newsbazar24 ঃবসন্ত পঞ্চমী উৎসব বা পূজা বলতে জ্ঞান, সঙ্গীত এবং শিল্পের দেবী সরস্বতীকে উৎসর্গ করা । বিশ্বাস করা হয় যে এই দিনে যদি কেউ মা সরস্বতীর উপাসনা করে এবং এই তিথিতে পড়াশোনা শুরু করলে দেবী সরস্বতীর আশীর্বাদ তার উপর বর্ষিত হয় এবং শিক্ষার্থী মহান সাফল্য অর্জন করে। দেবী সরস্বতীর উপাসনার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে শিক্ষা ও জ্ঞানের প্রতি কৌতূহল জাগ্রত হয়। এই দিনে বাড়ির শিশুকে দিয়ে মা সরস্বতী, কলম ও বইকে পূজা করানো হয়।
বসন্ত পঞ্চমীতে শিশুদের জন্য শিক্ষার দেবীর উপাসনা করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে এতে শিশুর বুদ্ধি বৃদ্ধি পায় এবং সে শিক্ষার ক্ষেত্রে উন্নতি লাভ করে। যখন কোনও ছেলে বা মেয়ে শিক্ষা গ্রহণ শুরু করার জন্য যোগ্য হয় তখন হাতে খড়ির মাধ্যমে শিক্ষা শুরু হয়। শাস্ত্রে পাঁচ বছরের শিশুর শিক্ষার দীক্ষার বর্ণনা রয়েছে। এই বছর, বসন্ত পঞ্চমী ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি পড়েছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক বসন্ত পঞ্চমীতে সরস্বতী পূজার গুরুত্ব এবং পদ্ধতি।
সরস্বতী পূজার ফর্দ-
হরিতকী, পঞ্চগুড়ি, পঞ্চশস্য, পঞ্চরত্ন, পঞ্চপল্লব ১, ঘট ১, দর্পণ ১, তীরকাঠি ৪, ঘটছদন গামছা ১, সশীষ ডাব ১, একসরা আতপ চাল, , পুষ্পদি, সিঁদুর, অসাঙ্গুরীয়ক মধুপর্কার বটি, নৈবেদ্য, কুচা নৈবেদ্য, সরস্বতীর শাটী চন্দ্রমালা বিল্বপত্রমাল্য থালা, ঘটি, শঙ্খ, লৌহ, নথ, আমের মুকুল, যবের শীষ, কুল, আবির, অভ্র, মস্যাধার(দোয়াত) ও লেখনী, ভোগের দ্রব্যাদি, গব্যঘৃত পান,কর্পূর, গুরুত্বপূর্ণ পলাশ ফুল,
ধ্যান – কূর্মমুদ্রায় হাতে ফুল নিয়ে হৃদয়ে জ্যোতির্ময় মূর্তি ভাবনাপূর্বক ধ্যান করবে-
ওঁ তরুণশকলমিন্দোর্বিভ্রতী শুভ্রকান্তিঃ
কুচভর-নমিতাঙ্গী সন্নিষন্না সিতাব্জে।
নিজ-করকমলোদ্যল্লেখনীপুস্তকশ্রীঃ
সকলবিভবসিদ্ধ্যৈ পাতু বাগদেবতা নম:।।
সরস্বতী গায়ত্রী-
(ওঁ বাগ্দেব্যৈ বিদ্মহে কামরাজায় ধীমহি তন্নো দেবি প্রচোদয়াৎ ওঁ’)
পুষ্পাঞ্জলী মন্ত্র (৩ বার পাঠসহ)
ওঁ জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
বীনারঞ্জিত পুস্তক হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে।।
সরস্বতী প্রণাম মন্ত্র-
নমঃভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্যৈ নমো নমঃ।
বেদ-বেদাঙ্গ-বেদান্ত-বিদ্যা-স্থানেভ্য এব চ।।
এস স-চন্দন পুষ্পবিল্ব পত্রাঞ্জলি সরস্বতৈ নমঃ।।
শুভ্রকান্তিঃ
কুচভর-নমিতাঙ্গী সন্নিসন্ন সিতাবজে।
নিজ-কারকমলোদ্যাল্লেখানিপুস্তকশ্রীঃ
সকলবিভাবসিদ্ধ্যেই পাতু বাগদেবতা নমঃ।।
সরস্বতী গায়ত্রী- (ওম বাগদেবায়োই বিদমহে কামরাজয়া ধীমহিহ তন্নো দেবী প্রচোদয়ত ওম)
পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র (৩ বার পাঠ সহ)
ওম জয় জয় দেবী চরাচর সারা, কুচাযুগশোবিত মুক্তহারা।
হাতে বীনারঞ্জিত বই, ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তু।।
সরস্বতী প্রণাম মন্ত্র-
নমঃ ভদ্রকালয়ৈ নমো নিত্যং সরস্বতয়োই নমো নমঃ।
বেদ-বেদঙ্গ-বেদান্ত-বিদ্যা-স্থানেব্য এব চ..
