আজকে 1st July, 2050 - ( বিশেষ গল্প ) - সন্দীপ চক্রবর্তী - Newsbazar24
সাহিত্য

আজকে 1st July, 2050 - ( বিশেষ গল্প ) - সন্দীপ চক্রবর্তী

আজকে 1st July, 2050 - ( বিশেষ গল্প ) - সন্দীপ চক্রবর্তী

- সন্দীপ চক্রবর্তী 

জকে1st July,2050. এই কিছুক্ষণ আগেই বিদেশি মতে তারিখ পরিবর্তন হয়েছে।কি সব দিবস টিবস বলে যেন আজকের দিনটাকে। সে সব মনে রাখার মতো আদিখ্যেতা বা ন্যাকামো মন্ডল বাবুর পোষায় না।তিনি খুব ব্যস্ত মানুষ।সকাল থেকেই পয়সা পয়সা করে ছুটে বেড়ান আর দিনের শেষে ভাবতে বসেন সঞ্চয় কদ্দুর পৌঁছালো।তবে এখন তার যা তা অবস্হা।রাত দেড়টায় মন্ডল বাবুর গিন্নি টয়লেট থেকে বেরোতে গিয়েই পা ফসকে...যাকে বলে চিৎপটাং।"ওরে বাবারে, মা ..রে"... চিল চিৎকারে, মন্ডল বাবুর আত্মনির্ভর ভারতের বিখ্যাত " মহাভারত" কোম্পানির এসি চলতে থাকা ঘরটাও গরম হয়ে উঠলো।সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে এসে তুলবার ব্যর্থ চেষ্টা(একশো দশ কেজি ওজন তুলতে কটা বাঙালি পুরুষই বা পারে!!)।মন্ডল গিন্নি ভাবেই কোমড়ের হাড় ভেঙে "না ঘরকা,না ঘাটকা" ভঙ্গিতে পড়ে থাকলেন টয়লেটের চৌকাঠে।কি করবো না করবো-- এই ভাবনায় অস্থির হয়ে মন্ডল বাবু ফ্ল্যাটের দরজা খুলে "help, help" বলে চিৎকার শুরু করলেন।মাথায় তখনোবাজারে নতুন আসা, আত্মনির্ভর ভারতের "ব্লেন্ডিআরক" স্কচের এফেক্টস দৌড়ে বেড়াচ্ছে।এই সব সময়ে বাঙালি ভুলভাল হলেও ইংলিশ বলতে ভালোবাসে।কাকস্য পরিবেদনা।কোন দরজাই খুললো না " মহান অ্যাপার্টমেন্ট"-এর।

