যানজট এড়াতে আকাশপথে ‘এয়ার ট্যাক্সি’! দিল্লি-এনসিআরে পাইলট প্রকল্পের ভাবনা, ১২ মিনিটে গুরুগ্রাম
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক: সড়কপথে যানজট এখন বড় শহরগুলির নিত্যসঙ্গী। জরুরি কাজে দেরি, এমনকি রোগী পরিবহণে বিপদের ঘটনাও নতুন নয়। এই সমস্যার সমাধানে আকাশপথে ‘ই-এয়ার ট্যাক্সি’ পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা সামনে এসেছে। লক্ষ্য—শহুরে যাতায়াতে সময় বাঁচানো এবং অবকাঠামোগত চাপ কমানো।
কোথায় শুরু হতে পারে পাইলট প্রকল্প?
ভারতীয় শিল্প কনফেডারেশন (CII) একটি পাইলট করিডোর মডেলের রূপরেখা প্রকাশ করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে গুরুগ্রাম, কনট প্লেস এবং জেওয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে যুক্ত করে একটি করিডোর তৈরি করা যেতে পারে। এই পাইলট সফল হলে মুম্বই, চেন্নাই, হায়দরাবাদ ও বেঙ্গালুরুর মতো বড় শহরেও পরিষেবা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য দিল্লি থেকে গুরুগ্রাম পৌঁছাতে আকাশপথে ১২ মিনিটেরও কম সময় লাগতে পারে—যেখানে সড়কপথে ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টা লাগে। একইভাবে, কনট প্লেস থেকে নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০ মিনিটের কম সময়ে পৌঁছনো সম্ভব হতে পারে, যা বর্তমানে সড়কে ২–৩ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় নেয়।
আরও পড়ুন- কৃত্রিম সূর্য’ দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড, পারমাণবিক ফিউজনে ঐতিহাসিক সাফল্য চীনের
কীভাবে কাজ করবে ‘ই-এয়ার ট্যাক্সি’?
এই পরিষেবায় ব্যবহার হতে পারে বৈদ্যুতিক ভার্টিকাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং (eVTOL) বিমান। ছাদের উপর টেক-অফ ও ল্যান্ডিংয়ের ধারণা (ভার্টিপোর্ট) বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। বাণিজ্যিক কেন্দ্র, হাসপাতাল, টেক পার্ক ও আবাসিক টাওয়ারের ছাদকে ভার্টিপোর্ট হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে মাল্টিমোডাল সংযোগ এবং ব্যাটারি চার্জিং অবকাঠামোও শক্তিশালী হবে।
আগে জরুরি পরিষেবা, পরে সাধারণ যাত্রী
প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা জরুরি অবস্থা, অঙ্গ পরিবহণ ও ওষুধ সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ই-এয়ার ট্যাক্সি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ধাপ সফল হলে ধীরে ধীরে সাধারণ যাত্রী পরিষেবাও চালু করা হতে পারে।
ভাড়া ও সময়সূচি
প্রাথমিক হিসেবে যাত্রীপিছু ভাড়া ২০০০–৩০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব। সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে দিল্লি-এনসিআরের বাসিন্দাদের জন্য আকাশপথে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াতের নতুন বিকল্প তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, যানজটের শহরে সময় বাঁচাতে আকাশপথে ‘এয়ার ট্যাক্সি’ ভবিষ্যতের পরিবহণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।





