধরে রাখার জন্য  এদের সামনে আরো সুযোগ সুবিধা তৈরি করা দরকার। অভিভাবকরাও সুযোগ চায়। ছেলেমেয়ে গুলোকে আমারা যদি খেলার সামগ্রী পড়াশুনার সামগ্রী এবং কিছু পুষ্টিকর খাবার তুলে দিতে না  পরি  তাহলে তাদের ধরে রাখা মুশকিল। এই কাজে  সরকার  ও এবং বিভিন্ন ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে।আমরা আমাদের সামরথ অনুযায়ী করে যাচ্ছি। কিন্তু যদি তাদের সামনে সঠিক সুযোগ সুবিধার লক্ষ তৈরী করে না দিতে পারি তাহলে জেলার এই প্রতিভা গুলোকে আমরা ধরে রাখতে পারব না।

NewsDesk - 3

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news