###
লিফ্টে করে সত্বর হাজির হলেন, ঈশ্বর রূপে, কেয়ারটেকার হরি।সে এসে এই বল হরি অবস্হা দেখেই, ফটাফট কি ভেবে নিয়ে, মোবাইলে কাকে যেন ফোন করলো।দু মিনিটের মধ্যেই ফ্ল্যাটের নীচে ambulance হাজির।টিঙটিঙে তিনজন সহযোদ্ধা,হরি আর বেচারা মন্ডল বাবু যেভাবে স্ট্রেচারে মন্ডল বাবুর স্ত্রীকে শেষমেশ ambulance- তুললেন, সে এক অনবদ্য সংগ্রামী প্রচেষ্টা।শহরের বুকে আজকাল সগৌরবে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে ঝাঁ চকচকে ত্রিশটা বেসরকারি হাসপাতাল।একটার পর একটা।রাত বাড়ছে।রোগীকে নিয়ে নাজেহাল মন্ডল বাবু দৌড়ে বেড়াচ্ছেন এখান থেকে সেখানে।রিসেপশনে তরুণ,কোট প্যান্ট টাই পরা, তুমুল সপ্রতিভ ম্যানেজারদের কাছ থেকে যে টাকাটা প্রথমেই জমা করতে হবে শুনছেন মন্ডল বাবু,তাতে তার নিজের প্যালপিটেশন শুরু হয়ে যাচ্ছে। মা গো!!এত টাকা কোথায় পাবো!
####
অ্যাম্বুল্যান্স হূটার বাজিয়ে ছুটে চলেছে এক হাসপাতাল থেকে আর এক হাসপাতাল। গিন্নির পরিত্রাহি চিৎকার আরো বাড়ছে।ড্রাইভার বলে বসলো," স্যার বিল কিন্ত অনেক বেড়ে যাচ্ছে " গিন্নি রেগেমেগে স্বামী সমন্ধে তার মতামত দিলেন "কি অপদার্থ তুমি।এখন অব্দি একটা ব্যথা কমানোর ইঞ্জেকশন করাতে পারলে না।ও মা গো" দরদর করে ঘামছেন মন্ডল বাবু।শহরের নামকরা কনট্রাক্টর।গত সাতটা কাজের বিল আটকে আছে।সরকার থেকে টাকা আসে নি।তার আগে এখানে সেখানে ভাগ বাঁটোয়ারা করতে হয়েছে প্রচুর টাকা।নাহলে তো কাজটাই পেতেন না।অবশ্য এর মধ্যে যে দুটো লম্বা রাস্তার কাজ তিনি করেছেন,তা এক বছরেই খারাপ হয়ে যাবে।আবার কাজ।শহরের ডন বলে দিয়েছেন চিন্তা না করতে।সামনের বছর এই ভাঙা রাস্তার কাজ মন্ডল বাবুই করবেন।শুধু একটু অ্যাডযাস্ট।ব্যস!!সেই তিনি- আজ বেকায়দায়।নাহলে দেখিয়ে দিতেন আজ।
####
ছেলেটাকে পড়াতে হচ্ছে সাউথে।পাঁচ কোটি টাকার প্রজেক্ট।গাধা পিটিয়ে ঘোড়া বানানোর আমিরি প্রচেষ্টা। নিজে থেকে লড়ে হওয়ার কোনো গল্প নেই।মা চেয়েছিল ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হোক আর বাবা চান ডাক্তার। ছেলে যে এর কোনটা হওয়ারই বুদ্ধি ধরে না,তা পই পই করে বলে দিয়েছিলেন স্কুলের শ্রদ্ধেয় অমিত স্যার।কিন্ত যে পয়সার গরম।যেটা ইচ্ছে করবে,সেটাই পেতে হবে।ছেলে ডাক্তার হয়ে বেরোবে।মন্ডল বাবুর স্বপ্ন, নিজের হাতে ছেলেকে একটা হাসপাতাল বানিয়ে দেবেন।দু এক বছরের মধ্যেই সেবা(!!)করে ছেলে টাকাটা ঠিক তুলে নেবে।তারপর শুধু সম্পত্তি বাড়ানো।যেভাবে মন্ডল বাবু বাড়িয়েছেন।ব্রীজ ভেঙে গেছে তিন বছরে, আকাশ ছোঁয়া জলের ট্যাঙ্ক ধূলোয় গড়াগড়ি এক বছরে।কিস্যু হয় নি দুশ্চিন্তা করার মতো।মাথার উপরে আশীর্বাদের হাত ছিল।কেউ জানতেও পারে না কে বানালো, কে বা প্ল্যানে সই করেছিল।সব ঢাকা পড়ে যায় দু এক দিনে।
