লাইফ স্টাইল

কেমণ হবে অষ্টমীর শাজ ? আনন্দময়ীর আনন্দকে সঙ্গী করতে আপনিও সাজতে পারেন অঞ্জলি সাজে।

কেমণ হবে অষ্টমীর শাজ ? আনন্দময়ীর আনন্দকে সঙ্গী করতে আপনিও সাজতে পারেন অঞ্জলি সাজে।

কেমণ হবে অষ্টমীর সাঁজ ? আনন্দময়ীর আনন্দকে সঙ্গী করতে আপনিও সাজতে পারেন অঞ্জলি সাজে।

মহুয়া সেনগুপ্ত ঃ শুধু আমেজে নয়, বরং চারদিকেই এখন উত্সবের ছটা। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে আলোড়িত হচ্ছে সার্বজনীন মানসিকতার সবাই। আনন্দময়ীর আনন্দকে সঙ্গী করতে আপনিও সাজতে পারেন অঞ্জলি সাজে। এই সাজ নিয়ে লিখেছেন আফরোজা মনিকা

সনাতন ধর্মের অনুসারীদের কাছে তাদের বৃহত্তম ধর্মীয় উত্সব দুর্গাপূজার সাজটা একটু ভিন্ন। পোশাক আর সাজের রংটা একটু যেন চড়া হয়ে ওঠে। অর্থাত্ এই সময়ে পোশাকে যেমন উজ্জ্বলতা ফিরে আসে প্রবলভাবে, তেমনি সাজসজ্জাতেও নিজেকে রঙিন করে তোলার প্রয়াস থাকে। আর এই রং বিন্যাসের পুরোটাই ধরা পড়ে পূজার সাজে। পূজার সাজ হতে পারে দু রকম। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে সাজা হয় নিজের পছন্দমতো। এই সময়ে নিজেকে একটু নিজের মতো করে সাজিয়ে নেওয়া যেতে পারে। অন্যসময়ে যেমন পোশাকে, যেভাবে সাজা হয় সে রকমই চলে এ কয়েক দিন। কিন্তু দশমীর দিনটার কথা আলাদা। এদিন সবাই চায় পূজার আমেজে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে। উত্সবও যেন এইদিন মুখ্য হয়ে ওঠে। এই দিনের পোশাক আর সাজ পোশাক তাই হতে পারে সনাতন ধারার। দশমীর দিন যে শাড়িটা পরা হয় তার পাড়টা হতে পারে বাহারি। জমিন সাদা বা লাল রঙের হতে পারে। পূজার শাড়িতে চুমকির কাজ এবং জারদৌসি কিংবা এমব্রয়ডারি বেশ ভালো লাগে। লাল-সাদা ঢাকাই জামদানি পূজার দিনে পরলে চমত্কার দেখায়। এছাড়া লাল পাড়ের গরদের আবেদন চিরন্তন। মসলিন বা সিল্কের শাড়িও পরা যেতে পারে। শাড়িতে কম কাজ থাকলেও ব্লাউজটা হতে পারে বাহারি। লম্বা হাতার, কুচি দেওয়া ব্লাউজ পরলে ভালো দেখাবে। ঘটিহাতাও চমত্কার লাগবে। এর সঙ্গে গয়নাটাও হওয়া চাই মানানসই। সোনার গয়না এখন তেমন পরা হয় না। এর বদলে অ্যান্টিক ধাঁচের গয়না ভালোই দেখাবে। দুই হাত ভরে পরা যায় কাচের চুড়ি। পূজার সাজের সঙ্গে চুলে তাজা ফুল থাকা চাই-ই। খোলা চুলে কানের পাশে গুঁজে দিতে পারেন যেকোনো তাজা ফুল। আর খোঁপায়ও তাজা ফুলের মালা জড়িয়ে নিতে পারেন। ফ্যাশন ডিজাইনারদের মতে, পূজার যেসব আনুষ্ঠানিকতা তার জন্য ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরাই ভালো। যেমন, অঞ্জলি দিতে যাওয়ার সময় তাঁতের শাড়ি পরা যায়। আবার সন্ধ্যাবেলা মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরতে যাওয়ার সময় ফিউশন পোশাক পরাই ভালো। যেমন সিল্ক শাড়ি, হিল, কুর্তা, সিল্কি ফতুয়া ইত্যাদি। সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত চারদিনে চার রঙের পোশাক বেছে নেওয়া যায়। সমাপনীর দিন সকালে পড়ার জন্য লাল, সাদা, কমলা, গেরুয়া এ রংগুলো মানানসই। আর রাতে পড়তে পারেন অ্যান্ডি বা সিল্কের শাড়ি। অন্যদিকে নিজের অস্তিত্ব প্রকাশে মাঝে মাঝেই তরুণমনের কেউ কেউ সাজ পোশাকে হয়ে উঠতে পারেন অসংযমী। ফ্যাশন ডিজাইনার শাহীন আহম্মেদের মতে, অসংযমী সাজটা হওয়া চাই একদম ঝাক্কাস। লাল, গোলাপি, গেরুয়া, কাঁচা হলুদ এসব রঙের শাড়ি পরা যেতে পারে। তবে কম বয়সী মেয়ের গাঢ় রঙের সালোয়ার-কামিজ, কুর্তা-দুর্তার সঙ্গে জিন্সও পরা যেতে পারে। আর নবমীর দিন আকাশের নীল, কাশফুলের সাদা, গাছগাছালির সবুজ এমন রঙের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি, তাঁত, জামদানি ব্যবহার করতে পারেন। সঙ্গে কপালে লাল টিপ, হাতে লাল বালা, সাদা চুড়িও পরতে পারেন।

আর দশমীর দিনে দুপুরে লাল সাদা ধুতি বা গরদ শাড়ি পরতে পারেন। সাবেকী ধাঁচের সেই শাড়িই যোগ করবে ফ্যাশনের নতুন মাত্রা। তবে ছেলেদের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার মেজাজ বুঝেই পোশাকের ধরন ঠিক করা উচিত। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত সকালে মণ্ডপে অঞ্জলি দিতে যাওয়ার সময় সুতির নরম আরামদায়ক পোশাক পরতে পারেন। প্রকৃতির রঙের সাথে শারদীয় দুর্গা উত্সবে আপনার পোশাকের রং মিলিয়ে আপনার পূজাকে করে দিতে পারেন অনেক বেশি রঙিন ও আনন্দময়। বাজেটের মধ্যেই কীভাবে নতুন নতুন লুক আনা যায়, তা নিয়েও ভাবতে পারেনমায়ের হয়তো অনেক শাড়ি পড়ে আছে আলমারিতে। সেখান থেকেই তো একটা নেওয়া যায়। নতুন একটি ব্লাউজের সঙ্গে নতুন ঢঙে পরা যায় সেটি। আবার পুরোনো কুর্তার সঙ্গে নতুন রংচঙে একটা স্কার্ফ পরা যায়। একদম নতুন দেখাবে পুরোনো পোশাকটিই।

 

Shankar Chakraborty

aappublication@gmail.com

Editor of AAP publicaltions

Post your comments about this news