Newsbazar24 Desk, :সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে নিয়মানুযায়ী তার আগের দিনই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৬ সালের পদ্মসম্মানের তালিকা প্রকাশ করা হল। সাহিত্য, শিল্প, চিকিৎসা – বিভিন্ন ক্ষেত্রের ১৩১ জন কৃতী মানুষের নাম রয়েছে এ বছরের সম্মানপ্রাপকদের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে বাংলার ১১ জন কৃতি পেলেন পদ্মশ্রী সম্মান।
২০২৬ সালে চিকিৎসাক্ষেত্র, শিল্পকলা (তাতে রয়েছে অভিনয়ও), শিক্ষা ও সাহিত্য মিলেমিশে বাংলার সম্মানের মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে। সেই গৌরবে গর্বিত বাংলা।
চিকিৎসাক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদ্মসম্মান পেলেন কলকাতার অভিজ্ঞ কার্ডিওলজিস্ট সরোজ মণ্ডল।
শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের জন্য পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন একাধিক কৃতী বাঙালি শিল্পী। তাঁদের মধ্যে সকলের প্রিয় বুম্বাদা অর্থাৎ অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। স্বাভাবিকভাবেই তার এই সম্মানে টলিউডের খুশির ছোঁয়া।
পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ তথা দক্ষিণ দিনাজপুরের নাট্যব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায় (মরণোত্তর), তাঁতশিল্পী জ্যোতিষ দেবনাথ, তবলাবাদক কুমার বসু, সন্তুরশিল্পী তরুণ ভট্টাচার্য এবং কাঁথাশিল্পী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়।
শিক্ষা ও সাহিত্যের জন্য বিশেষ এই সম্মান পেয়েছেন মালদহের অশোক কুমার হালদার, মহেন্দ্রনাথ রায়, রবিলাল টুডু এবং গম্বীর সিংহ।
এই তালিকায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছেন। বাঙালি এই কৃতীদের সম্বন্ধে রইল কিছু তথ্য –
ডাঃ সরোজ মণ্ডল বর্তমানে কলকাতা শহরের একটি হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান।
অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সেলুলয়েডে যাত্রা শুরু মাত্র ছ’ বছর বয়সে, প্রখ্যাত পরিচালক হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবিতে শিশু শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ। আশির দশক থেকে নিয়মিত অভিনয়, আর ১৯৮৭ সালে ‘অমর সঙ্গী’-র হাত ধরে মূলধারার নায়ক হিসেবে যাত্রা। টানা ছ’দশক বাংলা চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন তিনি। কেরিয়ারের শুরু থেকেই বলিউডের প্রস্তাব এলেও বাংলা ইন্ডাস্ট্রি তাঁর বরাবরের কাছের হয়েই থেকেছে – এ কথা বহুবার বলেছেন অভিনেতা। শেষমেশ ২০১২ সালে ‘সাংহাই’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে কাজ শুরু। এখন দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই তিনি চুটিয়ে কাজ করে চলেছেন।
রবি লাল টুড সাঁওতালি ভাষা ও শিক্ষার প্রসারে কাজের জন্য পদ্মসম্মানে ভূষিত হচ্ছেন।
সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে মালদার এই সাহিত্যিক অশোক হালদার দীর্ঘদিন ধরে ভাষা-শিক্ষার প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
রসায়নের অধ্যাপক মহেন্দ্রনাথ রায় মৌলিক গবেষণায় অবদানের জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে এই স্বীকৃতি পাচ্ছেন।
সাঁওতালি সাহিত্যে অবদানের জন্য সম্মানিত হচ্ছেন রবিলাল টুডু। বিরসা মুন্ডার জীবনী ‘বীর বিরসা’ তাঁকে বিশেষ পরিচিতি দেয়। ২০১৫ সালে সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারও পান তিনি।
মরণোত্তর পদ্মসম্মানে সম্মানিত হচ্ছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের নাট্যব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায়। ১৯৬৯ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ত্রিতীর্থ’ নাট্যদল থেকে ‘দেবাংশী’, ‘গ্যালিলিও’, ‘রক্তকরবী’-সহ বহু প্রযোজনা নাট্যপ্রেমীদের মনে দাগ কেটেছিল। বালুরঘাটের নাট্যআন্দোলনের দিশারী হিসেবেই তাঁকে মনে করা হয়। গত বছর তাঁর প্রয়াণ ঘটে।
পূর্ব বর্ধমানের কালনার তাঁতশিল্পী জ্যোতিষ দেবনাথ বাংলার বিলুপ্ত হতে বসা মসলিন ও জামদানি শিল্পকে নতুন করে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন। সূক্ষ্ম কারুকাজ ও ঐতিহ্যবাহী নকশার জন্য তাঁর কাজ বিশেষভাবে সমাদর পেয়ছে। শুধু তাই নয়, এর আগে বহু সরকারি সম্মানও পেয়েছেন। এবার তাঁর ঝুলিতে এল পদ্মশ্রী।
৭২ বছর বয়সি তবলা শিল্পী কুমার বসু আন্তর্জাতিক সঙ্গীতমঞ্চে সুপরিচিত। বাবা বিশ্বনাথ বসুর কাছে তালিম, পাশাপাশি সেতারশিল্পী মা ভারতী বসুর কাছ থেকে সঙ্গীতের উত্তরাধিকার। বেনারস ঘরানার এই শিল্পী পণ্ডিত রবিশঙ্কর-সহ বহু কিংবদন্তির সঙ্গে দেশ-বিদেশে তবলায় সঙ্গত করেছেন।
সন্তুরশিল্পী তরুণ ভট্টাচার্য স্নাতকোত্তর শেষে পণ্ডিত রবিশঙ্করের কাছে সঙ্গীতে তালিম নেওয়া শুরু করেন। ২০১৮ সালে সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার পান। এ বার তিনি ভারত সরকারের তরফ থেকে পেলেন পদ্মশ্রী সম্মান।
বীরভূমের কাঁথাশিল্পী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায় শিল্পকলায় পদ্মসম্মান পেলেন। বঙ্গশ্রী, জাতীয় পুরস্কার এবং কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রকের ‘শিল্পগুরু’ সম্মান – এর আগে একাধিক স্বীকৃতি এসেছে তাঁর ঝুলিতে