####
টাউনের পাশেই এক বিশাল জমি কেনা আছে হাসপাতাল বানানোর জন্য।এত শত ভাবনার ঘোরের মধ্যেই ক্যাঁচ করে অ্যাম্বুল্যান্স এক আলো আঁধারিতে ঘেরা বিল্ডিং-এর সামনে দাঁড়িয়ে গেল।মন্ডল বাবু চমকে উঠে ড্রাইভার কে এক ধমক লাগিয়ে বললেন, " এখানে নিয়ে এলে কেন?আজকাল এখানে, এই 2050 সালে, কেউ আসে নাকি চিকিৎসা করাতে"? ড্রাইভার কাছে এসে বললো," অনেক খাটিয়েছেন।নিন বিলটা মেটান। যা রে রুগিটাকে ভর্তি করে দে।" ওয়ার্ডের ভেতরে ঢুকে মন্ডল বাবু অবাক হয়ে দেখলেন,বেড এর পর বেড খালি।এক অদ্ভুত দৃশ্য। অনেক দিন পরে এলেন এখানে।দু জন সিস্টার বসে আছেন।তারা চিকিৎসা শুরু করে দিলেন।ইঞ্জেকশন হলো।স্যালাইন কিনে আনতে বললেন।অবাক হয়ে মন্ডল বাবু প্রশ্ন করলেন," কিনতে হবে কেন? এখানে পাওয়া যাবে না?" জবাব এলো," প্রায় সব কিছুই কিনতে হবে।অনেক বছর হয়ে গেছে,আর ফ্রিতে কিছুই পাওয়া যায় না" মাঝরাত্তিরের এই কান্ড কারখানায় ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়া মন্ডলবাবু ঘাবড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন," ডাক্তার কখন আসবেন?" চুল্লুর নেশার অতল সাগরে সাঁতার কাটতে কাটতে ক্ষয়াটে চেহারার একজন লোক জবাব দিল,"আজ আর কাল... নো চান্স। সোমবার দুপুরে আসবে কেউ একজন"।এক দৌড়ে স্যালাইন সাথে আরও কিছু ইঞ্জেকশন কিনে নিয়ে এসে মন্ডল বাবু,এই 1st July,2050 -এর রাতে যারপরনাই বিস্মিত হচ্ছেন।
####
মুখ ফসকে একজন সিস্টারকে বলেই ফেললেন, " সব কিছু কেমন পালটে গেছে" সিস্টার স্যালাইন রেডি করতে করতে বললেন "কত বছর পর এলেন?" মন্ডল বাবু স্মৃতির গভীরে ডুব দিলেন।তা কুড়ি বছর আগে এই হাসপাতাল চত্বরের চারদিকে প্রাচীর বানানোর এক কন্ট্রাক্ট পেয়েছিলেন।তখন বাইরে বাইরে কাজ করে চলে গিয়েছিলেন।ভিতরের খবর জানার কোন আগ্রহই ছিল না।তারও পনের বছর আগে হাত ভেঙে বাবার সঙ্গে এই হাসপাতালে এসেছিলেন।তখন তো ব্যস্ততায় গমগম এই জায়গা।ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন ডাক্তার বাবু চলে এসেছিলেন।ব্যান্ডেজ করবার ঘরে যখন কিশোর রোগী ভীত,উদ্বিগ্ন; তখন সেই গম্ভীর ডাক্তারবাবু অবাক করে দিয়ে একটা মজার গান করতে করতে ,সব ভয় ভুলিয়ে দিয়ে হাসতে হাসতে প্লাষ্টার করে ফেলেছিলেন।কিশোরের মনে একরাশ মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিয়ে। বাবাকে সেই ডাক্তারবাবু ওষুধ পত্র বুঝিয়ে দিয়ে গটগট করে অন্য ওয়ার্ডের দিকে চলে গিয়েছিলেন।হাসপাতাল তখন উপচে পড়ছে রোগীর ভিড়ে।অনেক ডাক্তারসিস্টার। "আজ এই অবস্হা কেন? প্রশ্নটা মন্ডল বাবু সিস্টারকে করেই বসলেন।"এখন আর কেউ সরকারি হাসপাতালে চাকরি করতে আসে না।পনের কুড়ি বছর আগে থেকেই ডাক্তার, সিস্টাররা এই সরকারি চাকরি থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছিল।...কেনই বা করবে না বলুন ? ###

