সংগঠক থেকে নেতৃত্বে অভিষেকের উত্থান
নিউজ বাজার২৪, কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী সন্ধিক্ষণ হতে চলেছে। এই নির্বাচন কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হ্যাটট্রিক পরবর্তী ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই নয়, বরং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্তরণ এবং নেতৃত্বের চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষাও বটে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ১০ তারিখের ফলাফলই নির্ধারণ করে দেবে তৃণমূলের অন্দরে এবং গোটা বাংলার রাজনীতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব ঠিক কতটা সুদূরপ্রসারী হবে।
সংগঠক থেকে সেনাপতি: অভিষেকের বিবর্তন
গত কয়েক বছরে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন এনেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘তৃণমূলে নব জোয়ার’ কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে ঘুরে মানুষের নাড়ি টিপে দেখেছেন। টিকিট বন্টন থেকে শুরু করে প্রচারের কৌশল—সবক্ষেত্রেই এবার ছিল ‘অভিষেক ছাপ’। আধুনিক প্রযুক্তি, ডেটা অ্যানালাইসিস এবং পেশাদার সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় তিনি যেভাবে প্রচারের ময়দান সাজিয়েছেন, তা সনাতনী রাজনীতির বাইরে এক নতুন ঘরানা তৈরি করেছে। প্রবীণ নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়ে নবীন প্রজন্মের নেতাদের সামনের সারিতে নিয়ে আসার যে ‘পাওয়ার ট্রান্সফার’ প্রক্রিয়া তিনি শুরু করেছেন, তার চূড়ান্ত সিলমোহর মিলবে এই নির্বাচনের ফলেই।
জাতীয় রাজনীতি ও দিল্লির লক্ষ্য
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কেবল নবান্নের অলিন্দে সীমাবদ্ধ নেই। তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন যে, দিল্লির মসনদে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি অন্যতম প্রধান মুখ হতে চান। ২০২৬-এ যদি তৃণমূল ফের বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফেরে, তবে জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মধ্যে অভিষেকের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, এই জয়ের পর দলের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে মমতার পর দ্বিতীয় নয়, বরং সমানুপাতিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন তিনি।
আরও পড়ুন-গণনার আগেই মালদহে ‘গেরুয়া’ আবিরের রমরমা, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
চ্যালেঞ্জ যখন কেন্দ্রীয় সংস্থা ও বিরোধীরা
তবে অভিষেকের এই যাত্রাপথ গোলাপ বিছানো নয়। একদিকে ইডি-সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর লাগাতার চাপ, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কড়া আক্রমণ—সব মিলিয়ে তিনি এক বহুমুখী লড়াইয়ের মধ্যে রয়েছেন। তা সত্ত্বেও, চাপের মুখে নতিস্বীকার না করে যেভাবে তিনি জনসংযোগ বজায় রেখেছেন, তা তাঁর রাজনৈতিক পরিপক্কতারই পরিচয় দেয়। তাঁর লক্ষ্য খুব স্পষ্ট—২০২৬-এর জয়ের মাধ্যমে বিরোধীদের যাবতীয় অভিযোগের জবাব ব্যালট বক্সে দেওয়া।
বিশ্লেষকদের নজর: কী হবে ফলাফল?
বাংলার রাজনীতিতে এখন একটাই প্রশ্ন—অভিষেকের ‘ভিশন ২০২৬’ কি সফল হবে? যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনমুখী প্রকল্পের সুফল তৃণমূলকে ফের ক্ষমতায় আনে, তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে মেনে নেওয়া ছাড়া প্রবীণ নেতাদেরও আর কোনো উপায় থাকবে না। তৃণমূলের আগামীর রূপরেখা এখন পুরোপুরি ইভিএম-বন্দি।





