হরিশ্চন্দ্রপুরে জনজোয়ার, শক্তি প্রদর্শন তৃণমূলের
নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক, মালদহ: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বেজে উঠতেই উত্তরবঙ্গের মাটি কামড়ে লড়াই শুরু করল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে এক বিশাল রোড শো এবং পথসভার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারের পারদ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চাঁচলের দলীয় প্রার্থী প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হরিশ্চন্দ্রপুরের প্রার্থী মতিবুর রহমানের সমর্থনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জনজোয়ার আছড়ে পড়ল মালদহের রাস্তায়।
জনসমুদ্রে পরিণত হরিশ্চন্দ্রপুর
এদিন দুপুর থেকেই হরিশ্চন্দ্রপুরের তুলসীহাটা চুরিপট্টি এলাকা অগণিত তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেগা রোড শো-টি যখন ভবানীপুর ব্রিজের দিকে এগোতে থাকে, তখন রাস্তার দু’ধারে বাড়ির ছাদ এবং বারান্দা থেকেও সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ে। মিছিল শেষে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ফ্লাইওভারের নিচে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত ধারালো পথসভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
‘বহিরাগত’ ইস্যুতে কড়া বার্তা
পথসভা থেকে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “ভোটের আগে এই শান্ত বাংলার পরিবেশ নষ্ট করতে বিজেপি বাইরের রাজ্য থেকে লোক ঢোকাবে। আপনাদের এলাকায় এমন কোনো বহিরাগতকে দেখতে পেলেই তাদের আটকে রাখুন, ঘিরে রাখুন। এরা বাংলার শান্তি বিঘ্নিত করতে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বা ভোট বানচাল করতে আসছে।” তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
আরও পড়ুন- দিল্লি থেকে নাম কাটা হচ্ছে ! মানিকচকের সভা থেকে শাহকে চ্যালেঞ্জ মমতার
পাকিস্তান ইস্যু ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধানমন্ত্রীত্ব
সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর কলকাতা উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের এত বড় হুমকির পরেও মোদী সরকার কোনো যোগ্য জবাব দিতে পারেনি। দেশের নিরাপত্তা নিয়ে এদের কোনো চিন্তাই নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, “অপেক্ষা করুন, আগামী দিনে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমর্থনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন, তখন পাকিস্তানের ঘরে ঢুকে তাদের মারা হবে। ভারতের সার্বভৌমত্বের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস কেউ পাবে না।”
ভিড় সামলাতে হিমশিম পুলিশ: সভাস্থলে বিশৃঙ্খলা
এদিনের কর্মসূচিতে ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে, পুলিশের তৈরি করা নিরাপত্তা বলয় এবং লোহার ব্যারিকেড কার্যত খড়কুটোর মতো ভেঙে পড়ে। রাস্তার দুধারে এবং ফ্লাইওভারের নিচে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। ভিড়ের চাপে সভাস্থলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মালদহ জেলা পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ির সামনে পৌঁছানোর জন্য সমর্থকদের হুড়োহুড়িতে বেশ কয়েকবার মিছিল থমকেও যায়। তবে বিপুল জনসমাগম দেখে তৃণমূল নেতৃত্ব নিশ্চিত যে, উত্তরবঙ্গের এই গুরুত্বপূর্ণ জেলায় ঘাসফুল শিবিরের পাল্লা এবার বেশ ভারী।
উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ
রাজনৈতিক মহলের মতে, মালদহ জেলা বরাবরই কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল এখানে তাদের শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মেগা রোড শো এবং ‘বহিরাগত’ কার্ড ব্যবহার করার কৌশল মূলত মেরুকরণের রাজনীতিকে মোকাবিলা করার লক্ষ্যেই। বিশেষ করে হরিশ্চন্দ্রপুর ও চাঁচলের মতো এলাকাগুলোতে তৃণমূলের ভোটব্যাংক সুসংহত করতেই এই কর্মসূচি।
এদিনের সভা শেষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন, বাংলার মানুষ দিল্লির ‘জনবিরোধী’ সরকারকে আর এক ইঞ্চি জমি ছাড়বে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের নিরিখেই এবার মালদহ-সহ গোটা বাংলা তৃণমূলকে দু-হাত ভরে আশীর্বাদ করবে।





