----ঃ বিপত্তারিণী ব্রত-----ঃ - Newsbazar24
ধর্ম কথা

----ঃ বিপত্তারিণী ব্রত-----ঃ

----ঃ বিপত্তারিণী ব্রত-----ঃ

 

----ঃ বিপত্তারিণী ব্রত-----ঃ

ডঃ রাধা গোবিন্দ ঘোষ,রাষ্ট্রপতি পুরষ্কার প্রাপ্ত, ও বঙ্গরত্ন প্তাপ্ত  শিক্ষক।   

“ব্রিয়তে ইতি ব্রতম্”। যার বরন, গ্রহন, অনুপালন, আচরণ এবং অনুষ্ঠান করা হয় তাকে বলা হয় ব্রত।   নিত্য, নৈমিত্তিক এবং কাম্যভেদে ব্রত তিন প্রকার।  নিত্য কর্ম করলে কোন পুণ্য হয় না, কিন্তু না করলে পাপ হয়। যেমন ব্রাহ্মণদের সন্ধ্যা বন্দনা।  নৈমত্তিক কর্ম করলে পুণ্য হয়।  আবার না করলে পাপ হয়। যেমন  সূর্য গ্রহণ  এবং চন্দ্রগ্রহণ স্নান করলে পুণ্য হয় আবার না করলে পাপ হয়। কাম্য কর্ম করলে পূন্য  হয়,  না করলে পাপও হয় না ।পূন্য প্রাপ্তির জন্য একাদশী, চতুর্দশী  এবং নিত্যব্রত।  চান্দ্রায়ন প্রাজাপত্য   নৈমিত্তিক  ব্রত আবার সুখ এবং সৌভাগ্য প্রভৃতির জন্য অনন্ত চতুর্দশী এবং বট সাবিত্রী ব্রত কাম্য ব্রত।   কোন্ ব্রত  কোন্ অবস্থায়, কোন্  সময় কি প্রকারে করতে হয় তার সবিস্তার ব্যাখ্যা ধর্মশাস্ত্র এবং পুরানে বলা হয়েছে।  সর্বপল্লী ডঃ রাধাকৃষ্ণন বড় সুন্দর একটি কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছেন “Every saint has a past and every sinner has a future” মানুষের জীবনে দুঃখ আছে, বেদনা আছে, হাহাকার  আছে,  অপূর্ণতা আছে, অসন্তোষ আছে। পাপ তাপ এবং পতনের হাত থেকে মানুষ পরিত্রান পেতে চায়।  এজন্য ব্রত পালনের প্রয়োজনীয়তা আছে। ব্রত আচরণে কষ্ট হয়। নিয়ম পালন অনেক কষ্ট স্বীকার করতে হয়। এজন্য অনেকে ব্রত পালন করতে চায়না।  শাস্ত্রে বলাও হয়েছে –

পুন্যস্য ফলমিচ্ছন্তি পুন্যং নেচ্ছন্তি মানবাঃ ।

ন পাপ ফলমিচ্ছন্তি পাপং কুর্বান্তি যত্নতঃ।

 অর্থাৎ মানুষ  পুণ্যফল প্রার্থনা করে, কিন্তু পুণ্যজনক  কাজ করতে চায়না।  এর বিপরীতে পাপের ফল চায়না কিন্তু পাপ কাজ করে থাকে।  পাপের ফল দুঃখজনক কিন্তু পুণ্যের ফল সুখদায়ক।  সুখ চাইবো কিন্তু কষ্ট করব না এটা কেমন করে সম্ভব? যদি ঈশ্বরের প্রসাদ লাভ করতে হয় তো, ব্রত  এবং নিয়ম পালন করতেই হবে।  ব্রত পালনের মাধ্যমেই ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করা সম্ভব।  ব্রত পালন করতে হলে কাল, অয়ন, ঋতু, পক্ষ, তিথি, বার, নক্ষত্র, মুহূর্ত, ঘন্টা, লগ্ন প্রভৃতি বিশেষভাবে অনুধাবন করতে হয়।  বিপদঃ তাড়যতি যা সা বিপত্তারিণী।  চলার পথে মানুষের জীবনে ঘনিয়ে আসে নানা বাধা, নানা বিপত্তি। সেই বিপদ থেকে যাতে মুক্তি পাওয়া যায় তার জন্য বিপত্তারিণী ব্রত পালন করা হয়। আষাঢ় মাসের শুক্লা তৃতীয় থেকে নবমী তিথির মধ্যে যেকোনো  শনিবার বা মঙ্গলবার বিপত্তারিণী ব্রত পালন করতে হয়। একটি ঘট  স্থাপন করে পুরোহিত ব্রাহ্মণ এর দ্বারা পূজার নিয়ম নির্দিষ্ট।  সাধ্যমত ব্রাহ্মণ কে দানধ্যান ও দক্ষিণা দেওয়া কর্তব্য।  এই ব্রত পালন করতে হলে কিছু উপকরণের প্রয়োজন  আছে। পঞ্জিকামতে একটি ঘটে অশীষ ডাব, নৈবদ্য  একটি। ১৩ রকমের ফল ও ভাগ করে দিতে হয়।  একটি চুবড়িতে ১৩ টি গোটা ফল ১৩ গাছি লাল সুতো ১৩ দূর্বা ১৩ টি পান এবং ১৩টি সুপারি দিতে হয় । এছাড়া কিছু অতিরিক্ত নিয়ম আছে। ব্রতের আগেরদিন নিরামিষ আহার করতে হয়। ব্রতের দিন পূজা শেষে ব্রত  কথা শুনে সেই আসনে বসেই ফলমূলএবং মিষ্টান্ন কিংবা লুচি খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করতে হয়।  লাল সুতা পুরুষদের ডান হাতে স্ত্রীলোকের বাঁ হাতে বাধতে হয়। পুরোহিতকে যথাসাধ্য দক্ষিণা দিতে হয়,

