চণ্ডীপাঠ কিভাবে করবেন ? কিভাবে শুনবেন ? শুনুন সংক্ষিপ্ত চণ্ডীপাঠ - Newsbazar24
ধর্ম কথা

চণ্ডীপাঠ কিভাবে করবেন ? কিভাবে শুনবেন ? শুনুন সংক্ষিপ্ত চণ্ডীপাঠ

চণ্ডীপাঠ কিভাবে করবেন ? কিভাবে শুনবেন ? শুনুন সংক্ষিপ্ত চণ্ডীপাঠ

news bazar24

শ্রীশ্রীচণ্ডী বা দেবীমাহাত্ম্যম্ বা দুর্গাসপ্তশতী হিন্দু শাক্তদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ। দুর্গাপূজা সহ একাধিক অনুষ্ঠান বিশেষ করে কালিপুজায় চণ্ডীপাঠ অবশ্য করণীয়। কিন্তু ৭০০ শ্লোকবিশিষ্ট এই বিশাল গ্রন্থটি একবারে পাঠ করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। প্রাচীন শাস্ত্রগুলিতে একদিনে একবার বসে পূর্ণাঙ্গ পাঠেরই বিধান দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিধান সকাম পূজকের জন্য (মানে, যিনি বিশেষ কোনো ফলকামনায় চণ্ডীপাঠ করছেন)। যিনি নিষ্কাম দেবীভক্ত, তাঁর জন্য নিয়মের বাঁধন আলগা, একথা তন্ত্রে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। ভারতের নানা প্রান্তে নিষ্কাম দেবীভক্তেরা দেবীপ্রীতির জন্য কিভাবে চণ্ডী পারায়ণাদি করে থাকেন, তার নিয়মগুলি এখানে লিখছি। দেবীভক্তেরা নিজ নিজ সুবিধা মতো একটি পদ্ধতি বেছে নেবেন। তবে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে মুল চণ্ডীপাঠের সংক্ষিপ্ত আকার দিচ্ছেন অনেক পুরোহিতরা ।এমনই এক সংক্ষিপ্ত চণ্ডীপাঠ নিজের গলায় পাঠ করছেন মালদা শহরের স্বর্গীয় পুরোহিত বিজয় রায়ের নাতী দেব রায়। যদিও এই চণ্ডীপাঠ ইতিমধ্যে ভালো জনপ্রিয়তা পেয়েছে। দুর্গাপূজায় অনেক মণ্ডপে মণ্ডপে বেজেছে  তরুণ পুরোহিত দেব রায়ের চণ্ডী পাঠ। যদিও দেব রায় এর বক্তব্য, মানুষের সময় কম, দীর্ঘ সময় ধরে চণ্ডীপাঠ কেও শুনতে চায়না। তবে যাদের সময় ও ইচ্ছে আছে তাঁরা পুরো চণ্ডী পাঠ করবেন বা শুনবেন।

কি করে করবেন সম্পূর্ণ চণ্ডীপাঠ- ?

 প্রথমে পঞ্চোপচার বা দশোপচারে শ্রীশ্রীচণ্ডীদেবীর পূজা করবেন। চণ্ডীপূজাবিধি বাজারে প্রচলিত চণ্ডীপুস্তকগুলিতে দেওয়া থাকে। অত নিয়ম না মানতে পারলে, একটি ঘটস্থাপন করে ঘরে যেমন করে ফুল-বেলপাতা-জল-বাতাসা দিয়ে পূজা করেন, তেমনি করবেন। বাকিটা চণ্ডীপাঠের মাধ্যমেই হয়ে যাবে।

 চণ্ডীপাঠ ত্রি-অঙ্গ বা ষড়-অঙ্গ হতে পারে। একদিনে একেবারে বসে ষড়ঙ্গ চণ্ডীপাঠই বিধেয়। কিন্তু এক এক দিনে ভেঙে ভেঙে চণ্ডীপাঠ করলে ত্রি-অঙ্গ পাঠ করলেই চলবে।

 ত্রি-অঙ্গ পাঠের সময় মূল পাঠের আগে প্রথমে বৈদিক দেবীসূক্তম্, অর্গলাস্তোত্রম, কীলকস্তব ও দেবীকবচ পাঠ করবেন। আপনার ঘরে মায়ের সিংহবাহিনী কোনো রূপের ছবি বা মূর্তি থাকলে দেবীবাহন মহাসিংহেরও ধ্যান করবেন। এরপর নবার্ণমন্ত্র জপ করে, তারপর মূল পাঠ করবেন। এই সব মন্ত্র ও স্তোত্র যেকোনো চণ্ডীগ্রন্থে পেয়ে যাবেন।

শুনুন সংক্ষিপ্ত চণ্ডীপাঠ 

তবে  ভাগে ভাগে চণ্ডীপাঠ করলে প্রতিদিন পাঠের পর কুঞ্জিকা স্তোত্র অবশ্য পাঠ করবেন। রামকৃষ্ণ মিশন উদ্বোধন কার্যালয় প্রকাশিত স্বামী জগদীশ্বরানন্দ অনূদিত ও সম্পাদিত শ্রীশ্রীচণ্ডী-তে (পুথি বা পকেট সাইজ নয়, মূল বইটি) কুঞ্জিকা স্তোত্রম্ দেওয়া আছে।

 পুনরায় বলছি, এই সব নিয়ম নিষ্কাম দেবীভক্তদের জন্য, যাঁদের দেবীপ্রীতি ও ভক্তি ছাড়া আর কিছু কামনা নেই তাঁদের জন্য। যাঁরা বিশেষ ফলকামনায় চণ্ডীপাঠ করেন বা ঠাকুরদেবতাদের সঙ্গে ‘Give-and-Take’ সম্পর্ক রাখেন, তাঁরা বিধিমতে পূজা করে ষড়ঙ্গ চণ্ডীপাঠই করবেন, কোনোভাবেই অঙ্গহীন পূজাপাঠ করবেন নাতাঁদের জন্য নান্য পন্থা বিদ্যতেঅন্য পথ নেই। তথ্য- বঙ্গভারতী

NewsDesk - 2

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news