গুরু পূর্ণিমার তাৎপর্য - Newsbazar24
ধর্ম কথা

গুরু পূর্ণিমার তাৎপর্য

গুরু পূর্ণিমার তাৎপর্য

 

!!গুরু পূর্ণিমার তাৎপর্য!!                                           

     ডক্টর রাধা গোবিন্দ ঘোষ                                                                                     

 (রাষ্ট্রপতি পদক প্রাপ্ত  বঙ্গরত্ন)                                              

 গৃ+ ক যোগে  গুরু শব্দের সৃষ্টি ধর্মোপদেষ্টা,  মন্ত্রোপদেষ্টা,  আচার্য অর্থে গুরু শব্দের প্রয়োগ ভারতীয়  সংস্কৃতিতে  গুরুর স্থান অতি উচ্চে।  গুরু মাতার মত লালন করেন আবার পিতার মত সৎ পথের সন্ধান দেন মাতৃবৎ লালায়িতা পিতৃবৎ মার্গদর্শিকা”?  পিতা মাতা  সুহৃৎ- বন্ধু, বিদ্যা- বুদ্ধি, তীর্থ এবং দেবতা কেউই গুরুর সমতুল্য নন  একমাত্র গুরুই  তৎস্বরুপ দর্শন করাইতে পারেনপিতৃ- মাতৃ- সুহৃৎ- বন্ধু,  বিদ্যা তীর্থামি  দেবতা ন তুল্যং গুরুনা শাস্ত্রং স্পর্শয়েৎ. পবমং পদম”।  গুরু কে সৃষ্টি, স্থিতি এবং পালনকর্তা ব্রহ্মা-বিষ্ণু-  এবং মহেশ্বরের  সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে পরমব্রহ্ম বলে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে গুরুর্ব্রহ্মা, গুরু র্বিষ্ণ গুরুর্দেবো  মহেশ্বর গুরুরেব  পর  ব্রহ্ম তস্মৈ  শ্রী গুরুবে নমঃ”।  মন্ত্র যেমন সত্য, পূজা যেমন সত্য ,দেব নিরঞ্জন যেমন সত্য, তেমনি গুরুর বাক্য সর্বদা সত্য,  তার পরমস্যরূপ সত্য  ও৺ মন্ত্র ত্যং  পূজা ত্যং ত্যং দেব নিরঞ্জনঃ । গুরোর্বাক্যং সদা সত্যং সত্যমেব পরং পদম “ গুরুকে প্রণাম জানিয়ে বলা হয়েছে তিনি অজ্ঞান  অন্ধকারচ্ছন্ন ব্যক্তির চক্ষু তত্ত্বজ্ঞানরুপ  কাজল তুলি সহায়ে উন্মীলিত করেন। “ওঁ অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন-শলাকয়া। চক্ষুরুন্মীলতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরুবে নমঃ”।    ভারতীয় সংস্কৃতিতে পূর্ণিমার মাহাত্ম্য অপরিসীম বৈশাখী পূর্ণিমায় ভগবান বুদ্ধের জন্ম আষাঢ়ী পূর্ণিমাবেদব্যাসের জন্ম শ্রাবণী পূর্ণিমায়  হয় ঝুলন মাঘী পূর্ণিমায় ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের জন্ম ফাল্গুনী পূর্ণিমা প্রেমের ঠাকুর শ্রীচৈতন্যের জন্ম আষাঢ়ী পূর্ণিমা যে গুরু পূর্ণিমা পালিত হয় তার কারণ কি?  তার কারণ ব্যাসদেব কে গুরুর গুরু বলে মানা হয়েছে তিনি পরম গুরু আষাঢ় মাসের শুক্লা পূর্ণিমাতে ভারতবর্ষে পরম গুরু মহর্ষি বেদব্যাসের জন্ম গুরু পূর্ণিমা জগদ্বিখ্যাত একে ব্যাসপূজাও  বলা হয়ে থাকে কিন্তু কে এই ব্যাসদেব? ব্যাসদেব হলেন বৈশষ্ট্যের  পৌত্র, পরাশর ঋষির পুত্র ব্যাস এর জন্ম হয়েছিল দ্বীপে।  সেজন্য তার নাম দ্বৈপায়ন তার গায়ের রং ছিল কালোএজন্য তাকে কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বলা হয় পূর্বে বেদের  কোন বিভাগ ছিল নাব্যাসদেব বেদ কে বিভক্ত করেছিলেন এজন্য তাকে বলা হয় বেদব্যাস তিনি ছিলেন জ্ঞানের সাগর, ভক্তির আচার্য এবং বিদ্বত্তের পরাকাষ্ঠা এবং  প্রকাশ এবং অসীম কবিত্ব শক্তির অধিকারী। 

