কোচবিহার জেলা পুলিশের কোচিং ক্লাসের মধ্য দিয়ে ৬২ জন হতদরিদ্র যুবক পুলিশের চাকরিতে সফল - Newsbazar24
শিলিগুরি দার্জিলিং কোচবিহার

কোচবিহার জেলা পুলিশের কোচিং ক্লাসের মধ্য দিয়ে ৬২ জন হতদরিদ্র যুবক পুলিশের চাকরিতে সফল

কোচবিহার জেলা পুলিশের কোচিং ক্লাসের মধ্য দিয়ে ৬২ জন হতদরিদ্র যুবক পুলিশের চাকরিতে সফল

 

Newsbazar 24: কোচবিহার জেলা পুলিশের  সামাজিক প্রয়াসজেলা পুলিশের ডিসপি ট্রাফিক  চন্দন দাসের ব্যাক্তিগত উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে কোচিং ক্লাসের মধ্য দিয়ে কোচবিহারের  ৬২ জন বেকার হতদরিদ্র যুবক কনস্টেবলের চাকরি পেল। স্বাভাবিক ভাবেই খুবই খুশী সফল চাকুরী প্রার্থীরা এবং সাথে সাথে চন্দন  বাবুও। জেলা পুলিশ সূত্রে  জানা যায়  মাস ছয়েক আগে বেশকিছু হতদরিদ্র যুবক কোচবিহার জেলা পুলিশের ট্রাফিক অফিসে এসে আবদার করে যে তাদের কনস্টেবল পরীক্ষার জন্য সাহায্য করতে হবে ডিসপি ট্রাফিক  চন্দন দাস তাদের সাথে  কথাবার্তা বলেন এবং বুতে পারেন যে , তারা পার্সোনালিটি টেস্ট সম্পর্কে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ l  প্রথমে ১০/ ১৫ জনকে নিয়ে  শুরু হল পড়াশুনা ট্রাফিক  অফিসে l সংখ্যাটা বাড়তে বাড়তে দাঁড়ায় ৭২ জনে  l একদিন অন্তর-- অন্তর ট্রাফিক মহাশয় তার নিজের  ঘরে ডেকে নিয়ে শুরু করেন  প্রস্তুতিপর্ব l প্রতিদিন ১৫ থেকে  ২০  জন ছাত্র জল ঝড় মাথায় নিয়ে ঠিক বিকালে  হাজির হতেন ক্লাসে  l অনেকের চোখে হাজারো জিজ্ঞাসা যে সত্যি কোনরকম আলাদা যোগাযোগ ছাড়া পুলিশের চাকরি হবে কিনা  কিন্তু  চন্দন স্যার  তাদের বারবার কাউন্সেলিং করে আশ্বস্ত করেন যে কোচবিহারে  বহু ছাত্র-ছাত্রী শুধুমাত্র নিজের কব্জির জোরে সততার উপর ভরসা করে তারা চাকরি জীবনে প্রতিষ্ঠিত l কোথাও কাউকে এক বিন্দু অনুরোধ পর্যন্ত করতে হয়নি l স্যারের  কথায় হতাশ হয়ে কিছু ফিরে গেল অন্য কারো কাছে  অন্য কোন পথ এর আশায় আর যারা রয়ে গেল তাদেরকে বিশ্বাস করানো গেছে  যে , শুধুমাত্র ফরম ফিলাপ এবং পরীক্ষা দিয়েই সহজেই চাকরি পাওয়া যায় l

প্রত্যেককে আলাদা আলাদা করে মক ইন্টারভিউ নিয়ে তৈরি করতে লাগলেন তিনি l তারা প্রত্যেকে কঠোর পরিশ্রম করে তৈরি হল  এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাথা উচু করে স্যারের সমস্ত নির্দেশ মেনে ইন্টারভিউ দিল lতারপর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকলো l

গতকাল রেজাল্ট বেরোনোর পর জানা গেল চন্দন বাবুর  কাছে কোচিং করে  ৬২  জন ছাত্র সাফল্য লাভ করেছে এবং প্রত্যেকেই ফোন করে ট্রাফিক স্যার কে অসংখ ধ্যনবাদ জানিয়েছে  l

আজ তারা সকলে দলবেঁধে ট্রাফিক  অফিসে এসে হাজির l তাদের সাথে স্যারেরও  আনন্দ অশ্রু মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় l চাকরি জীবনের অমোঘ  প্রবাহে একদিন হয়তো কোচবিহার ছেড়ে চলে যাবে চন্দন বাবু  কিন্তু এই আনন্দের রেশ সারা জীবন তাকে বয়ে বেড়াবে   এদের সকলের ভবিষ্যৎ জীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করে কোচবিহার জেলা পুলিশ এ ব্যাপারে চন্দনবাবু জানান যে এখানে আমার কোন কৃতিত্ব নেই। সম্পূর্ণ কৃতিত্ব সফল চাকুরী চাকুরী প্রার্থীদের। তাদের অধ্যাবসায় এবং কঠোর পরিশ্রম এই সাফল্যের চাবিকাঠি। আমি শুধু রাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছি।  

NewsDesk - 3

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news