Newsbazar24 Desk::মাদক কারবারিদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত কালিয়াচকের মোজমপুরকে মাদক মুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে মালদহ জেলা পুলিশ অভিনব উদ্যোগ নিল।
কালিয়াচক থানার মোজামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাদকের ডেরা হিসেবে পরিচিত নারায়ণপুর, কিসমতপুর, ইমামজাগিরে গ্রামবাসীরা সালিশি সভা করে মাদক বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
শুক্রবার বিকেলে কালিয়াচকের মোজমপুর হাইস্কুলে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডাকা নারায়ণপুর, মোজমপুর, ইমামজাগীর,কিসমতপুর ডালুগ্রাম, প্রভৃতি পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দারা অংশ নেন। যেখানে জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ পুলিশের পদস্থ কর্তারা এবং এই নাগরিক সভায় উপস্থিত ছিলেন হাজারেরও বেশি মানুষ। মোড়ল, মাতব্বর, গ্রামের সর্দার, মসজিদের ইমাম, স্কুল শিক্ষক সহ সমাজের বিভিন্ন অংশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ হাজির হয়েছিলেন। তারা বলেন
খুব সহজে বেশি পয়সা উপার্জনের আশায় এলাকার যুবকেরা অনৈতিকভাবে এই কারবারে যুক্ত হয়ে পড়ছে এদের দেখাদেখি অন্য যুবকেরা এই কারবারের সাথে জড়িয়ে পড়ছে এর ফলে সমাজের ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যারা এখনও সংশোধন হবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়ে আইনের আওতায় আনা হবে।
ইতিমধ্যে মালদহ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে মাদক পাচারকারী বিরুদ্ধে। কাঁচামাল সহ ব্রাউন সুগার তৈরির কারখানা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
বিগত দুই মাসে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক কারবারের যুক্ত বিহার, ঝাড়খণ্ড, মণিপুর–সহ মালদা প্রায় ৯০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। একাধিক অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত ৪০ কেজি ব্রাউন সুগার। যার বাজার মূল্য বেশ কয়েক কোটি টাকা। একদিকে ধারাবাহিক অভিযান, অন্যদিকে সমাজকে মাদক বিরোধী অভিযানে যুক্ত করার উদ্যোগ নিল জেলা পুলিশ।
এদিনের সভা থেকেই মাদকমুক্ত কালিয়াচক গড়ার শপথ নেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মোজমপুর পঞ্চায়েতের কোনও গ্রামে আর মাদক তৈরি বা কারবার করতে দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে নারায়ণপুর গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘পুলিশের এই উদ্যোগে আমরা সামিল হতে পেরে আমরা খুবই খুশি। সকলেই একমত, ব্রাউন সুগারের কারবার কোনও ভাবে চলতে দেওয়া যাবে না। যে বাড়িতে বা কোনও গোপন ডেরায় এই কারবার চালাবে, তাঁকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর পরিবারকে গ্রাম ছাড়া করা হবে।’





