হাওড়ার বসু পরিবারের প্রাচীন পূজোর বিশেষত্ব ময়দা ভোগ প্রসাদ

Newsbazar24:এক সময়ে প্রতিষ্ঠিত বাঙালি ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন ছিলেন হাওড়ার ঈশানচন্দ্র বসু । তাঁর পরিবারের পুজোর জাঁকজমক আজও বহাল। গঙ্গার ধারে প্রাচীন শহর হাওড়া। এক সময়ে শিল্পাঞ্চল হিসাবে প্রসিদ্ধ এই শহরে
এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বহু বনেদি পরিবার। এক সময়ে এরা ছিল অভিজাত। জাঁকজমক সহকারে এক সময়ে পুজো হতো। কিন্তু বর্তমানে আভিজাত্যের ছোঁয়া কিছুটা কমে গেলেও সে-সব পুজো এখনও হয় মহাসমারোহে।এমনই এক প্রসিদ্ধ হাওড়ার রামকেষ্টপুরের বসু পরিবারের পুজো। বাঙালিদের মধ্যে ব্যাবসায়ে যাঁরা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যেই একজন ঈশানচন্দ্র বসু । তাঁর পরিবারের পুজোর জাঁকজমক আজও বিদ্যমান। জানা যায় প্রায় ২০০ বছরের পুজো।বসু পরিবারের এক গৃহকর্তা জানান, আমতার কাছে সিঞ্চি শিবপুরে ছিল আমাদের আদি বাসস্থান। পরবর্তীতে হাওড়া রামকেষ্টপুরে বসতি স্থাপন করে বসু পরিবার। এই পরিবারের পূর্বপুরুষরা জাহাজ ব্যবসার সাথে যুক্ত। ব্যবসায়ের উন্নতির সাথে সাথে এই পরিবারে সমৃদ্ধি আসে। দেবীর স্বপ্নাদেশ পুজো শুরু হয় বসু পরিবারে।
ঈশানচন্দ্র বসুর হাত ধরে এই পরিবারে দুর্গাপুজোর পত্তন। জানা যায়, এই পরিবারে আগে বলি প্রথা ছিল। পরে গাঁধীজী অহিংস আন্দোলন শুরু করলে বলিপ্রথা উঠে যায়। ফল বলি প্রথা শুরু হয়। পরে তাও উঠে যায়।
এই বাড়ির পুজোর বিশেষত্ব ময়দা ভোগ প্রসাদ। লুচি, নানা ভাজা-ভুজি মাকে নিবেদন করা হয়। এই পরিবারে দেবীর অন্নভোগ হয় না। শোনা যায়, আগে পুজোর দালানে এত ভিড় হত, বাড়ির সকলেরই জায়গা হত না। দিনে-দিনে আত্মীয় স্বজনদের যোগও কমে আসছে। কমছে দায়িত্ব নির্বাহ করার লোকজনও।
১১ বছর বয়সী একটি বাহ্মণ পরিবারের মেয়েকে কুমারী হিসেবে পুজো করা হয়। এ পরিবারের এক চালা প্রতিমা খুব সুন্দর। চালচিত্র আঁকা হয় হাতেই। সিংহের রং সাদাটে রুপোলি। এর কারণ অবশ্য সঠিক ভাবে জানা যায় না। তবে রুপোলি সিংহ এই পরিবারের ঠাকুরের বৈশিষ্ট।