স্বার্থের প্রশ্ন –সৌভিক দাস (কোলকাতা)
একটি নামজাদা সংবাদপত্রের চলচ্চিত্র সাংবাদিক হওয়ার দরুন, প্রায়শই চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে থাকে অনিমেষ। আজও একজন স্বনামধন্য অভিনেতার সাক্ষাৎকার নিচ্ছে সে।
বৃত্তাকার টেবিলের এক প্রান্তে চেয়ারে বসে আছে অনিমেষ। তাঁর বাঁ হাতে রয়েছে বাংলায় টাইপ করা দুই পাতার ছাপানো প্রশ্নপত্র আর ডান হাতে কলম। আর টেবিলটির উপরে সাউন্ড রেকর্ডারটি চালু করে রাখা আছে। আর টেবিলের অপর প্রান্তে তাঁর সম্মুখ বরাবর চেয়ারে অভিনেতা তথা উত্তরদাতা বসে আছেন।
সাক্ষাৎকার পর্বটি যথারীতি গড়গড়িয়ে এগিয়ে চলেছে, ওই টক-ঝাল-মিষ্টি নানান কথা নিয়ে। তবে তাতে মিষ্টির পরিমানটাই বেশি। প্রশ্নের ভাঁজে নানান অজানা উত্তর বেরিয়ে আসছে।
কথাবার্তা শুধু চলচ্চিত্র, অভিনয় ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যেই যে আবদ্ধ থাকল তা নয়। তা সমাজ রাজনীতির পরিসরের মধ্যেও প্রবেশ করল।
সাক্ষাৎকার পর্বটি যখন অন্তিম মেরুর দিকে, ঠিক এমন সময় নিজের স্বার্থের একটা প্রশ্ন করে বসল অনিমেষ। একান্তই স্বার্থের। যার স্থান তাঁর এই দুই পাতার প্রশ্নপত্রে নেই।
তাঁর প্রশ্নটি শুনে কিছুক্ষণ ভেবে নিয়ে, তারপর উত্তর দিতে শুরু করলেন উত্তরদাতা। উত্তর দিতে গিয়ে তিনি চলচ্চিত্র জগতের আরেক জন বিশিষ্ট অভিনেতার কথা তুলে আনলেন। যে অভিনেতার নাম তিনি উল্লেখ করলেন, তাঁরও সাক্ষাৎকার দিন পাঁচেক আগে নিয়েছিল অনিমেষ।
কিন্তু সেদিন সেই অভিনেতার সাক্ষাৎকারটি পুরোটা নিতে পারেনি অনিমেষ, প্রশ্নপত্রে থাকা অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা বাকিও ছিল। কিন্তু সময়ের আগে তাঁর ভোরের স্বপ্নটা ভেঙে গেছিল।
আজও ঠিক তাই ঘটল। ঘড়িতে ঠিক করে রাখা ভোর পাঁচটার অ্যালার্মে, তাঁর ভোরের স্বপ্নটা ভেঙে গেল। তাঁর স্বার্থের প্রশ্নের উত্তরটা সম্পূর্ণ ভাবে আর জানা হলো না।
ভোরবেলা হাঁটতে যাবে বলে বিছানা ছেড়ে উঠে, অনিমেষ মনে মনে বলে উঠল, ‘আমি তো আর বাস্তবে চলচ্চিত্র সাংবাদিক নই, সাধারণ একজন চলচ্চিত্র প্রেমী। তবে আশায় থাকব আবার, আজকের সাক্ষাৎকারের বিশিষ্ট অভিনেতাটি ভবিষ্যতে আবার আমাকে ভোরের স্বপ্নে সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় দেন কিনা। তখন না হয় সবার প্রথমেই আমার নিজের, একান্তই নিজের স্বার্থের প্রশ্নটা করব। তবে সাউন্ড রেকর্ডারটি বন্ধ রাখব, কেননা আজ চালু ছিল। যদি কেউ শুনে ফেলে আমার স্বার্থের প্রশ্নটা।

