news bazar24: ১৮ অক্টোবর ২০২৫
আজকের দ্রুতগতির জীবনে অ্যাসিড রিফ্লাক্স এবং অ্যাসিড পেপটিক ডিজিজ (GERD) অত্যন্ত সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা হয়ে উঠেছে।
বুকজ্বলা, পেটজ্বালা, ঢেকুর, পেট ফুলে যাওয়া কিংবা খাবার খাওয়ার পর বমিভাবের মতো উপসর্গ এখন প্রায় ঘরে ঘরে দেখা যায়।
অনেকেই অম্বল বা অস্বস্তিকে তেমন গুরুত্ব দেন না, কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন—এই সমস্যা শুধুমাত্র সাময়িক অম্বল নয়, বরং এটি শরীরের সার্বিক সুস্থতা, মানসিক ভারসাম্য এবং সামাজিক জীবনযাপনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এই সমস্যার মূল সমাধান ওষুধে নয়, বরং আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারার পরিবর্তনে লুকিয়ে আছে।
Google Maps কে চ্যালেঞ্জ করতে এল MapmyIndia-এর Mappls, জেনে নিন বিশেষ ফিচারগুলো
খাওয়ার ধরনেও লুকিয়ে আছে উপশমের চাবিকাঠি
আমরা প্রায়ই শুনি, “কী খাবো” — কিন্তু “কীভাবে খাই”, সেটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের স্পাইনাল ইনজুরিজ সেন্টারের সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সিদ্ধার্থ মিশ্র বলেন,
“আমরা যখন খুব দ্রুত খাই, তখন অজান্তেই অতিরিক্ত বাতাস গিলে ফেলি। ফলে পেটে চাপ বাড়ে এবং অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে আসে। প্রতিটি কামড় অন্তত ২০–৩০ বার চিবিয়ে খেলে হজমের এনজাইম সক্রিয় হয় এবং পেটের কাজ অনেক সহজ হয়।”
অর্থাৎ, Mindful Eating— অর্থাৎ ধীরে, মনোযোগ দিয়ে খাওয়া—হজমে বিশাল ভূমিকা রাখে।
খাবারের সময় বসে থাকা, ফোন বা টিভি দেখা বন্ধ রাখা এবং পর্যাপ্ত সময় নেওয়া হজমতন্ত্রকে স্বস্তি দেয়।
খাবারের সময় নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ
রাতে দেরি করে ভারী খাবার খাওয়া অ্যাসিড রিফ্লাক্সের অন্যতম কারণ।
ডা. মিশ্র বলেন,
“ভারী খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লে অ্যাসিড সহজেই খাদ্যনালিতে ফিরে আসে। তাই শোওয়ার অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা উচিত।”
তাছাড়া, লেট-নাইট স্ন্যাকিং বা দেরি করে খাওয়া ঘুমের মান কমিয়ে দেয় এবং হজমে বিঘ্ন ঘটায়।
দিনে তিনটি বড় খাবারের বদলে ছোট ছোট ভাগে পাঁচবার খাওয়া হজমতন্ত্রের জন্য অনেক ভালো।
২০২৬ সালে শনির সাড়ে সাতি তুঙ্গে! তিন রাশির জীবনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
জল পান করার অভ্যাসেও সচেতনতা দরকার
খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত জল পান করলে পাকস্থলীর অ্যাসিড পাতলা হয়ে যায় এবং হজম ধীর হয়।
সারা দিনে অল্প অল্প করে জল পান করা উচিত। ঠান্ডা জল না খেয়ে রুম টেম্পারেচারের জল খাওয়া হজমে সাহায্য করে।
খাওয়ার ২০ মিনিট আগে বা পরে জল পান করা সবচেয়ে উপযুক্ত।
খাদ্যাভ্যাসে বুদ্ধিদীপ্ত পরিবর্তন আনুন
অ্যাসিড রিফ্লাক্স নিয়ন্ত্রণ মানে শুধু কিছু খাবার এড়ানো নয়, বরং সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা।
প্রথমেই নিজের ট্রিগার ফুড চিনে নিন—যে খাবারে আপনার অম্বল বাড়ে।
সাধারণত অতিরিক্ত মশলাদার, তৈলাক্ত, চকোলেট, ক্যাফেইন, সাইট্রাস ফল (যেমন কমলা, টমেটো) এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
ডা. মিশ্র বলেন,
“পুরোপুরি পরিহার করা কঠিন, তাই সংযমই মূল কথা। দিনে এক কাপ হালকা কফি খাওয়া ক্ষতিকর নয়, কিন্তু অতিরিক্ত কফি হজমে সমস্যা বাড়ায়।”
একটি অ্যান্টি–ইনফ্ল্যামেটরি ও গাট-ফ্রেন্ডলি ডায়েট তৈরি করুন—
যাতে থাকে:
-
আদা: প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক ও হজমে সহায়ক।
-
ওটস: ফাইবার সমৃদ্ধ, পেটের অ্যাসিড শোষণ করে।
-
চর্বিহীন প্রোটিন: মাছ, মুরগি ও ডাল।
-
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট: অ্যাভোকাডো, বাদাম ও অলিভ অয়েল।
-
সেদ্ধ সবজি ও নন-সাইট্রাস ফল: কলা, তরমুজ, লাউ, শাকসবজি।
জীবনযাপনে পরিবর্তন: স্ট্রেস ও ভঙ্গির প্রভাব
মানসিক চাপ অ্যাসিড রিফ্লাক্সের অন্যতম কারণ।
ডা. মিশ্র বলেন,
“পেট ও মস্তিষ্কের মধ্যে গভীর যোগসূত্র আছে। মানসিক চাপ পেটে অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়, যা হজমে সমস্যা তৈরি করে।”
তাই প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট রাখুন — যোগব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি, ধ্যান বা ডিপ ব্রিদিং-এর জন্য।
এগুলো শুধু মানসিক প্রশান্তিই দেয় না, বরং হজমতন্ত্রের ভারসাম্যও বজায় রাখে।
রাতে রিফ্লাক্স হলে বিছানার মাথার দিক ছ’ইঞ্চি উঁচু করে দিন।
এছাড়া কোমরে টাইট পোশাক না পরে ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার করুন, যাতে পেটে চাপ না পড়ে।
শেষকথা
অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও পেপটিক ডিজিজের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কেবল ওষুধ নয়।
সচেতন জীবনধারা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক প্রশান্তিই পারে পেট ও মন—দু’টোকে সমানভাবে সুস্থ রাখতে।
যেমনটি ডা. মিশ্রর কথায়,
“ওষুধ সাময়িক উপশম দেয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান আসে তখনই, যখন আপনি নিজের শরীরের ভাষা শুনতে শেখেন।”






