শিক্ষা ও পেশা

ক্যারিয়ার প্ল্যানিং: কি ভাবে করবেন ? জেনে নিন যেভাবে সহজেই লক্ষ্য পূরণের পরিকল্পনা করবেন !

ক্যারিয়ার প্ল্যানিং: কি ভাবে করবেন ? জেনে নিন যেভাবে সহজেই লক্ষ্য পূরণের পরিকল্পনা করবেন !

ক্যারিয়ার প্ল্যানিং: কি ভাবে করবেন ? জেনে নিন যেভাবে সহজেই লক্ষ্য পূরণের পরিকল্পনা করবেন !

এর আগে আমরা দেখেছি যে ক্যারিয়ার প্ল্যানিং এ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নকশা তৈরি করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। চলুন এখন দেখে নেয়া যাক ক্যারিয়ার প্ল্যানিং এ লক্ষ্য পূরণের জন্য কীভাবে আমরা এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নকশা তৈরি করব-

অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন:

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নকশা তৈরির পূর্বে সবচেয়ে ভালো কাজ হচ্ছে আপনার ক্ষেত্রের যারা অভিজ্ঞ আছেন তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে, আপনি যদি কোনো বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করে থাকেন তবে যারা ইতিমধ্যে সে বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে ফেলেছেন এবং বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছেন তাদের কাছ থেকে আপনি পরামর্শ নিতে পারেন। আবার আপনি চাকুরিজীবী হলে আপনার কর্মক্ষেত্রে যারা আপনার অনেক আগেই যোগদান করেছেন তাদের কাছে আপনি অভিজ্ঞতা ধার নিতে পারেন।

আপনার ক্ষেত্রের অভিজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ নিলে, তাদের অভিজ্ঞতার কথা শুনতে চাইলে সেগুলো অনুসরণ করে আপনিও আপনার কাজে বেশ অভিজ্ঞ হয়ে দক্ষতার ছাপ রাখতে পারবেন। এই কাজটির মাধ্যমে অনেকে তাদের নিজস্ব ক্ষেত্রে সেরা দশজনের একজন হতে পেরেছেন বলে দাবি করেন। অভিজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ নিলে আপনার কার্যকরী অভিজ্ঞতা বাড়বে এবং কীভাবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নকশা তৈরি করতে পারবেন তা আপনি বুঝতে পারবেন।

অভিজ্ঞদের সনাক্ত করুন

আপনি যে ক্ষেত্রে আছেন, সেই ক্ষেত্রের সবচেয়ে ভালো এবং অভিজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে শুধু আপনার প্রতিষ্ঠানের নয় বরং ঐ ক্ষেত্রে সব ধরণের প্রতিষ্ঠানের যারা ভালো আছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের পরামর্শ নেয়ার চেষ্টা করুন। আপনি যদি কোনো বিষয়ের শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন, তবে আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্য যেকোন প্রতিষ্ঠানের একই বিষয়ের ভালোদের পরামর্শ নেয়ার চেষ্টা করুন। আবার আপনি যদি কোনো একটি কোম্পানিতে চাকরিরত অবস্থায় থাকেন তবে আপনার ক্ষেত্রে অতীতে অনেক ভালো করেছেন কিংবা অনেক অভিজ্ঞতা আছে এমন কারোর সাথে যোগাযোগ করে পরামর্শ নেয়ার চেষ্টা করুন। তা সে আপনার কোম্পানিরই হোক কিংবা অন্য কোম্পানির। এতে করে একইসাথে আপনার পরামর্শ নেয়াও যেমন হবে তেমনি তাদের সাথে যোগাযোগের ফলে আপনার যোগাযোগের দক্ষতাও বাড়বে। আর যোগাযোগের দক্ষতা যে ক্যারিয়ার প্ল্যানিং এর জন্য কত বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা আগের পর্বে ৭০-২০-১০ মডেলে দেখেছি।

আপনার ক্ষেত্রের যাদেরকে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, পরিশ্রমী ও সফল বলে মনে হয় তাদেরকে সনাক্ত করে ফেলুন।

সাক্ষাৎকার এর জন্য অনুরোধ করুন

অল্প কিছুদিন আগেও আমাদের দেশে একজন আরেকজনের সাথে দেখা করার জন্য কত ঝামেলা পোহাতে হতো তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এখন প্রযুক্তির ব্যবহার এত পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে যে, একজন আরেকজনের সাথে দেখা করা এখন কোনো ব্যাপারই না। কারোর সাথে সাক্ষাৎকার এর দরকার হলে তাকে ই-মেইল এ জানিয়ে দিন যে তার সাথে আপনি দেখা করতে চান। এ ব্যাপারে তার সম্মতি আছে কিনা তা জেনে নিন। আর দেখা করার সময় বা সুযোগ না হলে অডিও বা ভিডিও কল এর সুযোগ তো থাকছেই।

