আজকের যুগে কেমন হতে পারে? পরিচালক দেখিয়েছেন ‘শেষের গল্প’, সিনেমায়। জানুন বিস্তারিত - Newsbazar24
বিনোদন

আজকের যুগে কেমন হতে পারে? পরিচালক দেখিয়েছেন ‘শেষের গল্প’, সিনেমায়। জানুন বিস্তারিত

আজকের যুগে কেমন হতে পারে? পরিচালক দেখিয়েছেন ‘শেষের গল্প’, সিনেমায়। জানুন বিস্তারিত

ছবি :  শেষের গল্প

পরিচালক: জিৎ চক্রবর্তী

অভিনয়: সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, মমতাশঙ্কর, পল্লবী চট্টোপাধ্যায়, কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়, কৃষ্ণকিশোর মুখোপাধ্যায়, খরাজ মুখোপাধ্যায়, দুর্গা সাঁতরা, অর্ণ মুখোপাধ্যায়

প্রযোজনা: স্বস্তিকা ফিল্মস

 

রেটিং: ৩/৫

ভূমিকা: দীর্ঘদিন ধরে নানা পত্র-পত্রিকায় পড়ে ছবির গল্প মোটামুটি জানা সবারই। তবু আরেক বার রোমন্থন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৬৭ বছর বয়সে চূড়ান্ত আধুনিকতার নজির গড়েছিলেন বেঙ্গালুরুতে বসে, 'শেষের কবিতা' (Shesher Kabita) লিখে। শিলং-য়ের পাহাড়ি পথে প্রথম দেখার পর অমিত রায়-লাবণ্য দত্তের অর্গলহীন প্রেম যদিও পূর্ণতা পায়নি। বোনের মধ্যস্থতায় অমিতের বিয়ে হয় কেটি বা কেতকীর সঙ্গে। লাবণ্য সাতপাক ঘোরে শোভনলালের সঙ্গে। কালের নিয়মে একসময় দু-জনে দুই প্রান্তে। এখানেই কলম থেমেছে কবিগুরুর। শুরু পরিচালক জিৎ চক্রবর্তীর (Jeet Chakraborty) 'শেষের গল্প' ( Shesher Golpo)। পাশাপাশি, সমান্তরাল ভাবে চলেছে আকাশ-কুহুর গল্প। যাঁরা একুশ শতকের অমিত-লাবণ্য। যাঁরা হুড়মুড়িয়ে প্রেমে পড়ে। কিন্তু দায়িত্ব নিতে ভয় পায়।

পর্দার অমিত-লাবণ্য: আজকের যুগে কেমন হতে পারে? পরিচালক দেখিয়েছেন অমিত বুড়োবুড়িদের মেস চালায়। লাবণ্য অক্সফোর্ড ফের অধ্যাপিকা। দেশে ফিরে বৃদ্ধাশ্রমের আশ্রমিক হিসেবেই  ফের তারা মুখোমুখি। আর আকাশ-কুহু? শিলংয়ের বদলে তাদের গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট করে কলকাতার রাস্তায়। শুরুতে ঝগড়া। তারপর গভীর প্রেম। শেষে অনন্ত বিচ্ছেদ। কিন্তু লাবণ্য-অমিতকে কি একুশ শতক মেলাবে? এই কৌতূহল প্রেক্ষাগৃহের জন্য তোলা থাক?

হারানো প্রাপ্তি: এই ছবিতে প্রচুর। ছড়িয়ে ছিটিয়ে। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-মমতাশঙ্করের (Shoumitra Chatterjee-Mamata Shankar) কথাই ধরুন। এঁদের ছা়ড়া অমিত-লাবণ্য জুটি আর কে হতে পারে! সৌমিত্রবাবুর ভরাট গলার সংলাপ উচ্চারণ, মমতাশঙ্করের নির্বাক অভিনয় অমিত-লাবণ্যের প্রেমে পড়তে বাধ্য করবে এই প্রজন্মকে। নতুন করে। বিশেষ করে, বুকের কাছের মানবী ফের সামনে দাঁড়ালে আবেগে-আনন্দে অধীর পুরুষের চোখ কীভাবে জলে চিকচিকিয়ে ওঠে সৌমিত্রবাবু এই ছবিতে দেখিয়ে দিয়েছেন। দু-জনেরই অভিনয় নিয়ে কিছু বলার নেই। গণশত্রুর পর মমতাশঙ্করের এছবিতে নাচ দর্শকের পরম প্রাপ্তি। সেই সঙ্গে অমিতকে বড় সুন্দর করে সাজিয়েছেন পরিচালক। বিদ্যায়-বুদ্ধিতে-সংযমে স্থিতধী মমতা যেমন ম্যাট ফিনিশ সাজে শুচিস্মিতা; লাল, গাঢ় আকাশ নীল, অবুঝ সবুজ, টমেটো লাল, হলুদের ঔজ্জ্বল্যে ৮৫-তেও সৌমিত্রবাবু ঘুরে দেখার মতোই অভিজাত সৌন্দর্যে উজ্জ্বল। পরিচালককে আরও ধন্যবাদ অনেক বছর পরে কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়ের মতো অভিনেতাকে ফিরিয়ে আনার জন্য। কল্যাণ, কৃষ্ণকিশোর, খরাজ, পল্লবী আর সৌমিত্র-মমতার রোমান্স-ই তো ছবির হারানো প্রাপ্তি।

অপ্রাপ্তি: প্রথম ছবি হিসেবে ভালো বিষয়ই বেছেছেন জিৎ। তবে তা দৈর্ঘের বাহুল্যে এবং ইন্টেলেকচুয়ালিজমের কাঠিন্যে ভারাক্রান্ত। চিত্রনাট্যের বাঁধন আরও টানটান হলে বোধহয় এই ভারীভাব আসত না। সৌমিত্রবাবুকে কোথাও কোথাও বড়ই ক্লান্ত লেগেছে। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি ছেড়ে এখনকার পার্টি কালচারের বাইরে কেন পরিচালক বের হতে পারলেন না, জানি না! জোড়াসাঁকোর ারও কিছু অংশ তো দেখানোই যেতে পারত। জয় সরকারের সুরে প্রতিটি গান ভালো। 

NewsDesk - 2

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news