Newsbazar24:গতকাল তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে ইডি হানার পর যে ঘটনা ঘটেছে সারা দেশবাসী দেখেছে। ইডি সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার নাকি ইডি কর্তাদের হুঁশিয়ারি দেন আইপ্যাকের কোন জিনিস বাজেয়াপ্ত করলে ইডি অফিসারদের গ্রেফতার করা হবে –
সূত্র উদ্ধৃত করে সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থা ইন্ডিয়া টুডে’র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) সূত্র উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তল্লাশির সময় ঘটনাস্থলে রাজ্য পুলিশের ডিজি উপস্থিত ছিলেন। তিনি নাকি ইডি আধিকারিকদের বলেন যে পঞ্চনামায় যেন কোনও কিছুর উল্লেখ না করা হয়। কেন্দ্রীয় সংস্থার তিন আধিকারিককে বলেন যে ইডি যেন দেখায় যে তল্লাশি অভিযান থেকে কিছু পাওয়া যায়নি। সেই কাজটা না করলে তাঁদের গ্রেফতার করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় বলে সূত্র উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে রাজ্য পুলিশ বা রাজ্য সরকারের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
জানা গিয়েছে ইডির তরফে দাবি করা হয়েছে, তল্লাশি চলছে বলা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে ঢুকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জোর করে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে থাকা একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং ডিজিটাল ডিভাইস ছিনিয়ে নেওয়া হয়। জোর করে নিয়ে যাওয়া সেইসব নথি যেন ফিরিয়ে দেওয়া হয় ইডিকে। যতক্ষণ না ইডির হাতে সেই নথি বা ডিভাইস আসছে, ততক্ষণ কোনওরকম তথ্য বিকৃত যাতে না করা হয়, সেই নির্দেশ দেওয়া হোক।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশির সময় আসেন মুখ্যমন্ত্রী। খালি হাতে ঢুকে যান প্রতীকের বাড়িতে। তারপর সবুজ ফাইল হাতে বেরিয়ে আসেন। সেখানে তৃণমূলের হার্ডডিস্ক, কৌশল সংক্রান্ত নথি আছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পরে সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস থেকে একগুচ্ছ নথি তোলা হয় গাড়িতে। পরে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কাগজ, নথি, ফাইল পড়েছিল। সেগুলো তৃণমূলের কাগজপত্র। সেগুলিই গাড়িতে তোলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় দেখা গেছে গভর্অনমেন্ট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল লেখা সরকারি ফাইল।
এমনিতে ইডি কলকাতা হাইকোর্টে যে মামলা দায়ের করেছে, তাতে ‘পার্টি’ করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজিকেও। সেই বিষয়েও রাজ্য সরকারের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। মুখ খোলেননি রাজ্য পুলিশের ডিজিও। আর হাইকোর্টে যে মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল, তা এজলাসে বিশৃঙ্খলার জেরে আজ শুনতেই পারেননি বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। সেই পরিস্থিতিতে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। আজই শুনানির আর্জি জানানো হয়েছে।





