করোনা : দ্য আদার সাইড - Newsbazar24
সাহিত্য

করোনা : দ্য আদার সাইড

করোনা :  দ্য আদার সাইড

 

করোনা :  দ্য আদার সাইড

সুনীলকুমার সরকার

স্বাভাবিক ভাবেই  গৃহসহায়িকা বা পরিচারিকাদের কাজে আসতে বারণ করেছিলেন  সহানুভুতির সঙ্গে বুঝিয়েই বলেছিলন --- এখন আসতে হবেনা , সাবধানে থেকো কাজ চলে যাওয়ার ভয় ,  চিন্তা বা আশঙ্কা যে তাঁদের ছিলনা , তা নয়  , কাজ না করিয়ে কি কেউ মাইনে দেয়  ! আপনি দিয়েছেন যাঁদের ফোন আছে , মাসের শেষে ফোন করে ডেকে মাইনে দিয়েছেন   যাঁদের ফোন নেই , খবর পাঠিয়ে ডেকে মাইনা দিয়েছেন সঙ্গে জানিয়েছেন , মাসের শেষে আবার মাইনা নিয়ে যেতে বৃদ্ধ বৃদ্ধা বা  যাদের শারীরিক খুব অসুবিধা , বাধ্য হয়ে , দেড় দু'মাস পর থেকে কাজে ডেকেছেন , প্রথমদিকে দু'দিন একদিন অন্তর ... প্রত্যেক মাসে মাইনে তো দিয়েছেন সঙ্গে  বাড়তি কিছু খাদ্যসামগ্রীও বাইরে থেকে এসে বাড়িতে যে সাবান দিয়ে আপনি হাত ধুচ্ছেন সেই সাবান দিয়েই হাত ধুতে বলছেন , কনুই থেকে আপনি যে ত্রিস্তরিও মাস্ক পড়ছেন সেই মাস্কই নিজের হাতে দিচ্ছেন পরিচারিকাকে , মুখে পড়ার জন্য আপনি জেনে গেছেন , শুধু নিজে সাবধানে থাকলেই হবে না , আশপাশের যাঁদের সঙ্গে ওঠাবসা , তাঁদেরও সাবধানে থাকতে হবে ,  রাখতে হবে  আপনার থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে , আবার অন্যের থেকেও আসতে পারে উভয়পক্ষকে একই রকম সাবধানতায় থাকতে হবে , নইলে পারস্পরিক ক্ষতি ! হ্যাঁ , এর মধ্যে ওঁদের বকাবকিও কম করেছেন এই করোনা মমত্ববোধসহ একটা সাম্যের অনুভূতি এনে দিচ্ছে সমাজের গরীব মানুষসহ ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের দুরাবস্থা আপনাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে ,  আপনাকে নাড়া দিয়েছে , কষ্ট পেয়েছেন , অন্তত ভেবেছেন কিছু একটা ভালো হওয়া দরকার ওঁদের জন্য ! দিদিমনি মাস্টারমশাইরা অনেক কনফিডেন্স পাচ্ছেন , বিদ্যালয় স্থানীয় এলাকায় স্বচ্ছতা অভিযান অনেক সুগম হবে ছাত্ররা মানসিকভাবে তৈরি হয়ে গেল আর শিক্ষকেরা আন্তরিক হয়ে কার্যকরী ভূমিকা নেবেন , আগের থেকে অনেক বেশি স্বার্থ যেখানে পারস্পরিক !

