নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক ঃ মালদহের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক দীর্ঘ ও বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান ঘটল। আজ রাত ৯টা নাগাদ কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আবু হাসেম খান চৌধুরী, যিনি রাজনৈতিক মহলে এবং সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন তাঁর ডাকনাম ‘ডালুবাবু’ হিসেবে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
তাঁর প্রয়াণের খবর নিশ্চিত হতেই মালদহ জেলা জুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। গনি খান চৌধুরীর উত্তরসূরি হিসেবে তিনি দশকের পর দশক ধরে মালদহের রাজনীতিকে এক হাতে সামলেছেন।
বর্ণময় রাজনৈতিক জীবন ও কর্মধারা
১৯৩৮ সালের ১২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করা আবু হাসেম খান চৌধুরী ছিলেন মালদহের প্রভাবশালী চৌধুরী পরিবারের এক অন্যতম স্তম্ভ। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল জনসেবায় নিবেদিত:
বিধায়ক হিসেবে হাতেখড়ি: ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথমবার বিধানসভায় নির্বাচিত হন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা দশ বছর তিনি বিধায়ক হিসেবে এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন।
সাংসদ ও জাতীয় রাজনীতি: ২০০৬ সালে তাঁর দাদা গনি খান চৌধুরীর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে জিতে তিনি প্রথমবার লোকসভায় যান। এরপর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি দক্ষিণ মালদহ কেন্দ্রের সাংসদ হিসেবে অত্যন্ত দাপটের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব: ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি মনমোহন সিং-এর মন্ত্রিসভায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২০১৪ সালের মে মাস পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
আরও পড়ুন-কালিয়াচকের কৃষকপুত্রের বিশ্বজয়! জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে সোনা জিতল মালদহের মেহেবুবুল
ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয়তা
ডালুবাবু শুধু একজন বড় মাপের রাজনীতিবিদই ছিলেন না, বরং তাঁর মৃদুভাষী স্বভাব এবং মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। মালদহের উন্নয়নে, বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। দীর্ঘ অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের কথা ভেবেছেন।
শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি
পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, আজ রাতে তাঁর মরদেহ কলকাতায় সংরক্ষিত থাকবে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) মরদেহ সড়কপথে কলকাতা থেকে মালদহে নিয়ে আসা হবে। দীর্ঘদিনের প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে কোতোয়ালি ভবনে অনুগামী ও সাধারণ মানুষের ভিড় জমবে বলে আশা করা হচ্ছে। মালদহের পৈতৃক ভিটেতেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
বিধান সভা নির্বাচনের আগে এই বিশিষ্ট এই জননেতার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। মালদহের রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র চিরতরে বিদায় নিল।





