ছোট গল্প -"অনুভূতি"- @সন্দীপ চক্রবর্তী - Newsbazar24
সাহিত্য

ছোট গল্প -"অনুভূতি"- @সন্দীপ চক্রবর্তী

ছোট গল্প -"অনুভূতি"-   @সন্দীপ চক্রবর্তী

"অনুভূতি"- 

@সন্দীপ চক্রবর্তী  

 আকাশ তো দু মাস ধরেই ঝকঝকে।কান ঝালাপালা করা হর্নের আওয়াজ-ও শুনতে হয় নি অনেক দিন।কংক্রিটের শহরে পাখির ডাক ও শোনা যাচ্ছে আজকাল। কার্তিক দার মুখেও হাসি উপস্থিত।হঠাৎ-ই বাজারে দেখা।জৈষ্ঠ্য মাসের গরম।ঘাড়ে গলায় পাউডার দিয়ে,একটা হালকা ঘিয়ে রঙের ফতুয়া আর সাদা পায়জামা চাপিয়ে দাদা বাজারে হাজির।একটা যাকে বলে ফুরফুরে ভাব।লকডাউন আনলক হতে শুরু করেছে যে।সে হোক গে।

         বাজারে যেখানে লাইন দিয়ে খাসি,মুরগি কাটা হয়, সেখান দিয়েই বাজারে ঢুকছিলাম এক পরিচিত মুদির দোকানে যাব বলে।দেখা হয়ে গেল কার্তিক দার সাথে।কার্তিক দা তখন খুব ব্যস্ত।গলা উঁচিয়ে দেখাচ্ছে কোন্ খাসিটাকে এখন জবাই করে পছন্দের জায়গা থেকে মাংস দিতে হবে।মাস্ক পরা মুখের চিৎকার বাজারের আর এক কোণে পৌছে যায় প্রায়।

        হাতের ভর্তি ক্যারিব্যাগে এদিকে রক্তের দাগ।আমি একটু অবাক হয়ে তাকাতেই বললো, "আর বলিস না, দুটো বাচ্চা টিল্লি মুরগিও কাটালাম।একদম বাচ্চা।দারুন টেস্ট হবে পাতলা ঝোলের সাথে। ফ্রিজে রেখে দেব।বারবার বাজারে আসা মুশকিল।হ্যাঁ রে শুনেছিস,খবরটা?কেরালার জঙ্গলের ঘটনাটা?মানুষ কি নৃশংস, না রে?অসহায় হাতিটাকে কি ভাবে মারলো!খাবারের মধ্যে বোমা দিয়ে।সত্যি রে, মানুষের না কোনো দয়া মায়া নেই।"

      আমি কিছু বলতে যাব,ঠিক তখনই টার্গেট খাসিটার গলায় পড়ে গেছে চকচকে ছুরির কোপ।বইতে শুরু করেছে রক্তের স্রোত।শেষ চিৎকার আর আছাড়ি বিছাড়ি ছটফটানিতে বাকি খাসিগুলোও হঠাৎ পরিত্রাহি চিৎকার শুরু করলো।মুহূর্তের মধ্যে পরিবেশটাই পালটে গেল এখানে।

       কার্তিকদা তার মধ্যেই গলা উঁচিয়ে বলে চলেছে কোন্ কোন্ জায়গার মাংস ওর চাই-ই চাই।রাং, সিনা ইত্যাদি ইত্যাদি জায়গার মাংস না হলে কিমা কষা জমবে না। দুজন চেপে ধরে আছে খাসিটাকে শেষ নিঃশ্বাস না বের হওয়া অব্দি।একটু দূরের মুরগিগুলোও অদ্ভুত শব্দ করে উঠলো। আমি ইশারায় জানালাম,"আসছি।হাতির ব্যাপারে পরে কথা হবে।"



NewsDesk - 2

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news