Newsbazar24:এসআইআর এর প্রক্রিয়ায় মধ্যে বিএলওরা ইতিমধ্যে ফর্ম দেওয়ার শেষ করে এনেছেন। আন্দোলন প্রতি আন্দোলনের মধ্যে দিয়েও ইতিমধ্যে বিএলওরা ফর্ম ডিজিটালাইজেশানের কাজ অর্ধেকেরও বেশি শেষ করে এনেছেন। এই প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত করতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবার পশ্চিমবঙ্গের জন্য একজন স্পেশাল রোল অবজার্ভার নিয়োগ করল।
পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের (১৯৯০ ব্যাচ) অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্তকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এক নির্দেশিকায় একটি নির্দেশিকায় স্পেশাল রোল অবজার্ভারের দায়িত্ব, ক্ষমতা এবং কাজের পরিধি বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় আলাদা করে নির্বাচনী রোল অবজার্ভার নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন। এদিনের নির্দেশে বলা হয়েছে, রাজ্যের ১২টি বড় জেলার জন্য ১২ জন অভিজ্ঞ আইএএস অফিসারকে রোল অবজার্ভার পদে নিযুক্ত করা হচ্ছে। তাদের কাজ হবে—জেলা স্তরে ডিইও অর্থাৎ জেলা শাসক এবং ইআরও-দের কাজ পর্যালোচনা করা। কোথাও ভুল হলে ধরিয়ে দেওয়া এবং SIR-এর প্রতিটি ধাপ যেন কমিশনের নির্দেশ মতো হয়, তা নিশ্চিত করা।
কোন কোন জেলায় কোন কোন আইএস অফিসার রোল অবজারভারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে:
১) স্মিতা পান্ডে—পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম
২) তন্ময় চক্রবর্তী—মুর্শিদাবাদ, মালদা
৩) রণধীর কুমার—উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা (উত্তর)
৪) সি. মুরুগান—দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা (সাউথ)
৫) আর. অর্জুন—কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি
৬) রাজীব কুমার / জগদীশ মিনা—হাওড়া
৭) নীলম মিনা—পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম
৮) অশ্বিনী কুমার যাদব—উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর
৯) নিরঞ্জন কুমার—দার্জিলিং, কালিম্পং
১০) দেবী প্রসাদ করানাম—পুরুলিয়া, বাঁকুড়া
১১) রচনা ভগত—নদিয়া
১২) ড. বিশ্বনাথ—হুগলি
নির্বাচন কমিশনের আদেশ অনুযায়ী অবজারভারের মূল দায়িত্ব হল—
১. বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ। ২৭ অক্টোবর ২০২৫-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী SIR-এর প্রতিটি ধাপ যেন যথাযথভাবে হয়, তা দেখা। কোনও যোগ্য নাগরিক যেন বাদ না পড়ে এবং কোনও অযোগ্য ব্যক্তি যেন তালিকায় ঢুকে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা।
২. প্রয়োজন অনুযায়ী কমিশনকে রিপোর্ট পাঠানো। অবজারভার চাইলে কমিশনকে নিয়মিত গ্রাউন্ড লেভেল ইনপুট ও বিশেষ পর্যবেক্ষণ পাঠাতে পারবেন।
৩. চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে—অবজারভার কোনও রকম প্রশংসাপত্র কোনও বিএলও কিংবা ইআরএ বা অন্য কোনও নির্বাচনী আধিকারিককে নিজে থেকে দিতে পারবেন না। যদি মনে হয় কেউ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য, তাহলে কমিশনে সুপারিশ পাঠাতে হবে।
৪. ভাতা ও সুবিধা: কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত টিএ ও ডিএ এবং যেকোনও এয়ারলাইন্সে বিমানের ভ্রমণ-সুবিধা পাবেন সুব্রতবাবু। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের অফিস থেকে সমস্ত প্রোটোকল ও সাহায্য পাবেন।
এদিনের আদেশে কমিশন জানিয়েছে—পশ্চিমবঙ্গে শেষ নিবিড় সংশোধন হয়েছিল ২০০২ সালে। অর্থাৎ ২৩ বছর পর আবার বিশেষ সংশোধন করা হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হল, ভোটার তালিকায় ডুপ্লিকেট নাম রয়েছে। অনেকের ঠিকানা বদল হয়েছে। অনেকের ভুল বয়স ও ত্রুটিপূর্ণ তথ্য রয়েছে, তা ছাড়া মৃত ভোটারের নাম তালিকায় থেকে গেছে। তাই এবার ভোটার তালিকা পুরোপুরি আপডেট করতে এসআইআর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী আধার চাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনকারী চাইলে আধার নম্বর স্বেচ্ছায় দিতে পারবেন। আধার নম্বরে হেরফের দেখা গেলে ইআরও নোটিস দেবেন।
এদিকে এদিনই কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত ১৫ লক্ষ ৫৩ হাজার মৃত ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান মোটেও চূড়ান্ত নয়। মৃত ভোটারের চূড়ান্ত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কমিশনের এক অফিসারের মতে, তা ২০ লক্ষ ছাপিয়ে যেতে পারে।
রাজ্যে নির্বাচনি দপ্তর সূত্রে জানা যায় , মোট ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ ফর্ম এখনও পর্যন্ত বিলি হয়েছে। এর মধ্যে ডিজিটাইজড হয়েছে ৬ কোটি ৪৫ লক্ষ ফর্ম। মানে ৮৬.৫ শতাংশ বা প্রায় ৮৭ শতাংশ ফর্ম ডিজিটাইজড হয়ে গেছে।
শুধু মৃত ভোটার চিহ্নিত করা নয়, বিএলও-রা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বহু ভোটারের খোঁজ পাননি। তেমন ভোটারের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত ২ লক্ষ ৬১ হাজার। ঠিকানা বদলেছেন ২ লক্ষ ৮৮ হাজার ভোটার। তা ছাড়া ৫৮,১৬৪ জন ডুপ্লিকেট ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।