যে ছোটখাটো অসুখে আপনি নিত্য ভুগতেন ,  জ্বর সর্দি-কাশি , শ্বাসকষ্টসহ  পেটের অসুখ  এখন কম হচ্ছে মাস্ক পড়ার ফলে দূষিত বায়ু ডাস্ট আটকাছে , সাবান-হ্যান্ড স্যানিটাইজার এর ব্যবহার , পোশাক পরিচ্ছদ ব্যবহৃত জিনিসপত্র জীবাণুমুক্ত  করা হচ্ছে এই স্বচ্ছতা , পরিচ্ছন্নতা জনস্বাস্থ্যের প্রতি ইতিবাচক আচরণ সাধারণভাবে অসুখ কমাচ্ছে চেম্বারে ডাক্তারদের সাবান দিয়ে হাত ধোয়া অথবা স্যানিটাইজার ব্যবহারকে আমরা ভেবেছি , ওটা বুঝি ডাক্তারবাবুদের  ব্যাপার , আমাদের নয় !  ওটা বুঝি সফিস্টিকেটেড লোকেদের ব্যাপার ,আমাদের নয় , অতটা স্যানিটেশন মেনে চলা আমাদের দরকার নেই ! আজ করোনা শিখিয়ে দিল , মেনে চলা সকলের জন্য এখন ঘর মোছার জন্য হোক বা হাত ধোয়ার জন্য বা ব্যবহৃত জিনিসপত্র পরিচ্ছন্ন করার জন্যই হোক , অনেক বেশি ডিসইনফেকট্যান্ট কিনছেন ব্যবহার করছেন যা করা উচিৎ ছিল আপনি আমি করতাম না আমি আপনি সব্জী কিনে এনে এত ধুতাম না , গরম জল বা  সার্ফ বা খাবার সোডা দিয়ে ভিজিয়ে রাখতাম না ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিক বা ভিখারীরাও জানেন , কোন খাবারগুলি পুষ্টিকর বা স্বাস্থ্যকর , ফল খেলে যে উপকার  হয় তা সবাই জানেন এখন যাঁরা পারছেন , পারতপক্ষে এই খাবারগুলি খাচ্ছেন , অন্যদিকে খরচ কমিয়েও আপনি জানতেন এবং বলেও এসেছেন , নিয়মিত শরীরচর্চা উপকারী এবং অবশ্যই করা উচিত কিন্তু করতেন না এখন সঠিক পদ্ধতি না জানলেও সকাল সন্ধ্যে একটু চেষ্টা করছেন হাতে স্মার্টফোন আছে বা এর তার কাছ থেকেও শেখার চেষ্টা করছেন

আপনি এখন ভাবছেন এবং শপথ নিচ্ছেন , এখন থেকে এই বোধ-অনুভূতি , আচরণ , অভ্যাসগুলি জারি রাখবেন প্রথমদিকে ভেবেছিলেন , আমি আক্রান্ত হবো না , ইম্যুনিটি আছে আর সাবধানেও তো আছি ! পরে দেখছেন , আপনার চেয়েও বেশি ইম্যুনিটিযুক্ত মানুষ , সাবধানে থাকা মানুষদেরও হচ্ছে অনেক ক্ষমতাশালী আর্থিক সম্পন্ন , যারা অনেক ভালো চিকিৎসা পেতে পারেন , তাঁরাও মারা যাচ্ছেন একজন করোনা রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা যে কতটা জটিল অসম্মানের , তা আপনি জেনে গেছেন কেউ মারা গেলে সৎকারের লোক পাওয়াও মুশকিল আপনি ভাবতে পারেন , আপনার খানিক প্রভাব আছে , জানাশোনাও আছে , তেমন অসুবিধা হবে না মৃত্যুর খবর শুনে যাঁরা আসবেন , তাঁদের মধ্যেও কিছু 'আহা , উহু' করে শোক জানিয়ে 'কিছু হেল্প লাগলে বলবেন' বলে  বিদায় নেবেন সোশ্যাল মিডিয়ায় কতগুলি RIP , ভালো মানুষ ছিলেন , আত্মার শান্তি কামনা করি থেকে  স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই ! হাতে স্মার্ট ফোন আছে , নেটও সস্তার ! একটু সময় দিলেই হলো ,  সবটাই দূর থেকে যদি শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠান করেন , বিশেষ কেউ আসবেন না অছিলা তো আছেই  'শ্রাদ্ধের খাওয়া খেতে খুব কষ্ট হয় , পারিনা , মানুষটির মুখ ভেসে ওঠে , এত ভালো মানুষ ছিলেন' অথবা 'আজ স্ত্রী উপোস করেছেন' ইত্যাদি ইত্যাদি !

লকডাউনে বা এখনও বিশেষ বাইরে বের হচ্ছেন না হাতে অনেক সময় অনেকের সাথে অনেকদিন কথা হয়নি , কেমন যে আছেন ! ফোন করছেন , কুশল কামনা করছেন পাশে থাকার অঙ্গীকার করছেন আর পাশে পাওয়ার কামনাটাও সংগোপনে ঝালিযে নিচ্ছেন প্রথমদিকে সারাদিন বাড়িতে থাকাটা বিরক্তিকর হলেও কিছু করার ছিলনা , new normal ,  আপনার বাড়িতে যে খিটিমিটি লাগেনি , কাজ নিয়ে ঝগড়া হয়নি বা ছেলেমেয়েদের খানিক বকেননি , তা নয় এখন বাড়ির মধ্যেই  একটা রুটিন তৈরি হয়েছে , ছেলেমেয়ে-বাবা-মা'সহ আপনারও নতুন পরিস্থিতিতে নতুন সহাবস্থান , ভালো থাকার নতুন অভ্যাস !