 ব্রতের ফল ঃ-  এই ব্রত পালন করলে সংসারের যাবতীয় বিপদ কেটে যায়  

ব্রতকথা ঃ-  বিদর্ভ দেশে এক রাজা ছিলেন। তার স্ত্রী ছিলেন স্বামী ভক্তি পরায়ণা এবং ভক্তিমতী। একদিন রানী খুব ভক্তি সহকারে বিপত্তারিণীর ব্রত  করলেন। এক দরিদ্র মুচিনির সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়। একদিন রানী তাকে বললেন ‘তোমরা তো গো মাংস রান্না করো একদিন নিয়ে আসতে পারবে? দেখবো কি রকম মুচিনি যত্ন করে গোমাংস রেঁধে কাপড় চাপা দিয়ে রাজবাড়িতে এসে রানীকে জানান যে সে গোমাংস এনেছে রানী না খেয়ে  যত্ন করে ঢাকা দিয়ে রাখলেন।মুচিনি  গোমাংস আনার সময় রাজবাড়ীর এক চাকর তাকে  দেখে রাজা কে সব বলে দেয়।  রাজা রানীর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, “মুচিনি তোমাকে কিছু দিয়ে গেছে”? “যদি আপত্তিকর কিছু দিয়ে থাকে তবে তোমার শিরশ্ছেদ করব। রানী পড়লেন বিপদে।  উপায় না দেখে ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে একমনে মা বিপত্তারিনী দুর্গা কে ডাকতে লাগলেন।  মা বিপত্তারিনী দুর্গা ভক্তের আকুল কান্নায় স্থির থাকতে পারলেন না। রানীর  কানে কানে সান্তনা দিয়ে বললেন”  গিয়ে দেখ সব ফুল হয়ে আছে”।  রানী রাজা কে সেই ফুল এনে দেখালেন। রাজা চাকরকে তিরস্কার করলেন।  মা বিপত্তারিনী দুর্গার কৃপায় রানীর বিপদ কেটে গেল।  সেই থেকে বিপত্তারিণী ব্রতের  কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।  ব্রত আমাদের জীবনের আধ্যাত্বিক উন্নতির সরলতম পথ । দুঃখ, ভয়, শোক, মোহ এবং অজানের নিবৃত্তিই এবং অখন্ড মানষিক তৃপ্তিলাভই ব্রত পালনের মূল লক্ষ্য। ব্রত পালনের মাধ্যমে মানুষের বাহ্য  বৃত্তিকে  অন্তর্মুখী করা যায়।  ব্রত মানুষের কামনা বাসনা পূর্ণ করার দ্বার।ভগবান বেদব্যাস ব্রতের আদি উপদেষ্টা । ভারতীয় জনমানস  এজন্য বেদব্যাস এর কাছে ঋণী। ব্রতকে বলা হয়েছে তপস্যা। ব্রত পালনের মাধ্যমে পাপ কর্ম দূর হয়।  পুন্য লাভ করা যায় এবং ভগবানকে লাভ করার পথ সুগম হয়। ব্রত  এবং  উপবাসের মাধ্যমেই আচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।  অগ্নিপুরাণ ভবিষ্যপুরাণ মৎস্যপুরাণ পদপূরান স্কন্দ পুরান, বরাহপুরান এবং বিষ্ণু ধর্মোত্তর  আদি পু্রানে ব্রতের মাহাত্মের  কথা বলা হয়েছে। বরাহপুরানে বলা হয়েছে—

 “সকৃদেব প্রপন্নায় ত বাস্মীতি চ যাচতে।

অভয়ং সর্বভূতেভ্যো দদাম্যোদৎ ব্রতং  মম”।

বাংলা অর্থ ঃ- যে একবার”আমি তোমার” এই বলে আশ্রয় প্রার্থনা করে আমি সমস্ত প্রানী থেকে তাকে অভয় দান করি।

NewsDesk - 3

aappublication@gmail.com

Newsbazar24 Reporter

Post your comments about this news