Newsbazar24 :গত কয়েক বছরে রামনবমীতে বাংলার একাধিক জায়গায় অস্ত্র নিয়ে মিছিল করতে দেখা গেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সহ একাধিক হিন্দু সংগঠনকে। এ ব্যাপারে তাদের ব্যাখ্যা, রামচন্দ্র যোদ্ধা ছিলেন। তাছাড়া সব দেবদেবীর হাতেই অস্ত্র থাকে। রামের উপাসকদেরও তাই কারও কারও হাতে অস্ত্র থাকলে তাতে আপত্তির কারণ দেখছেন না তারা। একই ব্যাখ্যা গেরুয়া শিবিরের নেতাদের। তারা বলছেন, যখনই সমাজে সঙ্কট এসেছে, তখনই অসুর বিনাশে অস্ত্র তুলে নিতে হয়েছে হাতে। এটাও তারই প্রতীক। কিন্তু পুরাণবিদ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ীর কথায়, অতীতে কখনওই এই রেওয়াজ এ দেশে দেখা যায়নি। বঙ্গদেশে তো নয়ই। বরং তাঁর মতে, রামচন্দ্র করুণাসাগর, কৃপাময়। তাঁর প্রকৃত ভক্তের ভক্তির উৎসারও অন্য।
নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী বলেন, “আমাদের বাংলাদেশে কোনওদিন এটা ছিল না। কিছু লোক রামচন্দ্রকে আশ্রয় করে রাজনীতি করছেন। রামনবমী উদযাপন চৈতন্য মহাপ্রভুর কারণে শুরু হয়। তিনি এসে রামনবমী তিথি পালন করতে বলেছেন। যেহেতু ভগবানের পূর্ণ অবতার রামচন্দ্র, সেই সম্মান তিনি পান। কিন্তু এই যে অস্ত্র নিয়ে মিছিল, এসব আমাদের দেশে কোনওদিনই ছিল না। যারা নতুন করে রামায়ণ লিখছেন, যাঁরা নতুন করে রামচন্দ্রকে চেনাচ্ছেন, এসব তাদের কাজ।
অবশ্য এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় গেরুয়া শিবিরের এক নেতা বলেন, “সনাতন হিন্দু ধর্মের প্রতি যাদের শ্রদ্ধা আছে, যারা রামায়ণ পাঠ করেছে, সকলে জানে যখন যখন সমাজের উপর সঙ্কট আসে, অশুভ শক্তি মাথা চাড়া দেয়, তখন তাকে শান্ত করার জন্য, ধর্ম স্থাপনের জন্য অস্ত্র তুলে নিতে হয়। আমাদের ধর্মেই বলা আছে যখন যখন অধর্ম বাড়বে, সমাজে শান্তি স্থাপন করতে হবে, অস্ত্র নিয়ে নামতে হবে। রাম নবমীতে রামভক্তরা অস্ত্র নিয়ে পুজো করে বেরিয়েছে। এটাই আমাদের সভ্যতা, এটাই আমাদের সংস্কৃতি।”
কিন্তু পুরাণবিদ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী বলছেন, “আমি আগে কোনওদিনই দেখিনি রামচন্দ্রকে নিয়ে শোভাযাত্রা করা, তরবারি ধারণ করা! রামচন্দ্র অত্যন্ত কোমল মানুষ হিসাবে পরিচিত। তিনি করুণাসাগর। বাল্মীকির মহাকাব্য যে লেখা হয়েছে, সেটা করুণ রসের কাব্য। ভবভূতি যিনি উত্তর রামচরিত লিখেছেন, তিনি বলেছেন, একটাই রস সেটা করুণ রস। বাল্মীকির রামায়ণও তাই।





