নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক ঃ তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তার এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচন কমিশন-এর কিছু নির্দেশ নাকি আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের বদলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতিতে প্রশাসনিক নির্দেশ আদানপ্রদান নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সাংবিধানিক কাঠামোকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, বিশেষ রোল অবজারভার সি. মুরুগন মাইক্রো অবজারভারদের সরাসরি নির্দেশ দিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নির্দিষ্টভাবে নাম ছাঁটাইয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। তিনি ইঙ্গিত করেন, যদি এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতার উপর গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, রোল অবজারভারদের লগইন তথ্য কলকাতা থেকে ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। যদিও কোন সম্প্রদায়ের কথা তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, তবে তাঁর অভিযোগে নির্বাচনী প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর মতে, যদি প্রশাসনিক লগইন তথ্যের অপব্যবহার হয়ে থাকে, তবে তা সাইবার নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক সততার ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক বিষয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিষয়টি আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ফের সুপ্রিম কোর্ট-এর দ্বারস্থ হওয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হয়ে থাকলে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হবে। তাঁর কথায়, “গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল করার কোনও চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।”
এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক মহলও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এই পর্যায়ে যদি পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তবে তা নির্বাচনকে ঘিরে জনমনে সন্দেহ ও অবিশ্বাস বাড়াতে পারে। বিশেষত আদালতের নির্দেশ অমান্যের প্রসঙ্গ সামনে আসায় বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনায় রাজ্যের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ নাগরিক—সবারই। আগামী দিনে আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্বাচন কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট হলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।





