Newsbazar24:লাভপুরে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ। নিহত তিন আহত বহু। জানা গেছে, গ্রামদখলকে কেন্দ্র করে লাভপুর থানা এলাকায় হাথিয়া গ্রামে শুক্রবার রাতে দু’পক্ষের দফায় দফায় অশান্তি। বোমা বাঁধতে গিয়ে অন্তত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, শনিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত গ্রামে পুলিশ ঢুকতে পারেনি। দেহ অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে খবর।
এই হাতিয়া গ্রাম নকল কয়েন বিক্রির জন্য বিখ্যাত
জানা গিয়েছে, গ্রামের নিয়ন্ত্রণ কে করবে তা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তুমুল উত্তেজনা। তৃণমূলের হাতিয়ার বুথ সভাপতি শেখ মইনুদ্দিন ও তাঁর সহযোগী শেখ মুস্তাফি বনাম নকল কয়েন বিক্রেতাদের মাথা তৃণমূলের শেখ মনিরের দ্বন্দ্ব। গত প্রায় মাসছয়েক ধরে ফেরার ছিলেন শেখ মইনুদ্দিন ও তাঁর সহযোগী শেখ মুস্তাফি। শুক্রবার সন্ধেয় গ্রামে ঢোকার চেষ্টা করে শেখ মইনুদ্দিন ও তাঁর সহযোগী শেখ মুস্তাফি। অভিযোগ, শুরুতেই তাঁদের আটকে দেয় শেখ মনিরের লোকজন। হাথিয়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল মারামারি শুরু হয়। ফের রাত ৩টের সময় গ্রামে ঢুকতে চেষ্টা করে শেখ মইনুদ্দিন ও তাঁর সহযোগী শেখ মুস্তাফি। আবারও আটকে দেওয়া হয় তাঁদের। এরপর সকাল ৭টায় আবার দলবল নিয়ে গ্রামে ঢুকতে যান শেখ মইনুদ্দিন ও তাঁর সহযোগী শেখ মুস্তাফি।
সেই সময় আবার গ্রামেরই ছাতিম পুকুরের পাড়ে বসে বোমা বাঁধছিল মনিরের দলবল। বোমা বিস্ফোরণ হয়। সূত্রের খবর, ওই বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে যান অনেকেই। তাদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতেরা হলেন স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল খানের ভাগ্নে ও তৃণমূল নেতা শেখ বাদলের ছেলে। মৃতদের নাম নাম শেখ সাবির (১৪) ও শেখ আলমগীর (২৪) বোমার আঘাতে ১০ বছর বয়সী এক শিশুও প্রাণ হারায়। তবে ওই শিশুর পরিচয় এখনো জানা যায়নি। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন আরও অন্তত ৫ জন। স্থানীয়দের দাবি, নিহত দুই যুবক তৃণমূল সমর্থক।
বাকিদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হয়েছে বলেই খবর। জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ জানান, বোমা বিস্ফোরণে দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর মার্চে এই এলাকায় একটি নকল অস্ত্র কারখানার সন্ধান পায় লাভপুর থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্ত হতে হয় পুলিশকে। গাড়ি ভাঙচুরও করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে পুলিশ শূন্যে গুলি চালায়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে কাটতে ফের উত্তপ্ত হাথিয়া।






