করোনা সংক্রমণের জেরে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান বন্ধ, মালদহবাসীর পছন্দের গড়ে উঠলো হরিশ্চন্দ্রপুরের ভিঙ্গোলের ডেলো পার্ক - Newsbazar24
বিনোদন

করোনা সংক্রমণের জেরে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান বন্ধ, মালদহবাসীর পছন্দের গড়ে উঠলো হরিশ্চন্দ্রপুরের ভিঙ্গোলের ডেলো পার্ক

করোনা সংক্রমণের জেরে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান বন্ধ, মালদহবাসীর  পছন্দের গড়ে উঠলো হরিশ্চন্দ্রপুরের   ভিঙ্গোলের ডেলো পার্ক

উত্তম বিশ্বাস, Newsbazar 24: করোনা সংক্রমণের জেরে এখনও রাজ্যের কমবেশি বিনোদনমূলক ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ রয়েছে। আর যে যেখানে খোলা রয়েছে সেখানে পিকনিকের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এই বন্ধ রাখা ইচ্ছাকৃত নয় কিন্তু দীর্ঘদিনের লক ডাউনের ফলে রাজ্যের মানুষও কমবেশি হাঁপিয়ে উঠেছিল। এদিকে পৌষের শুরুতে মানুষের মাঝে পিকনিকের আগ্রহটা বরাবরই বেশি থাকে। ক্ষণিকের আনন্দ, হাসিতে মানুষ আবারও একটু সতেজ হয়ে উঠতে চায়। কিন্তু বিভিন্ন দর্শনীয় ও বিনোদনমূলক স্থানে পিকনিকের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।ফলে মানুষের সেই উৎসাহে ক্রমেই ভাটা পড়ছিল। একই চিত্র ছিল মালদাতেও। মালদার গৌড়, পাণ্ডুয়া, আদিনা, হরিশ্চন্দ্রপুর ডিয়ার পার্ক সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে করোনা সংক্রমণের জেরে বনভজন বন্ধ থাকায় মানুষ ভ্রমণের আনন্দ খুঁজে পেতে কিছুটা দিশেহারা ছিল বৈ কি! কিন্তু আনন্দপ্রিয় মানুষ ঠিকই কোন না কোন স্থান খুঁজে নেয়। মালদার আনন্দপ্রিয় মানুষ তাই এবার নিজেদের পিকনিকের গন্তব্য হিসেবে হরিশ্চন্দ্রপুর ভিঙ্গোল গ্রাম পঞ্চায়েতের ডেলো পার্ককে বেছে নিয়েছে। বছরের শুরুতেই ডেলো পার্কে তাই জমে উঠেছে পিকনিকের আসর! হাসিতে, গানে, আনন্দে এখন মুখরিত ডেলো পার্ক। সঙ্গে এই ডেলপার্ক কে ঘিরে গ্রামের মানুষের ছোটখাটো কর্মসংস্থান গড়ে উঠছে। প্রান্তিক গ্রামের মানুষেরা স্বল্প খরচে পার্ক যাওয়ার আনন্দ পাচ্ছে। সমগ্র পার্কে তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব পরিবেশ। চাঁচল থেকে ডেলো পার্কে পিকনিক করতে আগত মুন্নি সাহা জানান, " আমরা হরিশ্চন্দ্রপুর ভিঙ্গোলের ডেলো পার্কে পিকনিক করতে এসেছি। চাঁচলের অনেকের মুখেই গত বছরে শুনেছি এই পার্কের কথা। এই বছরেই প্রথম আসা হলো। পার্কের পরিবেশ খুব ভালো, এখানে এসে আমাদের খুব ভালো লাগছে, সবাই আনন্দ করছে। আমি সকলকে বলতে চাই যে আপনারা এই পার্কে আসুন, পরিবার-বন্ধু-স্বজনদের নিয়ে আনন্দ করার মতো পার্কের পরিবেশ। বাচ্চাদের জন্যেও বিভিন্ন খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে। সবাই আসুক এই পার্কে সপরিবারকে নিয়ে। " চাঁচল কলিগ্রাম থেকে এই পার্কে পিকনিক করতে আগত পায়েল মন্ডল জানান, " আমরা সবাই ভিঙ্গোলের ডেলো পার্কে পিকনিক করতে এসেছি। বিভিন্ন পরিচিত মানুষের মুখে এই পার্কের কথা শুনে এবং ফেসবুকের মাধ্যমে পার্ক সম্পর্কে জেনে এখানে ঘুরতে এসেছি। পিকনিকের জন্যে বেশ ভালো জায়গা। আমরা সপরিবারে এসেছি। খুব ভালো ও সুন্দর জায়গা। " ভিঙ্গল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিমানবিহারী বসাক বলেন," গ্রামীণ এলাকার গরিব মানুষদের কথা ভেবে এই পার্ক খোলা হয়েছে। এমনিতেও করোনা আবহে বাকি জায়গাগুলো বন্ধ রয়েছে। এখানে টিকিটের মূল্য মাত্র ৫ এবং ১০ টাকা। যাতে সকল এ এসে আনন্দ করতে পারে তাই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। দুর্গাপুজো এবং ঈদের সময় পার্কে কোন প্রবেশ মূল্য লাগবেনা।" বেসরকারী উদ্যোগে নির্মিত এই পার্কটির সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পার্কে বিভিন্ন ধরনের গৃহপালিত পশু-পাখি রাখা হয়েছে। এছাড়াও হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ সংস্কৃতিকে ধরে রাখার জন্য বাহক সহ পালকি রাখা হয়েছে, বিভিন্ন ধরণের ফুলের গাছ, বিশ্ব বাংলার লোগো ইত্যাদি জিনিসও সংযুক্ত করা হয়েছে পার্কে। বর্তমানে মালদা জেলাবাসীর কাছে ভ্রমণের জন্য অন্যতম প্রিয় স্থান হয়ে উঠেছে হরিশ্চন্দ্রপুরের ভিঙ্গোল গ্রামের এই ডেলো পার্ক।

NewsDesk - 3

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news