অক্ষয় তৃতীয়া ২০২৬ কবে? ১৯ না ২০ এপ্রিল
অক্ষয় তৃতীয়া ২০২৬: কবে পড়েছে এই শুভ দিন? জেনে নিন সোনা কেনা ও পুজোর নির্ভুল সময় ও নির্ঘণ্ট
নিউজ বাজার২৪ , ধর্ম ডেস্ক: হিন্দু ধর্মে ‘অক্ষয় তৃতীয়া’ বা ‘আখা তীজ’ অত্যন্ত পবিত্র ও শুভ একটি দিন। মনে করা হয়, এই বিশেষ দিনে কোনো শুভ কাজ করলে তার ফল কখনও ক্ষয় হয় না, অর্থাৎ তা অক্ষয় থাকে। বিশেষ করে নতুন ব্যবসা শুরু, সোনা কেনা বা গৃহপ্রবেশের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত প্রশস্ত। ২০২৬ সালে অক্ষয় তৃতীয়া কবে এবং পুজোর শুভ মুহূর্ত কখন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল শুরু হয়েছে।
অক্ষয় তৃতীয়া ২০২৬-এর সঠিক তারিখ ও সময়
হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়।
তারিখ: ২০২৬ সালে অক্ষয় তৃতীয়া পালিত হবে ২০ এপ্রিল, সোমবার।
তিথি শুরু: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে তৃতীয়া তিথি শুরু হবে।
তিথি সমাপ্তি: ২০ এপ্রিল ২০২৬, রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে এই তিথি শেষ হবে।
উদয়া তিথি অনুযায়ী, ২০ এপ্রিলই প্রধান উৎসব ও দান-ধ্যান পালিত হবে।
আরও পড়ুন-চৈত্র নবরাত্রিতে এই পাঠ করলে বদলে যেতে পারে ভাগ্য—জানেন কীভাবে?
সোনা কেনা ও পুজোর শুভ মুহূর্ত (Shubh Muhurat)
অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটি ‘অবুঝ মুহূর্ত’ হিসেবে পরিচিত, অর্থাৎ এই দিনে কোনো শুভ কাজের জন্য আলাদা করে সময় দেখার প্রয়োজন হয় না। তবুও শাস্ত্রীয় মতে পুজোর সেরা সময় হলো:
পুজোর সময়: ২০ এপ্রিল সকাল ০৫টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত।
সোনা কেনার সময়: ওই দিন সকাল ০৫টা ৫০ মিনিট থেকে শুরু করে রাত ১০টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত সোনা বা নতুন অলঙ্কার কেনা যাবে।
অক্ষয় তৃতীয়ার ধর্মীয় গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য
পৌরাণিক মতে, এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম:
এই দিনেই ভগবান বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্ম হয়েছিল।
বিশ্বাস করা হয়, অক্ষয় তৃতীয়াতেই বেদব্যাস এবং গণেশ মিলে মহাভারত রচনা শুরু করেছিলেন।
এই পুণ্য তিথিতেই গঙ্গা মর্ত্যে অবতরণ করেন বলে মনে করা হয়।
এদিন দান-ধ্যান করলে অক্ষয় পুণ্য লাভ হয় এবং পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় থাকে।
কী করবেন এই বিশেষ দিনে?
১. এদিন সকালে স্নান সেরে ভগবান বিষ্ণু ও মা লক্ষ্মীর আরাধনা করুন। ২. সাধ্যমতো সোনা বা রূপোর কোনো জিনিস কিনুন। না পারলে নতুন কোনো ধাতু বা চাল কেনাও শুভ বলে মানা হয়। ৩. অভাবী মানুষকে ছাতা, জলভরা কলসি বা অন্ন দান করা অত্যন্ত পুণ্যদায়ক। ৪. ব্যবসায়ীরা এদিন নতুন ‘হালখাতা’ বা হিসাবের খাতা শুরু করতে পারেন।
শেষ কথা
অক্ষয় তৃতীয়া শুধু একটি উৎসব নয়, এটি বিশ্বাস, সমৃদ্ধি ও শুভ সূচনার প্রতীক। এই দিনে করা প্রতিটি শুভ কাজ ভবিষ্যতে ভালো ফল বয়ে আনে বলেই মনে করা হয়। তাই সঠিক সময় জেনে এই পুণ্য তিথিকে কাজে লাগান।