কথায় কথায় ভাঙচুর, গায়ে হাত দেওয়া, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা।কাঁহাতক এই অত্যাচার সহ্য করা যায়? আর তো মাইনে। কোন তুলনাই হয় না কাজের গুরুত্বের সঙ্গে মাইনের সম্পর্ক।তাই এখন সবাই বেসরকারি হাসপাতালে যোগ দিচ্ছেন। ঝাঁ তকতকে পরিবেশ। মার্বেল ফ্লোর।যত খাটবে তত পয়সা। চব্বিশ ঘন্টা তৎপর সিকিউরিটি।কেউ একটু ট্যাঁফোঁ করলেই দিচ্ছে লাঠি মেরে সোজা করে।নেতাদের কাছে গিয়েও লাভ নেই।নেতারাও সপরিবারে বেসরকারি হাসপাতালেই নিজেদের চিকিৎসা করান।তাই ব্যবস্হাকে ঠিকঠাক টিঁকিয়ে রাখতেই হয়। ভোট এলেই থলে ভর্তি ডোনেশন- চলে আসে।আর সরকারি ব্যবস্হা ভালো করে কোনো লাভ নেই।যত দেবে, লোকে নাকি আরো বেশি চাইবে।তারচেয়ে এই ভালো।ফ্যালো কড়ি, মাখো তেল।"

