ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়লেন এইডেন মার্করাম: কী বললেন হতাশ অধিনায়ক?
নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ ইতিহাস কি তবে বারবার ফিরে আসে? আইসিসি টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে নিউজিল্যান্ড মানেই কি হার? পরিসংখ্যান অন্তত সেই দিকেই আঙুল তুলছে। আরও একবার বড় টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে কিউইদের কাছে ধরাশায়ী হতে হলো প্রোটিয়াদের। এই নিয়ে চতুর্থবার আইসিসি ইভেন্টের নকআউট পর্বে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিতে হলো দক্ষিণ আফ্রিকাকে। আর এই হারের পর রীতিমতো কান্নায় ভেঙে পড়লেন প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করাম।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: কিউইদের সামনে কেন অসহায় দক্ষিণ আফ্রিকা?
ক্রিকেট বিশ্বে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ‘চোকার্স’ বলা হয় কারণ তারা বড় মঞ্চে বারবার তীরে এসে তরী ডুবিয়ে দেয়। আর সেই ব্যর্থতার ইতিহাসে নিউজিল্যান্ডের নামটা যেন কালির অক্ষরে লেখা। ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল হোক বা ২০১৫ সালের সেই রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনাল— নিউজিল্যান্ড বারবার স্বপ্ন ভেঙেছে দক্ষিণ আফ্রিকার। ২০১৯ সালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবারও নকআউট পর্বে নিউজিল্যান্ডের মরণকামড় সহ্য করতে পারল না মার্করাম বাহিনী।
ম্যাচ শেষে কী বললেন হতাশ অধিনায়ক মার্করাম?
ম্যাচ হারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এইডেন মার্করাম। তিনি জানান, “এই হার ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আমরা জানতাম ইতিহাস আমাদের বিপক্ষে, কিন্তু এবার আমরা মানসিকভাব অন্যরকম প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম এই ‘চোকার্স’ তকমা মুছে দিতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আবারও আমাদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।”
মার্করাম আরও যোগ করেন, “দলের ড্রেসিংরুমে এখন শ্মশানের স্তব্ধতা। সতীর্থদের চোখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি ঠিকই, কিন্তু নকআউটের চাপ সামলাতে কোথাও একটা ভুল হয়ে গেল।
আরও পড়ুন-সহমতির সম্পর্ক তিক্ত হলেই তা ‘ধর্ষণ’ নয়! প্রমাণাভাবে যুবককে মুক্তি দিয়ে বড় পর্যবেক্ষণ দিল্লি আদালতের
ব্যর্থতার কারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ম্যাচের স্নায়ুর চাপ সামলাতে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যর্থতা আবারও সামনে চলে এসেছে। বিশেষ করে ফিল্ডিং মিস এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারানোই কাল হলো তাদের জন্য। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড তাদের চিরাচরিত শান্ত মেজাজে ম্যাচ বের করে নিয়ে গেল। এই হারের ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বর্ষীয়ান ক্রিকেটারদের অনেকেই হয়তো এটাই শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে দেখছেন। নতুন প্রজন্মের এইডেন মার্করামের হাত ধরে দল ঘুরে দাঁড়াতে চায়লেও, নকআউটের এই ‘কিউই জুজু’ কবে কাটবে, তা সময়ই বলবে।