এরই মধ্যে লুঠের রাজনীতি দেখছেন , বাক্যবাগিস রাজনীতি দেখছেন , ভোটের আগমনী সুর শুনছেন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তিমি-তিমিঙ্গেলদের লড়াই ,  আস্ফালন শুনছেন পাল্টাও চলছে , খানিক গটআপ-গটআপও ঠেকছে ! রাজনীতির প্রতি আপনার বিরক্তি-ঘেন্না আসছে ! আবার ভাবছেন , সমাজে রাজনীতির উর্দ্ধে কিছু থাকে , না কি ? অরাজনৈতিক থাকার অর্থ স্বার্থপরতা ,  টানাপোড়েনের এক জটিল যাপন ! এই করোনা , যুদ্ধ , জঙ্গী , সাদা-কালো'কে ভর করেই 'একুশে' নেমে আসবে

আপনি আমি দেখলাম প্রকৃতির ওপর অত্যাচার করলে , তাকে যথেচ্ছ ভোগ করলে সে যে প্রতিশোধ নেবেই ! লকডাউনে কম বিষ ঢালছি , সাময়িক লুঠ কমিয়েছি , প্রকৃতি সুন্দর-বিকশিত হয়ে আমাদের বন্ধু হয়ে চলছে সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারলে পৃথিবী আবার শান্ত হবে , শিখলাম-জানলাম ছোট্ট মেয়ে গ্রেটা থুনবার্গ হয়ত আশার আলো দেখছেন

দেশের মাত্র পাঁচ শতাংশ মানুষ অর্গানাইজড সেক্টরে কাজ করেন , তাঁরা নিয়মিত মাইনে পত্তর পাচ্ছেন সুযোগ কম থাকায় খরচও আপনি কম করছেন , কিছুটা মিতব্যয়ী হয়ে আড়ম্বরহীন জীবনযাপন করছেন স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সঞ্চয় বেড়েছে ,পৃথিবী শান্ত হলে এই স্বল্পসঞ্চয় নিয়ে কিছু একটা যে করবেন ,  এটাও  ঠিক করে রেখেছেন তবে একটা অংশ আপনি দুঃস্থদের দানধ্যানও করছেন , ভবিষ্যতেও করবেন ঠিক করেছেন আপনার মনে হয়েছে--- এই সবাইকে নিয়েই ভালো থাকার চেষ্টা করতে হবে , শুধু 'আমি' বাঁচলে পৃথিবীতে বড্ড একাকীত্ব !

 আপামর মানুষ নতুন করে  শিখছেন , ন্যুনতম একটা সঞ্চয়ের প্রয়োজন আছে গরীব মানুষের হাতে টাকা নেই , কিন্তু ঠারে ঠারে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ---এবার আয় শুরু হলে একটু হলেও পয়সা হাতে রাখবেন , কখন কী সময় আসে ! অর্থনীতিতে সঞ্চয়ের একটি প্রচলিত রুল আছে , ৫০/৩০/২০ , অর্থাৎ আয়ের অন্তত কুড়ি শতাংশ সঞ্চয়ের চেষ্টা করত হবে প্রশ্ন হলো , গরীব মানুষ কি পেরে উঠবেন !

আজ ২৫শে জুন , লকডাউন ঘোষণার তিন মাস সংক্রমণ বাড়ছে দ্রুত সংক্রমণের চিত্র নিম্নরূপ :

তারিখ     ভারত          .বঙ্গ

         আক্রান্ত   মৃত   আক্রান্ত   মৃত

-----------------------------------

২৫/    ৬১৮   ১৩         ১০       

২৫/ .৭৫L ১৪.Th   ১৫.Th   ৬H

-------------------------------------

L = লক্ষ ,TH = হাজার H=শতক

 অনুভবে তো অনেককিছুই পেলাম আমি আপনি ,  সংক্রামন  থেকে রেহাই পাবো তো ! তবে ইতিমধ্যেই কিছু রুপোলি রেখা দেখা দিচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ , মানুষের মনের মধ্যে সাহস দেখা দিচ্ছে , মেন্টাল ইম্যুনিটি !

NewsDesk - 3

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news