তাদের মতামত জানতে চান

তাদের সাথে যোগাযোগের সময় জিজ্ঞেস করুন যে তাদের মতে সর্বোচ্চ গুণ বা দক্ষতার জন্য কোন কার্যকরী দক্ষতাগুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিংবা তাদের মতে ঠিক কোন গুণগুলো একজনের সিভিতে থাকা উচিৎ। এছাড়া তারা তাদের জীবনে ঠিক কোন কোন গুণগুলোকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন সেগুলোও শুনে নিতে পারেন।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নকশা: 

অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎকারের সময় নোট নিন। পরবর্তীতে সেই নোটগুলো দেখে তারা কী কী বলেছেন তা মনে করার চেষ্টা করুন এবং তারা যে অভিজ্ঞতাগুলোর কথা বলেছেন সেগুলো আলাদা করে সাজিয়ে লিখে ফেলুন। সবার কাছ থেকে যে অভিজ্ঞতাগুলোর কথা জেনেছেন, আপনার ক্যারিয়ার প্ল্যানিং এ সেই সবগুলো অভিজ্ঞতাই যে কাজে লাগবে কিংবা দরকার হবে এমন কোনো কথা নেই। আপনার লক্ষ্য পূরণে যে অভিজ্ঞতাগুলো ক্যারিয়ার প্ল্যানিং এর জন্য সবচেয়ে বেশি সাহায্যকারী হবে সেগুলো বেছে নিতে হবে।

এমনকি আপনি যদি উদ্যোক্তা হতে চান তবে যারা ইতিমধ্যে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করা শুরু করেছেন তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিন। সেক্ষেত্রে তাদের ব্যবসার উৎপাদন, উত্থান-পতন কিংবা কীভাবে বিভিন্ন দলকে পরিচালনা করতে হয় সেই অভিজ্ঞতাগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন। সেগুলোকে পরে যখন যেভাবে লাগে সেভাবে কাজে লাগাতে পারবেন।

দক্ষ বা অভিজ্ঞ হওয়ার জন্য আপনাকে যে কার্যকরী অভিজ্ঞতাগুলো অর্জন করতে হবে সেগুলো আপনার ক্ষেত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। কিন্তু ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতাগুলো সবক্ষেত্রেই একই রকম থাকে। আলাদা আলাদা পেশা বা ক্ষেত্র যাই হোক না কেন একজন ব্যবস্থাপকের প্রায় একইরকম অভিজ্ঞতার দরকার হয়। যে কাজই করতে যাওয়া হোক না কেন ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতাগুলো প্রায় একইরকম হয়। যে ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতাগুলো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নকশা তৈরিতে কাজে লাগতে পারে-

জীবনচক্র অভিজ্ঞতা:

কোনো প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ক্ষেত্র পরিচালনা করা প্রতিষ্ঠানের বিপর্যয়, নতুন কোনো উদ্যোগ নেয়া, স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নেয়া ব্যবস্থা, প্রতিষ্ঠানের একটি উন্নয়নশীল অথবা পরিণত বাজার ব্যবস্থা পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা।

পরিচালনার অভিজ্ঞতা:

একটি নিম্নমানের দলকে পরিচালনা করে তার মানোন্নয়ন করা, একটি বড় দল পরিচালনা করা, এমন কোনো একটি দল পরিচালনা করা যেখানে প্রভাবিত করা গেলেও কর্তৃত্ব নেই এবং অনেক বেশী রাজনৈতিক পরিবেশে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতা।

ভৌগলিক অভিজ্ঞতা:

নিজ দেশের বাইরে অন্য কোনো দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা যেখানে ভাষা, সংস্কৃতি, আবহাওয়াসহ অনেক কিছুতেই মিল নেই।

আপনি চার থেকে সাতটির মত কার্যকরী অভিজ্ঞতা এবং তিন বা চারটি ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতা ঠিক করুন। যেগুলো আপনার ক্যারিয়ার প্ল্যানিং এ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব রাখবে বলে আপনি মনে করেন। এই অভিজ্ঞতাগুলোকে আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নকশায় যোগ করুন। এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নকশাটিকে আপনার এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন সেটি দেখে আপনি নিয়মিত আপনার বিকাশ ও অগ্রগতির পরিকল্পনা করতে পারেন।

