Newsbazar24:পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক তথা পরিচালক রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত এবং ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘হোক কলরব’ সিনেমার টিজার ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫-এ মুক্তি পেয়েছে টিজারটির বেশ কিছু দৃশ্য এবং সংলাপ নিয়ে বর্তমানে বিতর্ক ও আলোচনা তৈরি হয়েছে:
বিতর্কিত দৃশ্য ও প্রেক্ষাপট:
র্যাগিং ও আত্মহত্যা: টিজারের শুরুতে দেখা যায় কলেজ হোস্টেলের ছাদে বৃষ্টির মধ্যে এক ছাত্র শুধুমাত্র অন্তর্বাস পরিহিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে এবং পরক্ষণেই সে নিচে ঝাঁপ দেয়। এই দৃশ্যটি ২০২৩ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর মর্মান্তিক মৃত্যুর স্মৃতি উসকে দিয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন
সহিংসতা: টিজারে ছাত্র ও পুলিশের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের দৃশ্য দেখানো হয়েছে, যেখানে আগুনের বোতল বা মোলোটোভ ককটেল হাতে ছাত্রদের প্রতিবাদ করতে দেখা যায়।
সংলাপ ও চরিত্রের বিতর্ক:
বিপ্লবী নামের ব্যবহার: শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এই ছবিতে একজন পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করছেন যার নাম ‘ক্ষুদিরাম চাকি’। প্রখ্যাত বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু এবং প্রফুল্ল চাকীর নাম মিলিয়ে এই নামকরণ করায় নেটিজেনদের একাংশ একে মহান বিপ্লবীদের প্রতি “অপমানজনক” বলে দাবী করেছেন
সম্প্রতি বাংলা চলচ্চিত্র পরিচালক তথা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘হোক কলরব’ নামের একটি বাংলা সিনেমার টিজার রিলিজ করেছে। সেখানে লিড চরিত্রের সংলাপ—“নমস্কার ! আমি ক্ষুদিরাম চাকী। না , আমি ঝুলি না। ঝোলাই।”
আমরা জানি ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের আপোষহীন ধারার বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্ষুদিরাম। ভগৎ সিং ,নেতাজি প্রমুখ উত্তরকালের মহান বিপ্লবীরাও শ্রদ্ধাবনত চিত্তে যাঁকে স্মরণ করেছেন। ক্ষুদিরাম হাসিমুখে ফাঁসির দড়ি গলায় পরার মাধ্যমে উচ্চতর সংস্কৃতি ও দেশাত্মবোধের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে গেছেন। মায়েদের মুখে যার বীরগাথা আজও এদেশের যৌবনকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করে। তাই ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকী প্রমুখ বিপ্লবীরা আজ আর কেবল একটি নাম নয় , এদেশের বিবেকবান মানুষের কাছে আবেগ, ঐতিহ্য, সংগ্রামের প্রতীক। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে লক্ষ্য করা যায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মহান বিপ্লবীদের কখনো ‘সন্ত্রাসবাদী’ , কখনো ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দিয়ে উত্তরপ্রজন্মের কাছে তাঁদের আত্মত্যাগের গরিমাকে ম্লান করে দেওয়ার অপচেষ্টা হচ্ছে। উল্লিখিত সিনেমার টিজারেও ব্যবহৃত সংলাপে মহান বিপ্লবী ক্ষুদিরামের আত্মত্যাগের মহান দৃষ্টান্তকে ম্লান করে দেওয়ার চুড়ান্ত একটি নিদর্শন। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
আমরা ‘সারা বাংলা শিল্পী সাহিত্য সংস্কৃতি সম্মিলনী’র পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এবং দ্রুত এই দৃশ্যের সংলাপ পরিবর্তনের দাবি করছি।






