Newsbazar24:: মালদহ জেলার ভূতনির চর এলাকার মানুষ প্রশাসনের মুখাপেক্ষী না থেকে এক নতুন নজির সৃষ্টি করল। এক কথায় বলা যায়, প্রশাসনের বঞ্চনার চরম জবাব দিল ভূতনিবাসী।
প্রসঙ্গত চলতি বছরের আগস্টের মাঝামাঝি মালদা জেলার মানিকচক ব্লকের দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঁটা বাঁধ এলাকায় নবনির্মিত রিং বাঁধ ভেঙে যায়। এর এর ফলে ভেসে যায় গোটা ভূতনি এলাকা। ভূতনি থানার অন্তর্গত তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রাম বন্যায় ভেসে যায়, গোটা ভূতনি জুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এখনো প্রায় ৫০০র অধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গৃহহীন হয়ে বাঁধের উপর দিন গুজরান করছে।
বন্যার পর দক্ষিণ চণ্ডীপুর ও হীরাণনন্দপুরের কয়েক হাজার মানুষ এই ভাঙা বাঁধের অংশ দিয়ে নৌকা করে যাতায়াত করছিলেন। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে নৌকা পারাপার করে নিত্যদিনের কাজে যেতে হতো। সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেও এখনও পর্যন্ত কোনো স্থায়ী কাজ শুরু হয়নি। বন্যার সময় সেচ দপ্তরের তরফে বালির বস্তা দিয়ে কাজ করা হলেও, জল নামার পর আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
ভূতনীর এই পরিকাঠামো তৈরী করা নিয়ে সরকারের এই উদাসীনতায় ভূতনীর মানুষের ধৈর্য্য চ্যুতি ঘটে নি। কারন ভূতনীর মানুষদের চাষের পর ফসলের জন্য তিন থেকে চার মাস অপেক্ষা করতে হয়। তাই তারা অপেক্ষা করতে জানে। ভূতনির মানুষদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দক্ষিণ চন্ঠীপুরের সঙ্গে ঐ ভাঙা জায়গা জোড়া দিলে হিরানন্দপুর হয়ে, উত্তর চন্ডীপুর হয়ে মথুরাপুর যাওয়া যাবে।জল কমে যাওয়ার পরেও এখনো পর্যন্ত ঐ জায়গা মেরামত করার কোন উদ্যোগ সরকারি ভাবে নেওয়া হয়নি।
কিন্তূ ভূতনীর যুবকেরা প্রশাসনের উপর ভরসা না করে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছে, নিজেদের স্বেচ্ছাশ্রমে জলের উপর প্লাসটিকের ড্রাম জোড়া দিয়ে তার উপর বাঁশ কেটে দড়ি বেঁধে তৈরী করেছে এক সেতু। যে সেতু জুড়েছ দুই পাড়ের মানুষের আবেগ ভালবাসা।সেতু তৈরি করতে গিয়ে অর্থের জন্য সকলের কাছে ভিক্ষা করতে হয়েছে,কিন্তু তার মধ্যেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছেন এলাকার বেশ কিছু মানুষ। তা সত্ত্বেও নানান প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে তারা তৈরি করেছে এই সেতু। এই সেতু এখন ভূতনীর মানুষের ঐক্য, বঞ্চনার ও উপেক্ষার প্রতীক।
রাজনৈতিক আবহে যখন রাজ্যজুড়ে অসহযোগিতা তখন এই সেতু সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। শাসকের লজ্জা এই সেতু। এক ইতিহাস তৈরী করল ভূতনী।
রাজনৈতিক আকচাআকচির মধ্যে ভূতনিবাসীর একটাই দাবি-রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত ভূতনীর বন্যা পরিস্থিতি ও নদী ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।





