Newsbazar24 Desk: মালদহ জেলায় বেকারত্বকে হাতিয়ার করে নজীর বিহীন প্রতারণা চক্রের সন্ধান পাওয়া গেল। কালিয়াচক থানার সুজাপুরের ‘মালদা মিশন হাসপাতাল’ নামক একটি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। কয়েক হাজার বেকার যুবক-যুবতী প্রতারিত হয়েছেন বলে দাবি অভিযোগকারীদের। অভিযুক্ত নার্সিংহোমের মালিক নাজিউল শেখ ও তাঁর বোন।
কি উপায়ে প্রতারণার জাল
জানা গেছে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার শুরু করে অভিযুক্ত নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, একটি ৪০০ বেডের বিশাল হাসপাতাল খুলতে চলেছে, যেখানে নার্সিং, গ্রুপ ডি, টেকনিশিয়ান এবং সিকিউরিটি গার্ড-সহ বিভিন্ন পদে ৪৫০০ লোক নিয়োগ করা হবে। স্বাভাবিকভাবেই বিজ্ঞাপনে প্রলুদ্ধ হয়ে শুধু মালদহ নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গ এমনকি ভিন রাজ্য থেকেও কয়েক হাজার আবেদন জমা পড়ে।
নিয়োগের আশ্বাসে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
দরখাস্তকারীদের ইন্টারভিউয়ে ডেকে লোভনীয় বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। শর্ত হিসেবে ইউনিফর্ম ও ট্রেনিংয়ের জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো বলে অভিযোগ, এছাড়াও দ্রুত চাকরিতে যোগ দেওয়ার নাম করে কারও কারও কাছ থেকে ২০ হাজার টাকাও নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৫০০ প্রার্থীর কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা সংগ্রহ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের ভূমিকা ও মালিকপক্ষের হুমকি
টাকা দেওয়ার পর দীর্ঘ কয়েকমাস কেটে গেলেও মেলেনি নিয়োগপত্র। এভাবে বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর চাকরিপ্রার্থীরা যখন দলবদ্ধভাবে নার্সিংহোমে টাকা ফেরত চাইতে যান, তখন তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। প্রতারিতদের আরও দাবি, কালিয়াচক থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে কয়েক হাজার যুবক-যুবতী মালদহের জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসতেই গোটা জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও এমনকি শাসক ঘনিষ্ঠের যোগ সাজেষের ব্যাপারটিও প্রকাশ্যে এসেছে বলে স্থানীয়দের একাংশে অভিযোগ।
এখন দেখা যাক প্রশাসন প্রতারিতদের টাকা ফেরত দেবার ব্যাপারে কি ভূমিকা নেয়?