ব্রহ্মসূত্র ব্যাসদেব তৈরি করেছিলেন মহাভারত কে বলে শততম বেদ এই মহাভারত ব্যাসদেব তৈয়ারি করেছিলেন ভক্তি গ্রন্থ ভাগবত পুরাণ ব্যাসদেবের রচনা অপরাপর  ১৭  টি পুরানরও  রচয়িতা ব্যাসদেব বিশ্বে যত ধর্মগ্রন্থ আছে,  কিংবা ধর্মপ আছে তাতে যত কল্যাণকারী উপদেশের কথা বলা হয়েছে তার কোনো না কোনো মঙ্গলময়  দিক  ব্যাসদেবের শাস্ত্রে উল্লিখিত হয়েছে এজন্যই বলা হয়েছে ব্যাসোচ্ছিষ্টং  জগ সর্বম”। সমগ্র মানবজাতির কল্যা কিভাবে সম্ভব সে সম্বন্ধে ব্যাসদেব  আলোচনা করে গেছেন পিতৃঋণ,  মাতৃঋণ যেমন  আছে তেমনি  ঋষিঋণ আছে ব্যাসদেব  আমাদের জন্য অনেক কিছু করে গেছেন আরাধনা, উপাসনা, শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ভক্তি পুষ্পের মাধ্যমে গুরুদেব কে স্মরনের পথ  গুরু পূর্ণিমার মধ্যে নিহিত ঋষি দের আশীর্বাদ পাওয়ার পথ এই গুরু পূর্ণিমা সংযম,শান্তি ,মাধুর্য এবং পবিত্র জীবনযাপনের সহজ সুন্দর পথ হলো ব্যাসপূর্ণিমা ব্যাস পূর্ণিমা শ্রদ্ধার পর্ব, আস্থার পর্ব, সমর্পণের পর্ব মহাভারত হিন্দুদের পবিত্র এবং অবশ্যপাঠ্য গ্রন্থ আমরা মহাভারতে ধৃতরাষ্ট্র পান্ডু এবং বিদূরের কথা ড়ি। ব্যাসদেব ছিলেন এই তিনজনেরই পিতা অম্বা, অম্বালিকা  এবং বিচিত্রবীর্যের দাসীর সঙ্গে ধৃতরাষ্ট্র , পান্ডু এবং বিদুরের ইতিহাস  অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত জ্ঞান বিজ্ঞানের সাধনা ছাড়া মোক্ষ লাভ হয় না আবার ৎ গুরুর সঙ্গে  সম্বন্ধ লাভ ছাড়া প্রকৃত জ্ঞান প্রাপ্তি সম্ভব নয় ভবসাগর থেকে উত্তরণের নির্দেশ গুরু বলে দেন গুরু কর্তৃক নির্দেশিত বাণী সংসার সাগর থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ তাহলে এই গুরু কে?  বলা হয়েছে “গরতি সিঞ্চতি কর্ণয়ো জ্ঞানামৃতম  ইতি গুরু’।  অর্থাৎ যিনি শিষ্যের কানে জ্ঞান রূপ অমৃত সিঞ্চন করেন, তিনি গুরুআবার বলা হয়েছে  “গিরতি অজ্ঞান  অন্ধকার ইতি গুরু”। অর্থাৎ যিনি সদুপদেশের  মাধ্যমে শিষ্যের অজ্ঞান রূপ অন্ধকার দূর করে দেন তিনি গুরু অথবা “গারয়তে বিজ্ঞাপয়তি  শাস্ত্র রহস্যম্  ইতি গুরুঃ”। অর্থাৎ যিনি বেদ প্রভৃতি শাস্ত্র রহস্য উদঘাটন করে দেন তিনি গুরু মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্য  সত্যই বলেছেন “উপনীয় গুরু শিষ্য  মহাব্যাহৃতি  পূর্ব কম। বেদ মধ্যাপয়েদেনং শৌচাচারাং শ্চ  শিক্ষয়েৎ” (যাজ্ঞবল্ক্যস্মৃতি ১/২/১৫)

 

NewsDesk - 3

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news