গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ। গলা-বুক জ্বালা, কারও চোঁয়া ঢেকুর কিংবা বমি, কারও আবার পেট ফাঁপা, গ্যাসের সমস্যা।
চটজলদি আরাম পেতে সবার ভরসা অ্যান্টাসিড বা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ। গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে গেলে যে শরীরে অন্য কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, তার তোয়াক্কাই করেন না কেউ কেউ। দীর্ঘমেয়াদে বাজারে চলতি গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেলে শরীরে দেখা দেয় বিভিন্ন ধরনের জটিলতা।
দীর্ঘমেয়াদী গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি কি
হাড়ের ক্ষয় ও ভঙ্গুরতা:
দীর্ঘ সময় ওষুধ সেবনে ক্যালসিয়াম শোষণ কমে যায়, ফলে হাড় দুর্বল হয়ে স্পাইন, হিপ বা রিস্টে ফ্র্যাকচার হতে পারে।
ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি:
পাকস্থলীর অ্যাসিড কমে যাওয়ায় ভিটামিন এবং ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়, যা পেশিতে কামড়ানো ও স্নায়বিক সমস্যা তৈরি করতে পারে
ক্যান্সারের ঝুঁকি: গ্যাস্ট্রিন হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় পাকস্থলীর টিউমার বা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে
কিডনি ও পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা:
কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি এবং পাকস্থলীর আস্তরণের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হতে পারে
পুষ্টিহীনতা:
খাবার থেকে আয়রন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শোষণে ব্যাঘাত ঘটে, যার ফলে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা দেখা দিতে পারে ।
সতর্কতা:
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাসের পর মাস গ্যাসের ওষুধ সেবন করা থেকে বিরত থাকুন। সামান্য গ্যাস হলে জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই শ্রেয়।
গ্যাস্ট্রিক এর ওষুধের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলুন:
১)ফাইবারযুক্ত খাবার যেমন সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, ওটস, এবং শস্য জাতীয় খাবার।
২)চর্বিযুক্ত লাল মাংসের পরিবর্তে মাছ, ডাল, এবং চর্বিমুক্ত দুধ খান।
৩) চা, কফি, চকলেট, এবং ফিজি ড্রিঙ্ক, অতিরিক্ত তেল মসলাযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত মিষ্টি ও ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।
একবারে বেশি খাবার না খেয়ে দিনে ৪-৫ বারে অল্প পরিমাণ খাবার খান। খাদ্যগ্রহণে অনিয়ম, তাড়াহুড়ো করে খাবার খাওয়া, দীর্ঘসময় খালি পেটে থাকা এবং খাওয়ার পরপরই শোয়া বা কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।
মানসিক চাপ বা স্ট্রেস গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বাড়ায়। তাই মেডিটেশন, যোগব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটির অভ্যাস করুন।





