একটি প্রতিবেদন
প্রথম পর্ব
কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে, ৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের আদেশ রদ করা হয়েছে। কিন্তু এই রায়
বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ভারতীয় বিচারব্যবস্থা, শিক্ষা ভবিষ্যৎ এবং প্রশাসনিক নৈতিকতায়। এই রায়টি নিয়ে সমাজের একাংশ যতই খুশি হোক না কেন, এর প্রভাব সামাজিক, মানসিক, নৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে পড়ার পাশাপাশি এই রায় ভবিষ্যতের প্রজন্মকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও “সকলের বিরুদ্ধে পৃথক প্রমাণ নেই”। ফলে সবাইকে একসঙ্গে শাস্তি দেওয়া ‘অমানবিক’ হবে। পাশাপাশি আদালতের আরো পর্যবেক্ষণ ৯ বছর ধরে কর্মরত এই পরিবারগুলির জীবিকা ও স্থিতিশীলতাকে বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই মানবিকতা কি শুধুই ঐ শিক্ষক পরিবারের জন্য?
তাহলে প্রতি বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ১৫ লাখ শিশুর পরিবারগুলো কোথায়? তাদের ভবিষ্যৎ, তাদের মৌলিক শিক্ষার অধিকার, তাদের মেধা বিকাশ, এসব কি কোনও বিবেচনার অঙ্গ নয়?
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই না করে দুর্নীতিকে কি মেনে নিচ্ছি?
প্রশ্ন দুর্নীতি যদি ব্যাপক হয়, যদি হাজার-হাজার মানুষ তাতে যুক্ত থাকে, সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলে, সেই দুর্নীতি যোগ্যতার মতোই গ্রহণযোগ্য হয়ে যেতে পারে কি? প্রমাণ-না পাওয়া গেলে বা লোপাট হলে, দুর্নীতি প্রশ্রয় পায়; আর অপরাধী হয়ে উঠবে ‘ নির্দোষ’।
এ যেন ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় একটি নতুন নজির: “দুর্নীতি করো, যথেষ্ট মানুষকে জড়াও, কাগজপত্র ধ্বংস করো, তারপর নির্ভয়ে চাকরি করো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধ তোমার অধিকার হয়ে যাবে।” এমন মনোভাব ভবিষ্যতের প্রশাসনিক সংস্কৃতিকে ভয়াবহভাবে নষ্ট করবে, তা বলাই বাহুল্য।
আমরা সকলেই জানি, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় তার শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে। এই ৩২,০০০ শিক্ষক যদি সত্যিই অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন, তাহলে তারা ৩০ বছর চাকরি করলে কমপক্ষে ৫ কোটি শিশু সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ভুল শিক্ষার ফলে সমাজের তিন প্রজন্ম নৈতিকভাবে দুর্বল, অক্ষম, এবং প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।
অবস্থা এমন হবে অযোগ্য শিক্ষকরা ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থী তৈরি করবে, আর সেই শিক্ষকদের নিজস্ব সন্তানরা পড়বে ব্যক্তিগত, ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। দুই ধারার শিক্ষা, দুই ধারার সমাজ, এই ফাটল আরও চওড়া হবে না তো?
*****আগামীকাল শেষ পর্ব*****





