গাজোলে পুকুর সংস্কারে উঠে এল প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি: পূজার্চনায় মাতলেন গ্রামবাসীরা
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক, মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুর: রঙের উৎসব দোলের দিনেই প্রাচীন ইতিহাসের হদিস মিলল উত্তরবঙ্গের দুই জেলায়। একদিকে মালদহের গাজোলে পুকুর সংস্কার করতে গিয়ে উঠে এল কয়েকশ বছরের প্রাচীন এক বিষ্ণুমূর্তি। অন্যদিকে, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে প্রথমবারের মতো পুকুরের জল শুকিয়ে যাওয়ায় সন্ধান মিলল রহস্যময় ইটের সিঁড়ির। দোলপূর্ণিমার পুণ্য লগ্নে এই দুই আবিষ্কারকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উন্মাদনা ছড়িয়েছে।
গাজোলে পুকুর খুঁড়তেই মিলল বিষ্ণুমূর্তি
মঙ্গলবার গাজোলের মাঝরা গ্রাম পঞ্চায়েতের রুহিমারি গ্রামে একটি পুকুর সংস্কারের কাজ চলছিল। আর্থমুভার দিয়ে মাটি খোঁড়ার সময় হঠাৎই পাথর সদৃশ একটি বস্তু উঠে আসে। সেটি ধুয়ে পরিষ্কার করতেই দেখা যায় তা আড়াই ফুট লম্বা ও দুই ফুট চওড়া একটি প্রাচীন পাথরের বিষ্ণুমূর্তি।
আরও পড়ুন-মালদহে আরপিএফের জালে তিন বাংলাদেশি যুবতী, বেঙ্গালুরু যাওয়ার পথে ফাঁস অবৈধ অনুপ্রবেশ চক্র?
মূর্তিটি উদ্ধারের পর গ্রামবাসীরা সেটিকে পরিষ্কার করে স্থানীয় একটি মন্দিরে স্থাপন করেন এবং পূজার্চনা শুরু হয়। দোলপূর্ণিমার দিন মূর্তিটি পাওয়ায় একে অলৌকিক মাহাত্ম্য হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে গাজোল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও গ্রামবাসীরা তাঁদের ভাবাবেগের দোহাই দিয়ে মূর্তিটি পুলিশের হাতে তুলে দিতে অস্বীকার করেন। পুলিশ জানিয়েছে, উৎসবের দিনে জোর না করলেও শীঘ্রই মূর্তিটি উদ্ধার করে প্রত্নতাত্ত্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
বালুরঘাটে রহস্যময় সিঁড়ির হদিস
অন্যদিকে, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট ব্লকের নাজিরপুর পঞ্চায়েতের কিসমত যশাহার এলাকায় এক বড় পুকুরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। স্থানীয়দের কাছে এই পুকুরটি চিরকালই রহস্যময় ছিল, কারণ প্রখর গ্রীষ্মেও এর জল কখনও পুরোপুরি শুকোয় না। কিন্তু এই বছর ব্যতিক্রমভাবে পুকুরের জল শুকিয়ে যাওয়ায় তলদেশে ইটের তৈরি একটি প্রাচীন সিঁড়ি দৃশ্যমান হয়েছে।
এই সিঁড়ির অস্তিত্ব প্রকাশ্যে আসতেই এলাকাবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অনেকের ধারণা, এটি কোনো প্রাচীন মন্দির সংলগ্ন জলাধার বা জমিদার বাড়ির কুয়োর অংশ হতে পারে। পুকুর পাড়ে থাকা একটি প্রাচীন শিবলিঙ্গ এবং খণ্ডিত কালীমূর্তির অস্তিত্ব এই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন এই রহস্যময় সিঁড়ি ও পুকুরটি নিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান চালাক, যাতে অজানা ইতিহাসের পর্দা উন্মোচিত হয়।





