Newsbazar24:তাঁত শিল্পের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে এক সময় পরিচিত ছিল কালিয়াচকের শেরশাহী ও মোথাবাড়ির বাবলা। এলাকার প্রায় প্রতিটি ঘরেই চলত তাঁতের কাজ। দিনরাত তাঁতের খটখট শব্দে মুখর থাকত গ্রাম। তৈরি হত গামছা, শাড়ি ও লুঙ্গির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্ত্র, যা শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, জেলার বাইরেও চাহিদা মেটাত ব্যাপক হারে। সাধারণত এই এলাকার মোমিন (জোলহা) সম্প্রদায়ের লোকরাই জড়িত ছিল তাঁত শিল্পের সঙ্গে। কালের নিয়মে এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে সেই ঐতিহ্য। আধুনিক মেশিনে তৈরি সস্তা কাপড়, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, বাজারজাতকরণের অভাব ও নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ তাঁত কারখানা। হাতে গোনা কয়েকটি পরিবারই কোনো ক্রমে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন এই প্রাচীন শিল্পকে। বুনছেন সুন্দর সুন্দর রংবেরঙের সুতির গামছা ।তাঁতিরা জানান, আগের মতো শাড়ি বা লুঙ্গি তৈরি আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই এখন মূলত সুতির গামছা তৈরি করেই কোনওমতে সংসার চালাতে হচ্ছে। লাভ কম, পরিশ্রম বেশি তবুও পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিতে মন চায় না তাঁদের। বাড়ির মহিলারাও এই তাঁত বোনার কারিগর। সারাদিন কাজ করে তিনটে চারটে গামছা বুনতে পারেন তারা। যেটাতে তাদের আয় হয় দৈনিক ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। সামান্য এই টাকাতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানাচ্ছেন তারা। তাই বেশিরভাগ বাড়ির মহিলারাই বেছে নিয়েছেন উপার্জনের অন্য পথ। তাঁত কারখানার মেশিয়ে পা চালানোর বদলে এখন তারা হাত চালাচ্ছেন বিড়ি বাধায়। সাংসারিক কাজকর্ম সেরে বিড়ি বাঁধছেন দল বেঁধে। বাড়ির পুরুষেরা অবশ্য হয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিক। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক নকশা ও সঠিক বাজারব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হলে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে এই ঐতিহ্যবাহী তাত শিল্প। নচেৎ ইতিহাসের পাতায় স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে কালিয়াচকের শেরশাহী ও মোথাবাড়ির বাবলা এলাকার গর্বের তাঁত শিল্প। এ বিষয়ে মালদা মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের জেলা সভাপতি উজ্জ্বল সাহা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের এবং রাজ্য সরকারের হ্যান্ডলুম ডাইরেক্টরেট বিভিন্ন স্কিম আছে যার মাধ্যমে এই তাঁত শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা যায। মালদা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের জেলার বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্পীদের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এমএসএমই ডিপার্টমেন্টের অধীনস্ত জেলা শিল্প কেন্দ্রের মহা প্রবন্ধকের সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে, জেলার পক্ষ থেকে বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্পীদেরকে যেভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে এই সমস্ত স্কিমের মাধ্যমে, দক্ষিণ মালদার তাঁত শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরাও সচেষ্ট হব, জেলার ঐতিহ্যবাহী এই তাত শিল্পীদের টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদেরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। উজ্জ্বল সাহা আরো বলেন এই সমস্ত ক্ষুদ্র তাঁত শিল্পীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আমরা এই ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করব।





