উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর

আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাতের জেরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ।

আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাতের জেরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ।

বালুরঘাট ২৪ জুলাইঃ  কেন্দ্র সরকারের আয়ুস্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের সংঘাতের জেরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ। আগামী অক্টোবর মাস থেকে চাকরি হারাতে বসা রোগী সহায়কদের রাজ্যের প্রকল্প অধীনে বেতন দেবার সিদ্ধান্ত নিল বালুরঘাট হাসপাতাল রোগী কল্যান সমিতি। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প থেকেই ওই কর্মীদের বেতনের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের এমন উদ্যোগে খুশি হলেও রোগী সহায়কদের দাবি,  মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করুন, এবং তাদের চাকরি সুনিশ্চিত করুন। 

স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিতে উন্নত রোগী পরিষেবা দেবার জন্য খোলা হয়েছে  রোগী সহায়তা কেন্দ্র। রাজ্যের প্রতিটি জেলার ছোট-বড় সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানেই রোগী সহায়তা কেন্দ্র রয়েছে। এবং সেখানে কর্মরত রয়েছেন রোগী সহায়ক রা। সারা রাজ্যে প্রায় 300 এর বেশি রোগি সহায়ক রয়েছেন।  রোগী সহায়করা হাসপাতালগুলিতে নানা ধরনের রোগী পরিষেবা মূলক কাজ করে থাকেন। রোগীদের রিকোজিশন লিখে দেওয়া,প্রসূতি ও রেফার রোগীদের গাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়া থেকে শুরু করে নানা ধরনের কাজ করতে হয়। এই রোগী সহায়কদের এতদিন পর্যন্ত জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন এর অধীনের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে সহায়কদের বেতন দেওয়া  হতো বলে জানা গেছে।

 কিন্তু সম্প্রতি আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাতের জেরে এই রোগী সহায়কদের কর্মে অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে যে আপাতত সেপ্টম্বর- 2019 পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বরাদ্দ রয়েছে। কেন্দ্র সরকার এই বরাদ্দ বন্ধ করে দিলে, এরপর থেকেই রোগী সহায়কদের বেতন দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

বালুরঘাট মহকুমা এবং গঙ্গারামপুর মহাকুমা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলি মিলিয়ে জেলাতে প্রায় তিরিশ জন মত রোগী সহায়ক রয়েছেন। কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় থেকেই কর্মীদের চাকুরী  অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এদিন এই সমস্যাকে পরখ করেই জেলা রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে উঠে আসে এই বিষয়টি। কেন্দ্র বরাদ্দ বন্ধ হয়ে গেলেও যাতে ওই কর্মীদের বেতন এবং কাজ চালু থাকে, সেজন্য তাদের স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের অধীনে  নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বৈঠকে। 

জেলা রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান অর্পিতা ঘোষ বলেন,  সরকার আয়ুষ্মান প্রকল্প চালু না হওয়ার কারণেই সম্ভবত বরাদ্দ বন্ধ করে দিচ্ছে। এই কারণে আমরা রোগী সহায়তা কেন্দ্র  চালু রাখতে রোগী সহায়কদের স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প থেকে বেতন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। যাতে করে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ হয়ে গেলেও রোগী সহায়কদের কাজ ও বেতন চালু থাকবে। 

জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে বলেন রোগী সহায়কদের কাজ যাচ্ছে না।

 

 জেলা হাসপাতাল সুপার তপন বিশ্বাস বলেন, রোগী কল্যাণ সমিতির সভায় এই নিয়ে নিয়ে আলোচনা হয়েছে  

তবে এতকিছুর পরেও কিন্তু শান্তি নেই রোগী সহায়কদের মনে।  তাদের মতে, এভাবে প্রকল্প বদলে তাদের কাজ বজায় রাখার চেস্টা হলেও, তাতে কোনো স্থায়ী নিশ্চয়তা নেই।রোগী সহায়কদের আবেদন, মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করুন এবং তাদের চাকরি সুনিশ্চিত করুন।

NewsDesk - 2

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news