বলা হয়ে থাকে যে, মানুষ তার চিন্তার মতই বিশাল এবং শক্তিশালী। আপনি যদি ক্যারিয়ারে লক্ষ্য পূরণ করতে চান সেক্ষেত্রেও এই কথাটি অনুসরণ করা যেতে পারে। কেননা লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রথমেই আপনাকে যে কাজটি করতে হবে সেটি হচ্ছে আপনার চিন্তা স্থির করতে হবে যে আপনি কতটা দক্ষতার সাথে কাজ করতে চান, কত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করে লক্ষ্যে পৌঁছাতে চান। আপনি যদি আপনার চিন্তা সঠিকভাবে স্থির করে ফেলেন, তবে আপনি শত বাধা আসলেও আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন।

আর এর জন্য আপনাকে হয়ত আশেপাশের অন্যদের চাইতে একটু বেশিই পরিশ্রম করতে হতে পারে। হয়ত অনেক সময় রাত জেগে কাজ করতে হতে পারে কিংবা আপনার অনেক পছন্দের কাজ বাদ দিতে হতে পারে। এমনকি অনেক সময় হয়ত বন্ধুদের সাথে আড্ডা কিংবা পরিবারের সাথে অতিরিক্ত সময় দেয়ায় কিছুদিনের জন্য বিরতি দিতে হতে পারে।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নকশা তৈরি করে লক্ষ্য পূরণের জন্য আপনাকে এই নকশা অনুসরণ করতে হবে। আপনি যখন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কোনো কাজ করে সেটির একটি উন্নতমানের ফলাফল নিয়ে আসবেন তখন আপনার বেশ ভালো একটি অভিজ্ঞতা হবে। আপনাকে হয়ত অনেক রকমভাবে দক্ষতার সাথে কাজ করে কোনো কাজ শেষ করতে হতে পারে। সেই কাজ শেষ করতে গিয়ে ভালো কিংবা খারাপ যেকোন ধরণের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন আপনি হতে পারেন যেগুলো পরবর্তীতে আপনার লক্ষ্য পূরণের নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। এই দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতাগুলোকে ব্যবহার করার চেষ্টা করুন আপনার লক্ষ্য পূরণের জন্য।

বলা হয়ে থাকে লক্ষ্য পূরণের একটা বিশাল অংশই নির্ভর করে আমরা কীভাবে আমাদের আশেপাশে পরিবর্তন আনতে পারছি। এর জন্য আমাদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে কাজ শুরু করে দিতে হবে। বিখ্যাত বই দ্য মিরাকল মর্নিংএ বলা হয়েছে,

“The degree to which you have the ability to change or create anything is precisely equal to the degree of responsibility you shoulder for everything in your life.”

অর্থাৎ আমাদের আশেপাশে যতকিছু হচ্ছে সেগুলোর মাঝে যত বেশি কিছুর দায়িত্ব আমরা আমাদের ঘাড়ে নেব, তত বেশি আমরা আমাদের আশেপাশে আমরা যা চাই তা ঘটাতে পারব। মানে হচ্ছে আমরা যদি ক্যারিয়ার এর শুরু থেকেই অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে থাকি, তবে আমরা খুব সহজেই আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।

আর আমাদের তৈরি করা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নকশাটি অনুসরণ করে কাজ করে আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণের জন্য ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারব। আর এই নকশাটি অনুসরণ করা হবে আমাদের সময়কে কাজে লাগানোর সবচেয়ে ভালো একটি উপায়। আপনি আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নকশাটি কিছুদিন পর পর পর্যবেক্ষণ করে কাজ করুন। এতে করে আপনি আপনার গন্তব্যের দিকে সঠিকভাবে এগোচ্ছেন কিনা তা জানতে পারবেন। আর পড়াশোনা শেষ করে চাকরিতে ঢোকার আগে অথবা এক চাকরি থেকে অন্য চাকরিতে যাওয়ার আগে আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নকশা দেখে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন কিনা।

দ্রুত আত্মউন্নয়ন করা সহজ নয় ঠিকই, তবে আপনি ক্যারিয়ার এর শুরুটা কোত্থেকে করছেন, কোথায় যেতে চান এবং ঠিক কোন কোন অভিজ্ঞতাগুলোর প্রয়োজন আছে আপনার সেই সিদ্ধান্তগুলো সঠিকভাবে নিয়ে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নকশা তৈরি করে নিলে আপনার এই আত্মউন্নয়নের কাজ অনেক বেশি সহজ হয়ে যাবে। আর সেই সহজ উপায়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে করতে আপনি এগিয়ে যেতে পারবেন আপনার লক্ষ্য পূরণের দিকে।

 

NewsDesk - 2

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news