স-চন্দন পুষ্পবিল্ব পত্রাঞ্জলি সরস্বতী নমঃ..
পূজার শুভ মুহূর্ত- ( একেক পঞ্জিকা একেক সময়)
দৃক পঞ্চাঙ্গ
বাংলার ১৯ মাঘ অর্থাৎ ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ এ পড়ছে বসন্ত পঞ্চমী। বছে, দৃক পঞ্চাঙ্গ। সেদিন সকাল ৯ টা ১৪ মিনিটে তিথি শুরু হবে। আর তিথি শেষ হবে ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সকাল ৬ টা ৫২ মিনিটে।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা:-
পঞ্চমী তিথি শুরু হবে, ১৯ মাঘ, রবিবার। সেদিন ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ পড়ছে তারিখ। সেদিন সকাল ৯ টা ১৬ মিনিটে শুরু হবে পুজো। পঞ্চমী তিথি শেষ হবে ৩ ফেব্রুয়ারি, সোমবার। সোমবার, সকাল ৬ টা ৫৩ মিনিটে এই তিথি শেষ হবে।
গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা:-
পঞ্চমী তিথি ১৯ মাঘ, রবিবার শুরু হবে। ইংরেজি, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখ পড়ছে সেদিন। দিনটি রবিবার। বসন্ত পঞ্চমীর তিথি বেলা ১২ টা ১২ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডে শুরু হবে। ২০ মাঘ, সোমবার, অর্থাৎ ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সালে তিথি সকাল ৯ টা ৫৭ মিনিটে ৩৮ সেকেন্ডে শেষ হবে।
বেণীমাধব শীলের গার্হ্যস্থ পঞ্জিকা:-
রবিবার ১৯ মাঘ পড়ছে পঞ্চমী তিথি। সেদিন অর্থাৎ ২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সালে রবিবার এই তিথি পড়ছে ১২ টা ৩৪ মিনিটে। পঞ্চমী তিথি শেষ হবে ২০ মাঘ, সোমবার। সেদিন ইংরেজি, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫। সোমবার সকাল ৯ টা ৫৯ মিনিটে শেষ হবে তিথি।
রীতি:-
সরস্বতী পুজোর দিন পূর্ববঙ্গীয় বাড়িতে জোড়া ইলিশ মাছ বরণের রীতি রয়েছে। এরসঙ্গে সরস্বতী পুজোর যোগ না থাকলেও, এই রীতি বঙ্গ সমাজের অঙ্গ রূপে পরিগণিত হয়। সরস্বতী পুজোর পর দিনই থাকে শীতল ষষ্ঠী পুজো। সেই দিন গোটা সেদ্ধ খাওয়ার রীতি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গীয় মতে।
(এই প্রতিবেদনের তথ্য মান্যতা নির্ভর। এর সত্যতা যাচাই করেনি নিউজ বাজার ২৪ বাংলা )