মন্ডল বাবু কুঁইকুঁই করে বললেন," না, মানে জনগনের পয়সায় পড়াশোনা করেছেন।তার কোনো প্রতিদান দেবে না"? আসন্ন ভোরের খবর ছড়িয়ে পড়ছে আকাশে।সিস্টারদের তো জেগে থাকার অভ্যাস আছেই।আর মন্ডল বাবুর মাথা থেকে নেশা আর চোখ থেকে ঘুম...দুটোই উড়ে গেছে। মন্ডল বাবুর এই প্রশ্নে হাসতে শুরু করলেন সিস্টার। ####

 "মশাই,পাবলিক কোন্  পড়াশোনা টা সরকারের পয়সায় করে না? বিএ, বিএস সি, ওকালতি, বানিজ্য, কলা? একটার নাম বলুন না?" উত্তর আসে না মন্ডল বাবুর মুখে। একটা সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। জরাজীর্ণ,শুনশান হাসপাতালে লোকজন বড় কম।সবাই কি তাহলে ঘটি বাটি বেচে চিকিৎসা বেসরকারি হাসপাতালেই করাচ্ছে? কানে আসতো কথাটা যে প্রচুর পয়সা খরচ হয়ে গেল অমুক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে মন্ডল বাবুর বোধগম্য হতো না পুরো ব্যাপারটা।আজ ঠেলায় পড়ে বুঝতে পারছেন,এখন চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া মানে পকেটে প্রচুর পয়সা থাকতে হবে।ইনসুরেন্স কোম্পানির পোয়া বারো।এক রমরমা ব্যবসার মহল গড়ে উঠেছে চারদিকে।
####
বাইরে এসে সিগারেট ধরাতেই ক্ষয়াটে চেহারার লোকটা এগিয়ে এসে পাশে দাঁড়ালো। কাঁচুমাচু মুখ করে একটা সিগারেট চাইলো।সিগারেটটা ধরিয়ে নিয়ে মন্ডল বাবুকে জিজ্ঞেস করলো," কি এতো ভাবছেন দাদা" মন্ডল বাবু উত্তর দেন," না ভাবছি সব কেমন বদলে গেল ত্রিশ বছরে" "তা আপনি নিজে দাদা কোন্ লাইনে আছেন?উত্তরটা মন্ডল বাবু বলতেই দুই কান ছুঁয়ে যাওয়া হাসি লোকটার।"তাহলে তো মালামাল।লাইন সেট করতে পারলেই হলো"।বলেই সে কি হাসি মন্ডল বাবু যতই বলে," না,না।ব্যাপারটা তেমন নয়।অনেক ঝামেলা আছে।" সেই লোকটা মানতে রাজী না।হাসতে হাসতে বলে," আচ্ছা দাদা,আপনিই বলুন এই যে বছর বছর রাস্তা তৈরি করছেন আর তা ভেঙে যাচ্ছে,কোন ইঞ্জিনিয়ার বা ঠিকাদার তার জন্য মিডিয়াতে অপদস্থ হয়?কেউ কারোর নাম- জানতে পারে? কার না ভুল হয় সিদ্ধান্ত নিতে? কাগজে পড়ি মহামান্য বিচারকেরও নাকি বিচারে হঠাৎ ভুল হয়ে যায়।এই তো কয়েক বছর আগে একজন টগবগে তরুণ সার্জেন এই বাজারেও এখানে জয়েন করলো।কি সব সমাজ সেবার নেশা নাকি ডাক্তারের মাথায় দৌড়ে বেড়াতো।একার হাতে এই মরে যাওয়া হাসপাতালটার হাল ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন।আবার সেই আগের মতো রুগীর ভিড় শুরু হচ্ছিল।আমাদের ভলো লাগছিল।দু চার পয়সা খুশির বকশিশ পকেটে আসছিল।চার বছর দারুণ কাজ করার পরে একদিন গলব্লাডার অপারেশন করার পরে একজন রুগি খুব সিরিয়াস হয়ে গেল।ভিতরের একটা শিরা হঠাৎ কেটে গিয়ে নাকি খুব ব্লিডিং।ভোর রাতে সেই রুগি মারা গেল।সারা দিন আর রাত রোগীর পাশে থেকেও ডাক্তার ঘোষ সেই রোগীকে বাঁচাতে পারেন নি। এক মিনি ট্রাক ভর্তি পেশেন্ট পার্টি এসে ডাক্তার বাবুকে প্রায় মেরেই ফেলেছিল। কেউ কোথাও নেই।সবাই পালালো।শেষ পর্যন্ত আমরা সুইপার বাহিনী, নিজেরা একটু লোড হয়ে নিয়ে, পালটা লড়াই করে ডাক্তার বাবুকে নিয়ে "সান সাইন" প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম।এখানে আর ফিরে আসেন নি সেই ডাক্তার বাবু।"
#####
এক নিশ্বাসে অনেক কথা বলে চুপ করে থাকে।ভোর হয়ে এসেছে।লোকটা বলে চলে," আসলে আমরা কেউই চায় নি এই সরকারি ব্যবস্হা টিঁকে থাকুক। পাবলিকের পকেটের পয়সা টেনে হেঁচড়ে বাজারে না আনতে পারলে নাকি উন্নয়ন হয় না।আমাদের লিডার অনন্ত সাবুই দুঃখ করে এই কথাগুলোই বলছিল।স্বাস্থ্য আর শিক্ষা এখন দারুণ ব্যবসার জায়গা।আপনার তো মনে হচ্ছে প্রচুর পয়সা।একদিকে একটা স্কুল আর একদিকে একটা হাসপাতাল করে ফেলুন।পয়সাই পয়সা।এই সব সরকারি ব্যপার স্যাপার ত্রিশ বছর আগে চলতো।এখন সব অকেজো।চলি দাদা।"
মন্ডল বাবু আর একটা সিগারেট ধরান।বৌ কে এখানে আর বেশিক্ষণ রাখা যাবে না।কোনরকমে প্রাইভেটে ব্যবস্হা করতেই হবে।মনটা খারাপ লাগছে আসন্ন খরচের কথা ভেবে।বাপ রে!কারোর কাছ থেকে ধার নিতে হবে।এক কথায় পনের লাখ বের করা কি অত সহজ! সে বার হাত ভেঙে এসেছিলাম।একটা পয়সাও খরচ হয় নি হাসপাতালে।আর আজকে তার নিজের প্যাঁচে পড়ে যাওয়া অবস্হা। শুধু দু হাতে যে কোন উপায়ে পয়সা কামাতে কামাতে খেয়ালই করেন নি,সেই বিষাক্ত নেশা সব জায়গাতেই ছড়িয়ে পড়েছে।তারই মধ্যে বেশ কিছু লোক কিন্ত অন্য রকম ছিল।তারা চেয়েছিল ন্যায্য পয়সা উপার্জন করে,হাজার অসুবিধার মধ্যেও,এই পরিষেবাটা টিঁকিয়ে রাখতে।কিন্ত তাঁদের পাশে মন্ডল বাবুরা দল বেঁধে দাঁড়ানোর সময় পান নি। ব্যস্ততার অজুহাতে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে গেছেন।আজ সেই ভুল অজগর সাপ হয়ে হাঁ করে মন্ডল বাবুকেই গিলতে আসছে।
                            @ সন্দীপ চক্রবর্তী


........................................................................ 

NewsDesk - 2

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news